Main Menu

প্রবাসীর বাড়ির দখল ছাড়তে যুবলীগ নেতার দাবি অর্ধকোটি টাকা

Manual6 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সপরিবারে যুক্তরাজ্যে থাকায় আপন ভাতিজাকে বাড়িতে থাকতে দিয়েছিলেন। এখন সেই ভাতিজাই অর্ধকোটি টাকা চাঁদা না দিলে বাড়ি না ছাড়ার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সিলেট মহানগরীর উপশহর সৈদানিবাগ এলাকার উন্মেষ ২০/২১নং বাসার মরহুম সৈয়দ আব্দুর রহিমের ছেলে সৈয়দ হাবিবুর রহমান শফিক (৭৫)।

Manual6 Ad Code

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

Manual6 Ad Code

তিনি জানান, পাঁচ বছর আগে তাদের পারিবারিক সম্পদ ভাগ বাটোয়ারা হয়। তখন তার ভাতিজা মরহুম সৈয়দ মুহিবুর রহমান শরিফের ছেলে সৈয়দ নাহিদুর রহমান সাব্বিরের অনুরোধে তাকে বাসায় থাকতে দিয়েছিলেন। সে চিহ্নিত যুবলীগ ক্যাডার। তিনি লন্ডন ফিরে যাওয়ার আগে আদায়কৃত ভাড়া ও সাব্বিরের ভাড়ার টাকা ব্যাংকে তার একাউন্টে জমা দেয়ার কথা বলে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। প্রায় পাঁচ বছর পর গত জানুয়ারিতে দেশে ফিরে জানতে পারেন ঘরভাড়ার টাকাও তিনি আত্মসাত করেছেন। সাব্বির বর্তমানে ১৩/১৪টি সন্ত্রাসী মামলার পলাতক আসামি। তিনি বাসায় থাকতে পারেন না তবে দখল রাখতে তার বোন ও বোনের স্বামী রাসুকে বাসায় তুলে নিজে আত্মগোপন করেন। তার সাথে যোগাযোগ করে জানুয়ারির শেষের দিকে তিনি ভাড়াটিয়াদের বাসা ছাড়ার নোটিশ এবং সাব্বিরসহ তার বোনের পরিবারকে বাসা ছাড়ার কথা বললে তিনি নানা টালবাহানা শুরু করেন। এ নিয়ে নিজের আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে বারবার সালিশ বসিয়েও কোনো লাভ হয়নি। উল্টো তিনি শফিকের কাছে ৫৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে সাব্বির জানায় ৫০/৬০ লাখ টাকার মধ্যে তাকে একটি ঘর তৈরি করে দিতে হবে। তিনি সম্মত না হয়ে বরং তার প্রবাসী আরেক ভাই মিলে কেবলমাত্র আপন ভাতিজা হিসাবে তাকে ৩০ লাখ টাকা দেয়ার প্রস্তাব করেন। কিন্তু সাব্বির তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং বাসার দখল ছাড়বেন না বলে জানিয়ে দেন।

শফিক জানান, তিনি নিজের বাড়িঘর ছেড়ে আত্মীয়-স্বজনের বাসায় দিন কাটাচ্ছেন। প্রায়ই অচেনা সন্দেহজনক লোকজন তাকে অনুসরণ করছে। সাব্বির যেহেতু একজন সন্ত্রাসী তাই তিনি যখন তখন সে তার বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

Manual3 Ad Code

তিনি জানান, সাব্বিরের পিতাসহ তার অন্যান্য ভাই-বোনদের দায়িত্ব খুব অল্প বয়সেই তার কাঁধে চেপেছিল। সারাজীবন নিজের কষ্টার্জিত টাকায় তাদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। প্রায় সাড়ে ১৪ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে তিনি মধুবন সুপার মার্কেটে একটি দোকান করেছিলেন। সেই দোকানের আয় দিয়ে সাব্বিরের পিতা বিভিন্ন স্থানে একাধিক প্লট বা ভূমি ক্রয় করলেও তাকে কানাকড়িও দেয়া হয়নি। পাঁচ বছর আগে বাড়িতে ৬টি পরিবার ভাড়া থাকার ব্যবস্থা করতে ৬ লাখ টাকা খরচ করে ঘর তৈরি করে দিলেও এখনো তিনি এক পয়সাও পাননি। সব টাকা সাব্বির আত্মসাত করেছে। তিনি তার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হওয়ায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেছেন।

সৈয়দ হাবিবুর রহমান শফিক অনতিবিলম্বে সাব্বির ও তার বোনের পরিবারের সদস্যদের প্রতি তার বাড়ির দখল ছাড়ার আহবান জানান। পাশাপাশি বাড়িটি দখলমুক্ত করতে সিলেটের পুলিশ প্রশাসন, বিশেষ করে সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

এ ব্যাপারে সৈয়দ নাহিদুর রহমান সাব্বিরের বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। আর তার বোনের স্বামী রাসু বলেন, আমার ঘরবাড়ি থাকতে কেন পরিবার নিয়ে শশুড়বাড়ি থাকবো? এটা মোটেও সত্য নয়। তবে শুনেছি এই বাড়ি নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা মোকদ্দমা চলছে। তাদের পারিবারিক বিরোধ চলছে বহুদিন ধরে।

Manual3 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code