Main Menu

গোলাপগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার নামে গেইটের নামকরণ না করায় প্রতিবাদ সভা, ৭দিনের আল্টিমেটাম

গোলাপগঞ্জ সংবাদদাতা: সিলেটের গোলাপগঞ্জের সদর ইউনিয়নের রানাপিংয়ের কারখানা বাজার সম্মূখভাগে সরকারী রাস্তার ওপর স্থাপন করা গেইটে ‘মুক্তিযোদ্ধা গেইট’ নামকরণ না করায় এলাকায় দু’পক্ষ রয়েছেন মুখেমুখি অবস্থানে। মুক্তিযোদ্ধার নামে গেইটের নামকরণের দাবিতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একের পর এক প্রতিবাদ সভা করছেন।

বুধবার রাতে বিশাল প্রতিবাদ সভা করেছেন তারা। রানাপিংয়ের কারখানা বাজারে এই সভা অনুষ্টিত হয়। সভায় আগামী ৭দিনের মধ্যে গেইটের নাম স্বাগতম ছত্রিশ’ পরিবর্তন করে মুক্তিযোদ্ধা গেইট নামকরণের আল্টিমেটাম দেয়া হয়।

জানা যায়, বুধবার রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের রানাপিংয়ের কারখানা বাজারে বিশাল প্রতিবাদ সভা করে শেরপুর গ্রামবাসী। এতে সভাপতিত্ব করেন এলাকার বিশিষ্ট মুরব্বি সালাহ উদ্দিন পাখি মিয়া। জামাল মিয়ার পরিচালনায় এতে বক্তব্য রাখেন স্বাগত বক্তব্য রাখেন আনোয়ার হোসেন খান, জামাল মিয়া, কবির আহমদ, আব্দুল মতিন, মধু মিয়া, ছফর উদ্দিন নেনা মিয়া, আফাছ উদ্দিন, মাওলানা আলী আহমদ, আলী আকবর সাহেব, মানিক মিয়া, নূর আলম, অলিউর রহমান।

সভায় বক্তারা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে কারখানা বাজারে সম্মুখভাগে মুক্তিযোদ্ধা গেইট নামের পরিবর্তে ‘স্বাগগম ছত্রিশ’ করা হয়েছে। এতে এলাকাবাসী চরম ক্ষুব্ধ ও বিক্ষুব্ধ। এলাকাবাসী প্রশাসনকে আগামী ৭দিনের মধ্যে গেইটের নাম মুক্তিযোদ্ধা গেইট নামকরণের আল্টিমেটাম দিয়েছেন। অন্যথায় পরবর্তি কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে বলে জানান তারা। সভায় এলাকার কয়েক’শ লোক উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের রানাপিংয়ের কারখানা বাজারের সম্মুখভাগে সড়ক ও জনপদের রাস্তার ওপর গেইট নির্মাণের উদ্যোগ নেয় এলাকার একটি পক্ষ। এর প্রেক্ষিতে এলাকার ওপর আরেকটি পক্ষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলটন চন্দ্র পালের কাছে ২০২৪ সালের ৪ নভেম্ভর একটি আবেদন দেন। আবেদন পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের কাছে তা প্রেরণ করেন। পরে ইউনিয়নের মাসিক সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয় গেইটের নাম হবে ‘মুক্তিযোদ্ধা গেইট’। পরে গেইট নির্মাণে ইউনিয়ন পরিষদের মাসিক সভার সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে প্রতিপক্ষ গেইটের নাম দেয় ‘স্বাগতম ছত্রিশ’। এসময় প্রতিপক্ষ লোকজন বাধা দিলে দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। আবেদনে বলা হয়, কয়েকটি বাড়ী নিয়ে ছত্রিশ গ্রাম গঠিত। অথচ শেরপুরসহ কয়েকটি গ্রামকে উপেক্ষা করা হয়েছে। এই গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে শেরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কারখানাবাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, শেরপুর মহিলা মাদ্রাসা, শেরপুর শাহী ঈদগাহ এছাড়াও শেরপুর গ্রামে রয়েছে ৩টি জামে মসজিদ। আবেদনের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এদিকে ইউনিয়ন পরিষদের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে পার্শবর্তী কয়েকটি গ্রাম বাদ দিয়ে একটি গ্রামের নামে গেইট নির্মাণের বাধা দেন এলাকাবাসী। এতে ২৯ জানুয়ারী দুইপক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে আহত হন এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি। এনিয়ে বর্তমানে দু’পক্ষের লেকজনদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম উত্তেজনা। বর্তমানে উভয় পক্ষ রয়েছেন মুখোমুখি অবস্থানে। ফলে যেকোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছেন এলাকাবাসী।

Share





Related News

Comments are Closed