Main Menu

বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের জন্মদিন আজ

Manual3 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিমের জন্মদিন আজ। ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

Manual2 Ad Code

শাহ আবদুল করিম শুধুমাত্র বাউল ছিলেন না, তিনি একাধারে গণসংগীত শিল্পীও। সারাজীবন শোষিত বঞ্চিতদের পক্ষে গান লিখেছেন। তার আঘাতের লক্ষ্য ছিলো ভণ্ড রাজনীতিবিদ, শোষক, পুঁজিবাদ আর সাম্রাজ্যবাদ। ধর্মের অপব্যবহার তো অবশ্যই।

একবার এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন- ‘আমি বেহেস্ত, দোজখ চাই না। জীবিত অবস্থায় আমার ভাটি অঞ্চলের বিপন্ন মানুষের সুখ দেখতে চাই। ওই মানুষগুলোর সুখ যারা কেড়ে নিয়েছে আমার লড়াই তাদের বিরুদ্ধে। একসময় তত্ত্বের সাধনা করতাম, এখন দেখি তত্ব নয়, নিঃস্ব-বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। দেহতত্ত্ব, নিগূঢ়তত্ত্ব, আর সোনার বাংলা সোনার বাংলা করলে হবে না। লোভী, শোষক, পাপাত্মাদের আঘাত করতে হবে।’

‘আমি কুলহারা কলঙ্কিনী’, ‘গাড়ি চলে না চলে না’, ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’, ‘বন্দে মায়া লাগাইছে’, ‘বসন্ত বাতাসে’সহ অসংখ্য কালজয়ী গানের স্রষ্টা তিনি। ভাটির জল-হাওয়া-মাটির গন্ধ, কালনী-তীরবর্তী জনজীবন, মানুষের চিরায়ত সুখ-দুঃখ, দারিদ্র্য-বঞ্চনা, লোকাচার প্রভৃতি তার গানে উঠে এসেছে। দীর্ঘ সংগীত জীবনে বাউল ও আধ্যাত্মিক গানের পাশাপাশি ভাটিয়ালি গানেও দখল ছিল তার। তিনি ১৬০০-এর বেশি গান লিখেছেন ও সুর করেছেন।

Manual4 Ad Code

শাহ আবদুল করিমের লেখা ৬টি গানের বই রয়েছে। এগুলো হলো_ ‘আফতাব সঙ্গীত’, ‘গণসঙ্গীত’, ‘ধলমেলা’, ‘কালনীর ঢেউ’, ‘ভাটির চিঠি’ ও ‘কালনীর কূলে’।

Manual1 Ad Code

ছিলেন রাখাল বালক। স্কুলে কয়েকদিন মাত্র গিয়েছেন। সারাজীবন দরিদ্রতার সাথে লড়াই করেছেন। বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন প্রিয়তমা স্ত্রী সরলা। তবু গান ছেড়ে যাননি করিম। বরং এইসব প্রতিকূলতা তাকে আরও দৃঢ়চেতা করেছে। গানের জন্য তাকে ধর্মজীবীরা একঘরে করেছে, স্ত্রী সরলা আর শিষ্য আকবরের জানাজায় অংশ নেয়নি এলাকাবাসী।

একুশে পদকপ্রাপ্ত কিংবদন্তি এই লোকশিল্পীর জন্মদিন এলেই ভাটি অঞ্চলের গ্রামীণ বাউলসহ দেশের বিভিন্ন জেলার সংস্কৃতিকর্মীরা ভিড় জমান উজানধল গ্রামে।

Manual7 Ad Code

বাংলা একাডেমির উদ্যোগে তার ১০টি গান ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে। লালন শাহ, পাঞ্জু শাহ, দুদ্দু শাহ, দূরবীন শাহর দর্শনে অনুপ্রাণিত ছিলেন এই বাউল সম্রাট। সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে একুশে পদক ছাড়াও তিনি পেয়েছেন সিটিসেল-চ্যানেল আই সম্মাননা, সিলেট সিটি করপোরেশন নাগরিক সংবর্ধনা, বাংলাদেশ জাতিসংঘ সমিতি, অভিমত, শিল্পকলা একাডেমি, খান বাহাদুর এহিয়া সম্মাননাসহ বহু পদক ও সম্মাননা।

২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সিলেটে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code