Main Menu

কানাইঘাটে সয়ফুল হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, ২জনের যাবজ্জীবন

Manual3 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ২০ বছর পর সিলেটের কানাইঘাটে সয়ফুল আলম চৌধুরী উরফে সাইফুল ইসলাম (২৮) হত্যায় দায়েরকৃত মামলায় এক জনের মৃত্যুদন্ড ও অপর দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ৩ মাসের বিনাশ্রমে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (২১ মে) দুপুরে সিলেট বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোঃ শাহাদৎ হোসেন প্রামানিক চাঞ্চল্যকর এ রায় ঘোষনা করেন।

Manual1 Ad Code

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের পেশকার (বেঞ্চ সহকারী) মো. আহম্মদ আলী।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীর হেলাল উদ্দিন উরফে হেলাল (৪৫) কানাইঘাট উপজেলার নিজ বাউরভাগ পূর্ব গ্রামের মো. সুরুজ আলীর ছেলে।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হচ্ছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী হেলাল উদ্দিনের সহোদর বিলাল উদ্দিন উরফে বেলাল (৫০) ও একই এলাকার আব্দুল মনাফ উরফে মনাইর ছেলে মছদ্দর আলী উরফে মছদ্দর (৬০)।

রায় ঘোষনার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত সকল আসামী আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

Manual8 Ad Code

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার নিজ বাউরভাগ পূর্ব গ্রামের মৃত হাজী কুতুব আলী চৌধুরীর ছেলে ডা. মো. ফজলুর রহমান চৌধুরীর সাথে পাওনা টাকা ফেরত চাওয়া এবং রাজমিস্ত্রির অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ করে না দেওয়া সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে একই বাড়ির হেলাল উদ্দিনের লোকজনের সাথে বিরোধ চলে আসছিলো। এর জের ধরে ২০০৩ সালের ৩০ আগষ্ট রাত সোয়া ১১ টার দিকে আসামী মছদ্দর, হেলাল, বেলাল ও জালালগণ ডাঃ ফজলুর রহমানের ঘরের বারান্দায় থাকা পিলার ও বেড়া ভাংচুরের আওয়াজ শুনে ফজলুর রহমানের প্রতিবেশী কামাল উদ্দিন ও মুসলেম উদ্দিনের বাড়ীর লোকজনকে ঘরের দরজা না খোলার জন্য বলতে থাকে আসামীরা।

Manual7 Ad Code

তখন ফজলুর রহমানের পরিবারের লোকজন ঘরের পিছনের দরজা দিয়ে ঘরের সামনের বারান্দায় আসেন এবং সয়ফুল আলম চৌধুরী সর্ব প্রথম ঘটনাস্থলে আসা মাত্র আসামী হেলাল সুলফি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তখন তাকে বাঁচাতে তার বড় ভাই রহমতুল্যা, মাতা জয়তুন নেছা, ভাইপো সেলিম, বড়ভাই ফজলুর রহমান চৌধুরী এগিয়ে আসলে তাদেরকেও আসামীরা দা, সুলফি ও রুল দ্বারা এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর আহত করেন। আহতদের শোর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে আসামীরা পালিয়ে যায়। এসময় স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে কানাইঘাট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে সয়ফুল আলম চৌধুরীর অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে ৩১ আগষ্ট সকালে সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন চিকিৎসকরা। ওইদিন বিকেলে সয়ফুল আলম চৌধুরী চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে মারা যান।

এ ঘটনায় পরদিন ১ সেপ্টেম্বর নিহত সয়ফুল আলমের বড় ভাই ডাঃ মো. ফজলুর রহমান চৌধুরী বাদি হয়ে ৪ জনকে আসামী করে কানাইঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (নং ১ (০১-০৯-২০০৩, দায়রা ৪/২০০৫)।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০০৪ সালের ২ মার্চ তৎকালীন কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম ৪ আসামীকে অভিযুক্ত করে আদালতে এ মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র নং-২৫) দাখিল করেন এবং ২০০৫ সালের ২০ মার্চ আসামীদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন (অভিযোগ গঠন) করে আদালত এ মামলার বিচারকার্য্য শুরু করেন। এর মধ্যে মামলা চলাকালীন সময়ে আসামী জালাল উদ্দিন মারা যান।

দীর্ঘ শুনানী ও ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মঙ্গলবার (২১ মে) আদালত আসামী হেলাল উদ্দিন উরফে হেলালকে ১৮৬০ সালের পেনাল কোড এর ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তাকে মৃত্যুদন্ড ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৩ মাসের বিনরাশ্রমে কারাদন্ড এবং একই ধারায় বিলাল উদ্দিন উরফে বেলাল, মছদ্দর আলী উরফে মছদ্দরকে একই ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তাদেরকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ৩ মাসের বিনাশ্রমে কারাদন্ড প্রদান করেন।

Manual6 Ad Code

রাষ্ট্রপক্ষে স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট মোঃ ফখরুল ইসলাম ও আসামীপক্ষে অ্যাডভোকেট আব্দুল খালিক ও অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ মামলাটি পরিচালনা করেন।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code