Main Menu

ইংল্যান্ডে উচ্চশিক্ষা: আবেদন, পড়াশোনার খরচ ও স্কলারশিপ পাওয়ার উপায়

Manual3 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: একটি দেশের দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে দেশটির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সভ্যতা বিনির্মাণ ও সংস্কৃতির সংস্কারের প্রতিটি স্তরে যোগ্য লোকের উপস্থিতি দেশের সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করে। আর এর মধ্যে সুপ্ত থাকে সেখানে বসবাসরত মানুষের মানসম্পন্ন জীবন ধারণের বীজ। এই বিষয়গুলো বিচারে ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় দেশটি হলো যুক্তরাজ্যের অন্যতম প্রধান দেশ ইংল্যান্ড। বিশ্ববিখ্যাত সব বিদ্যাপীঠের আশ্রয়স্থল হওয়ায় উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রতিটি শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থাকে দেশটিকে ঘিরে ক্যারিয়ার গঠন করার। চলুন, ইংল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবেদন পদ্ধতি, অধ্যয়ন খরচ ও স্কলারশিপসহ উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন সুবিধাগুলো জেনে নেওয়া যাক।

কেন ইংল্যান্ড উচ্চশিক্ষার সেরা গন্তব্য
ক্যারিয়ার গঠনে ইংল্যান্ড শিক্ষার্থীদের সেরা পছন্দ হওয়ার নেপথ্যের মূলে রয়েছে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। কিউএস ওয়ার্ল্ড র‍্যাংকিংয়ে দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষ ১০-এর মধ্যে রয়েছে চারটি ইংলিশ বিশ্ববিদ্যালয়। তার মধ্যে দ্বিতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নাম ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজ। তারপরেই রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড। ৬ ও ৯ নাম্বারে রয়েছে যথাক্রমে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন ও ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন।

তাছাড়া যুক্তরাজ্যের দেশগুলো আন্তর্জাতিক ছাত্রছাত্রীদের রীতিমতো স্বর্গরাজ্য। তার মধ্যে শিক্ষার্থীর সেরা শহর বিবেচনায় কিউএস র‍্যাংকিং ২০২৪-এর শীর্ষতম স্থানটি দখল করে আছে লন্ডন।

যুক্তরাজ্যের অন্যান্য দেশগুলোর মতো ইংল্যান্ডের জীবন ধারণের মানও উন্নত। বিশেষ করে আকর্ষণীয় স্কলারশিপগুলো অর্জনের মাধ্যমে পড়াশোনার পাশাপাশি সেই জীবন ধারণের সান্নিধ্যে যেতে পারে বিদেশি শিক্ষার্থীরা।

ইংল্যান্ডে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদনের পূর্বশর্ত
একমাত্র অন্য প্রয়োজন হলো আইইএলটিএস পরীক্ষায় ৫ দশমিক ৫ থেকে ৬ স্কোর।

Manual8 Ad Code

আন্ডারগ্রেড প্রোগ্রামগুলোতে ভর্তির জন্য ন্যূনতম ১৩ বছরের একাডেমিক শিক্ষাবর্ষ অতিবাহিত করতে হবে। এখানে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের যোগ্যতা যুক্তরাজ্যের উচ্চ মাধ্যমিক বা ন্যাশনাল ডিপ্লোমায় পরিচালিত ‘এ’ স্তরের পরীক্ষার সমতুল্য হওয়া আবশ্যক। আর স্নাতকোত্তর ডিগ্রিতে আবেদনের প্রথম শর্ত হলো স্নাতক পাশ করা।

শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির জন্য উচ্চ মাধ্যমিকে প্রাপ্ত জিপিএ ৮০ এবং ৯৫ শতাংশের মধ্যে থাকা প্রয়োজন। সেখানে ফলাফল ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ হলে আবেদন করা যাবে মাঝারি-স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আছে যেগুলো সর্বশেষ অর্জিত ডিগ্রির মিডিয়াম অব ইন্স্ট্রাকশন (এমওআই) ইংরেজি দেখেই আবেদন গ্রহণ করে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভর্তির অন্যতম প্রধান যোগ্যতা থাকে ভালো আইইএলটিএস স্কোর। উপরন্তু, স্কলারশিপের প্রদানে একাডেমিক যোগ্যতার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষার দক্ষতাকে মূল্যায়ন করা হয়।

স্নাতক অধ্যয়নের জন্য আইইএলটিএস স্কোর ৬ থেকে ৬ দশমিক ৫ থাকতে হয়। প্রি-মাস্টার প্রোগ্রামের জন্য প্রয়োজন হবে ৫ দশমিক ৫ থেকে ৬ স্কোর। সরাসরি স্নাতকোত্তরে আবেদন করতে লাগবে ৬ থেকে ৭ ব্যান্ড স্কোর। অবশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর নির্ভর করে তা ভিন্ন হতে পারে। এমবিএতে আবেদনের যোগ্যতায় অতিরিক্ত দেখাতে হবে ২ থেকে ৩ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা। এই ক্ষেত্রে আইইএলটিএস ফলাফল ৬ দশমিক ৫ থেকে ৭-এর মধ্যে থাকা জরুরি। আইইএলটিএস ব্যান্ড স্কোরের এই শর্তটি পিএইচডির জন্যও প্রযোজ্য। তবে অবশ্যই স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে।

স্নাতকোত্তরের কোনো কোনো কোর্সে আরও কিছু প্রবেশিকা পরীক্ষার স্কোরের প্রয়োজন হয়। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে চাহিদা সম্পন্ন হচ্ছে জিআরই ও জিম্যাট।

Manual3 Ad Code

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ইংলিশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো-
· ইউনিভার্সিটি অব ক্যামব্রিজ
· ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড
· ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন
· ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন
· ইউনিভার্সিটি অব এডিনবার্গ
· ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টার
· কিংস কলেজ লন্ডন
· লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স অ্যান্ড পলিটিকাল সায়েন্স
· ইউনিভার্সিটি অব ব্রিস্টল
· ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারউইক

অধ্যয়নের জন্য ইংল্যান্ডগামী ছাত্রছাত্রীরা যে বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি বাছাই করে, সেগুলো হলো-
· আইন
· ফিজিওথেরাপি
· অ্যাকচুয়ারিয়াল সায়েন্স
· ক্রীড়া ব্যবস্থাপনা
· মনোবিজ্ঞান
· ডেটা সায়েন্স
· মেডিসিন ও সার্জারি
· কম্পিউটার সায়েন্স
· বিজনেস স্টাডিজ
· বিজনেস অ্যানালাইটিক্স

ইংল্যান্ডের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আবেদনের উপায়
সাধারণত সামার, অটাম, ও স্প্রিং- এই তিনটি সময়ে ইংল্যান্ডের কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভর্তির কার্যক্রম শুরু করে। এখানে সামারের সময়কালটি মে থেকে জুন মাস পর্যন্ত। সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর অব্দি থাকে অটাম এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে চলে স্প্রিং অ্যাডমিশন। তবে ভর্তির মৌসুম নির্বিশেষে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার ন্যূনতম ৯ থেকে ১০ মাস আগে থেকে আবেদন শুরু করা উচিত।

ইংল্যান্ডসহ গোটা ইউকেতে (ইউনাইটেড কিংডম) একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্নাতকের আবেদনগুলো নেওয়া হয়। সাইটটির নাম ইউসিএএস (ইউনিভার্সিটিস অ্যান্ড কলেজেস অ্যাডমিশন সার্ভিস), যার ওয়েব ঠিকানা: https://www.ucas.com/undergraduate/applying-to-university। এখানে ছাত্রছাত্রীরা নিবন্ধনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নথিপত্র আপলোড করে আবেদন সম্পন্ন করে থাকে।

Manual8 Ad Code

অপরদিকে, স্নাতকোত্তর কোর্সগুলোতে আলাদাভাবে প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইটে যেয়ে আবেদন করতে হয়।

ভর্তির আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
· অনলাইনে পূরণ করা আবেদনপত্র
· উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণী বা সমমানে ডিপ্লোমার সনদ ও একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট
· মিডিয়াম অব ইন্স্ট্রাকশন (এমওআই) সার্টিফিকেট (নির্দিষ্ট কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য)
· বৈধ পাসপোর্ট
· জাতীয় পরিচয়পত্র
· ইংরেজি দক্ষতার শংসাপত্র (আইইএলটিএস স্কোর)
· পার্সনাল স্টেটমেন্ট
· রেফারেন্স লেটার
· সিভি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

স্নাতকোত্তরের জন্য অতিরিক্ত যুক্ত করতে হবে
· স্নাতক ডিগ্রির প্রশংসাপত্র
· অভিজ্ঞতার প্রশংসাপত্র (এমবিএর জন্য)
· অন্যান্য প্রবেশিকা পরীক্ষার স্কোর যেমন জিআরই, জিম্যাট।

পিএইচডি ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নথি
· স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রির প্রশংসাপত্র
· গবেষণা প্রস্তাব

অফার লেটার গ্রহণ
বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ এবং প্রার্থীদের মধ্যকার সাধারণ যোগাযোগের মাধ্যম হচ্ছে ই-মেইল। শিক্ষার্থীর প্রদানকৃত কাগজপত্র যাচাই করে তার ই-মেইল ঠিকানায় দরকারি নির্দেশনা পাঠানো হয়। এই ই-মেইলগুলোর মাধ্যমে সাধারণত অতিরিক্ত প্রয়োজনীয় কাগজ, প্রবেশিকা পরীক্ষা বা সাক্ষাৎকারের কথা জানানো হয়।

সবদিক মূল্যায়নের পর ভর্তির সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হলে শিক্ষার্থীকে অফার লেটার পাঠানো হয়। ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রে এটি কনফার্মেশন অব একসেপ্টেন্স ফর স্টাডিজ (সিএএস) নামে পরিচিত। এই লেটারটিই ইংল্যান্ডের স্টাডি ভিসার আবেদনের সর্বপ্রথম শর্ত। সিএএস পাওয়ার ৬ মাসের মধ্যে ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়।

ইংল্যান্ডে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদী উচ্চশিক্ষার জন্য ইংল্যান্ড যেতে হলে দেশটির স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করতে হয়। এটি পূর্বে টায়ার ৪ স্টুডেন্ট ভিসা ছিল। কমপক্ষে ১৬ বা তার বেশি বয়সী ছাত্রছাত্রীরা এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারে।

ভিসার মেয়াদ নির্ভর করে ভর্তি হওয়া কোর্সের সময়কালের ওপর। স্নাতক বা স্নাতকোত্তরের মতো ডিগ্রি পর্যায়গুলোতে অধ্যয়নের জন্য সাধারণত ৫ বছর পর্যন্ত ইংল্যান্ডে থাকার অনুমতি দেয়া হয়।

ভিসার আবেদনের জন্য https://www.gov.uk/student-visa/apply-online -এই লিংকে যেয়ে অনলাইন আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। এ সময় ভিসার জন্য দরকারি যাবতীয় কাগজপত্র আপলোডের প্রয়োজন হবে। আবেদন সাবমিটের পর সম্পূর্ণ পূরণকৃত অনলাইন ফর্মটি ডাউনলোড করে তার একটা প্রিন্ট নিতে হবে।

ভিসার আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
· অনলাইনে পূরণকৃত আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি
· বয়স ১৮ বছরের কম হলে, পিতামাতার বা অভিভাবকের সম্মতির প্রমাণপত্র
· অফার লেটার – সিএএস এবং তার সাথে একটি ভিসা লেটার। লেটারটি আবেদনের পূর্বে বিগত সর্বোচ্চ ছয় মাসের মধ্যে ইস্যূকৃত হতে হবে।

· বৈধ পাসপোর্ট – যেখানে ইউকে ভিসা সিলের জন্য কমপক্ষে ১টি পৃষ্ঠা অবশিষ্ট থাকতে হবে।

· তহবিলের প্রমাণ- ন্যূনতম প্রথম বছরের অধ্যয়নের জন্য কোর্স ফি এবং সর্বাধিক ৯ মাস পর্যন্ত জীবনযাত্রার খরচ সঙ্কুলান থাকবে। এর সুস্পষ্ট পরিমাণটি নির্ভর করে প্রার্থী লন্ডনে নাকি তার বাইরে থেকে পড়াশোনা করবেন- তার ওপর। এছাড়াও তহবিলটি কমপক্ষে ২৮ দিন ধরে নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে অপরিবর্তিতভাবে থাকতে হবে।

অধ্যয়ন ফির বাইরে ৯ মাস পর্যন্ত জীবনযাত্রার খরচ বাবদ যে তহবিলটি দেখাতে হবে তা হলো-

* লন্ডনের বাইরের শহরের ক্ষেত্রে প্রতি মাসে পাউন্ড ১ হাজার ৩৩৪ বা ২ লাখ ৯ হাজার ৩০ টাকা (১ পাউন্ড = ১৫৬ দশমিক ৬৯ বাংলাদেশি টাকা)। এটি নয় মাসে দাড়ায় মোট ১২ হাজার ৬ পাউন্ড কিংবা ১৮ লাখ ৮১ হাজার ২৭২ টাকা।

* লন্ডনে থাকলে মাসে ১ হাজার ২৩ (১ লাখ ৬০ হাজার ২৯৮ টাকা) করে ৯ মাসে মোট ৯ হাজার ২০৭ পাউন্ড (১৪ লাখ ৪২ হাজার ৬৮৫ টাকা)।

· স্টুডেন্ট লোন বা স্পন্সরশিপ থাকলে লোন বা স্পন্সরশিপ প্রদানকৃত কোম্পানির প্রমাণ
· প্রার্থীর যক্ষ্মা টেস্টের ফলাফল
· ভিসা ফি প্রদান নিশ্চিতকরণ রশিদ
· বিগত শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র ও মূল মার্ক শীট
· ইংরেজি ভাষার দক্ষতা প্রমাণ (আইইএলটিএস স্কোর)
· প্রবেশিকা পরীক্ষার (জিম্যাট, জিআরই) স্কোর; (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

ভিসা আবেদন জমা ও বায়োমেট্রিক নিবন্ধন
ইংল্যান্ড দূতাবাসে সশরীরে আবেদন জমা দেয়ার আগে অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। এই তারিখ নেওয়ার জন্য https://visa.vfsglobal.com/bgd/en/gbr/your-appointment- এই লিংকে যেয়ে প্রার্থীর নিজস্ব ই-মেইল ঠিকানা দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। এই ই-মেইলেই পাঠানো হবে সাক্ষাৎকার গ্রহণের তারিখ।

দূতাবাসের ঠিকানা: ভিএফএস বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড, নাফি টাওয়ার, ৫৩, গুলশান এভিনিউ, গুলশান-১, ৭ম তলা, ঢাকা-১২১২।

নির্ধারিত তারিখে উপরের ঠিকানায় ভিসার আবেদনের প্রতিটি নথি মূল কপিসহ উপস্থিত হতে হবে। ভিসা কেন্দ্রে সাক্ষাৎকারসহ প্রার্থীর ছবি এবং দশ আঙুলের ছাপ নেওয়া হবে। সবশেষে ভিসা ফি গ্রহণপূর্বক একটি রশিদ দেওয়া হবে। ভিসাযুক্ত পাসপোর্ট নিতে আসার সময় এই রশিদটি সঙ্গে নিয়ে আসতে হবে।

ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সময় এবং ভিসা প্রাপ্তি
ইংল্যান্ডের স্টাডি ভিসা প্রক্রিয়া করার সাধারণ সময় হচ্ছে কমপক্ষে ৩ কার্যসপ্তাহ। তবে কাগজপত্রে কোনো সমস্যা থাকলে আরও বেশি সময় লাগতে পারে।

অবশ্য অতিরিক্ত ফি দিয়ে ভিসা প্রক্রিয়াকরণের এই সময়টাকে আরও কমিয়ে আনা যেতে পারে। দ্রুত ভিসা প্রাপ্তির পরিষেবাটি প্রায়োরিটি এবং সুপার প্রায়োরিটি- এই দুই ভাগে বিভিক্ত। প্রায়োরিটি ভিসা বায়োমেট্রিক তথ্য জমা দেওয়ার পর থেকে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রস্তুত হয়ে যায়। আর সুপার প্রায়োরিটি ভিসা দেয়া হয় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে।

ভিসা প্রক্রিয়াকরণের আনুষঙ্গিক খরচ
স্টুডেন্ট ভিসা ফি ৪৯০ পাউন্ড, ঢাকাস্থ ভিএফএস (ভিসা ফ্যাসিলিটেশন সার্ভিসেস) অনুসারে যা ৭৯ হাজার ২৬৫ টাকা। তবে প্রয়োরিটি ভিসার ফি ৫০০ পাউন্ড বা ৭৮ হাজার ৩৪৭ টাকা, যেখানে সুপার প্রয়োরিটি ভিসার জন্য দিতে হবে ৮০০ পাউন্ড (১ লাখ ২৫ হাজার ৩৫৬ টাকা)।

আবেদনের অংশ হিসেবে এই খরচের সাথে অতিরিক্ত স্বাস্থ্যসেবা সারচার্জ দিতে হয়। এর মাধ্যমে প্রার্থী ইংল্যান্ডের জাতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা লাভ করতে পারে। এই চার্জ নির্ভর করে সাধারণত ভিসার মেয়াদের ওপর। https://www.immigration-health-surcharge.service.gov.uk/checker/type – লিংক থেকে এই সারচার্জ বাবদ ঠিক কত খরচ হবে তা জানা যাবে।

ইংল্যান্ডে পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার সম্ভাব্য খরচ
সাধারণত হিউম্যানিটিস, আর্ট্স, এবং জেনারেল এডুকেশন কোর্সগুলো বেশ স্বল্প খরচের হয়। অন্যদিকে মেডিসিন এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো বিষয়গুলো যথেষ্ট ব্যয়বহুল। স্নাতক অপেক্ষা স্নাতকোত্তর পর্যায়ের অধ্যয়ন ফি সাধারণত বেশি হয়ে থাকে, যা বিষয়ভেদে ভিন্ন হয়। অন্যান্য দেশের মতৈাত এমবিএ প্রোগ্রামগুলোর খরচ সর্বাধিক।

স্নাতক ডিগ্রির বার্ষিক খরচ ১০ থেকে ২০ হাজার পাউন্ড, যা প্রায় ১৫ লাক ৬৬ হাজার ৯৪৩ থেকে ৩১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৮৬ টাকার সমতূল্য। স্নাতকোত্তরে গড়পড়তায় খরচ হয় প্রতি বছর ১২ থেকে ২২ হাজার পাউন্ড অথবা ১৮ লাখ ৮০ হাজার ৩৩২ থেকে ৩৪ লাখ ৪৭ হাজার ২৭৫ টাকা। বার্ষিক ১৫ থেকে ২৪ হাজার পাউন্ড (২৩ লাখ ৫০ হাজার ৪১৫ থেকে ৩৭ লাখ ৬০ হাজার ৬৬৩ টাকা) বাজেট রাখতে হবে ডক্টরেট ডিগ্রির জন্য। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পিএইচডি প্রোগ্রামগুলোর জন্য সম্পূর্ণ অর্থায়নের ব্যবস্থা থাকে।

জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে লন্ডনের বাইরে থাকা হলে বাজেট অনেকটাই সাশ্রয়ী হয়ে আসে। শেয়ার করা রুমে থাকার ক্ষেত্রে গড়ে আবাসন খরচ হতে পারে মাসিক ৫৫৪ পাউন্ড কিংবা ৮৬ হাজার ৮০৯ টাকা। মাসে সম্ভাব্য ইউটিলিটি বিল হতে পারে ৪০ থেকে ৫০ পাউন্ড (৬ হাজার ২৬৮ থেকে ৭ হাজার ৮৩৫ টাকা)। খাদ্য ও গৃহস্থালির জন্য রাখতে হবে ১৬০ থেকে ২০০ পাউন্ড (২৫ হাজার ০৭১ থেকে ৩১ হাজার ৩৩৯ টাকা)।

মোবাইল ফোন বিল ১৫ থেকে ৫০ পাউন্ড, যা প্রায় ২ হাজার ৩৫১ থেকে ৭ হাজার ৮৩৫ টাকার সমান। স্টুডেন্ট পাস নিয়ে যাতায়াত করা হলে পরিবহনে ব্যয় হবে প্রায় ৩২ পাউন্ডের (৫ হাজার ১৪ টাকা) মতো।

Manual2 Ad Code

ইংল্যান্ডে স্কলারশিপের সুবিধা
কমনওয়েলথ স্কলারশিপ ইংল্যান্ডসহ গোটা ইউকে ও ইউরোপের একটি মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তি প্রকল্প। কমনওয়েলথভূক্ত দেশ হওয়ায় বাংলাদেশি ছাত্রছাত্রীরাও এই স্কলারশিপের সুবিধা ভোগ করতে পারে। এই প্রকল্পটি শুধুমাত্র স্নাতকোত্তর বা ডক্টরেট ডিগ্রির জন্য পূর্ণ বা আংশিক অর্থায়ন দিয়ে থাকে। এর আওতায় থাকে টিউশন ফি, বিমান ভাড়া, এবং জীবনযাত্রার ভাতা।

ব্রিটিশ কাউন্সিল গ্রেট স্কলারশিপ স্নাতক বা স্নাতকোত্তর অধ্যয়নরতদের জন্য প্রদান করা হয়। এই বৃত্তির মূল্যমান ৫ থেকে ২৫ হাজার পাউন্ড, যা প্রায় ৭ লাখ ৮৩ হাজার ৪৭২ থেকে ৩৯ লাখ ১৭ হাজার ৩৫৮ টাকার সমান। এর মধ্যে অনায়াসেই পড়াশোনার অর্থ সঙ্কুলান হয়ে যায়।

চেভেনিং স্কলারশিপ সম্পূর্ণ অর্থায়ন করা কার্যক্রমগুলোর মধ্যে অন্যতম। এর মধ্যে টিউশন ফি, জীবনযাত্রার খরচ এবং প্লেন ফেয়ার পাওয়া যায়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা এই স্কলারশিপ নিয়ে ইংল্যান্ডের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সর্বোচ্চ এক বছরকালীন স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করতে পারে।

পড়াশোনার পাশাপাশি খণ্ডকালীন চাকরির সুযোগ
টায়ার-৪ স্টুডেন্ট ভিসার মধ্যে চাকরি-সংক্রান্ত সুবিধাগুলো হচ্ছে-
· স্টুডেন্ট ইউনিয়নের সাবেটিকাল অফিসার হিসেবে কাজের সুযোগ
· পেশাদার ক্রীড়াবিদ বা ক্রীড়া প্রশিক্ষক ব্যতীত যে কোনো খণ্ডকালীন চাকরির সুযোগ

সেমিস্টার চলাকালে শিক্ষার্থীরা এই কাজগুলোর জন্য সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত কর্মঘণ্টা পেয়ে থাকে। তবে ছুটির সময়ে এরকম কোনো বাধ্য-বাধকতা না থাকায় ফুল-টাইম কাজের সুযোগ থাকে।

অন-ক্যাম্পাস পার্ট-টাইম চাকরিগুলোর মধ্যে রয়েছে লাইব্রেরি সহকারী, টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট, নতুন ছাত্রদের জন্য ক্যাম্পাস গাইড ও ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর।

অন্যদিকে, অফ-ক্যাম্পাস কাজগুলো হলো গ্রাহক পরিষেবা প্রতিনিধি, বিক্রয় বিশেষজ্ঞ, রেস্তোরাঁ পরিষেবা সহকারী, এবং ডেলিভারি সহকারী।

এগুলোতে সপ্তাহে গড়ে সর্বনিম্ন ২০০ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫০০ পাউন্ড (৩১ হাজার ৩৩৮ থেকে ৭৮ হাজার ৩৪৭ টাকা) পর্যন্ত আয় হয়। এ ক্ষেত্রে আয়করের বিষয়টি খেয়াল রাখা জরুরি, কেননা ইউকেতে খণ্ডকালীন চাকরির ওপরও ট্যাক্স এবং জাতীয় বীমা ধার্য হয়।

মাসে গড়ে ১ হাজার ৪২ পাউন্ডের (১ লাখ ৬৩ হাজার ২৭৬ টাকা) বেশি উপার্জনকারীদের আয়কর দেয়া বাধ্যতামূলক। আর সপ্তাহে ১৬৬ পাউন্ডের (২৬ হাজার ১২ টাকা) বেশি আয়কারিদের বীমা ফি পরিশোধ করতে হয়। মূলত নিয়োগকর্তারাই আয়কর এবং জাতীয় বীমা ফি কেটে মজুরি দিয়ে থাকেন।

পরিশেষে যা জানা প্রয়োজন
বিশ্বখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কাজের পর্যাপ্ত সুযোগ ও উন্নত জীবনযাত্রার নিরিখে ইংল্যান্ড উচ্চশিক্ষার শ্রেষ্ঠ গন্তব্য। তবে অধ্যয়ন ও জীবন ধারণের খরচ একটা বড় প্রতিবন্ধকতা হতে পারে।

এক্ষেত্রে আর্থিক চাপ মুক্ত থেকে নির্দ্বিধায় পড়াশোনা করার উৎকৃষ্ট উপায় হচ্ছে স্কলারশিপগুলো। দুর্দান্ত একাডেমিক ফলাফল এবং আইইএলটিএস স্কোরের দৌলতে এই সুযোগটি সমূহ সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে। তাছাড়া ঢাকাতেই ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের অবস্থানটি আরও একটি বড় সুবিধা। উপরন্তু, ভর্তির আবেদন থেকে ভিসা প্রাপ্তি পর্যন্ত পুরো কার্যক্রমে একটি সঠিক ও নিরবচ্ছিন্ন কর্মপরিকল্পনা বজায় রাখা অপরিহার্য।

সূত্র: ইউএনবি

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code