অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যক্ষমতা কমেছে ৫০ শতাংশ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে ব্যবহার হয় এমন অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যক্ষমতা কমে গেছে ৫০ শতাংশ। সে কারণে অস্ত্রোপচারের রোগীদের আগের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগছে সুস্থ হতে। অপর দিকে একই কারণে একটা রোগীদের বড় অংশের অপারেশনের পর পরই মৃত্যু হচ্ছে।বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর ১২ লাখ ৭০ হাজার মৃত্যুর জন্য অ্যান্টিবায়োটিক সরাসরি দায়ী বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে। এছাড়া কেবল দক্ষিণ এশিয়ায় বছরে ৩ লাখ ৮৯ হাজার মানুষ অ্যান্টিবায়োটিকের কারণে মারা যাচ্ছে।
এ অবস্থায় শনিবার (১৮ নভেম্বর) বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে পালিত হয়েছে ‘বিশ্ব অ্যান্টিবায়োটিক সচেতনতা দিবস’।
আইইডিসিআর’র সমীক্ষায় বলা হয়েছে, অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে যাওয়ার কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে এক কোটি মানুষ মারা যাবে উপযুক্ত ওষুধ না পেয়ে। এর মধ্যে কেবল ক্যান্সারেই মারা যাবে ৮২ লাখ, কলেরায় মারা যাবে এক লাখ থেকে এক লাখ ২০ হাজার, ডায়াবেটিসে মারা যাবে ১৫ লাখ, ডায়রিয়ায় মারা যাবে এক লাখ ৪০ হাজার, হামে ভোগে মারা যাবে এক লাখ ৩০ হাজার, রোড অ্যাক্সিডেন্টের ফলে সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক না পেয়ে এক লাখ ২০ হাজার এবং টিটেনাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাবে ৬০ হাজার মানুষ।
আইইডিসিআর’র একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যাচ্ছে অর্থাৎ অকার্যকর হয়ে যাচ্ছে। এগুলো রোগীকে দেয়া হলে রোগী সুস্থ হয় না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ এই ১০ বছরে পৃথিবীতে ৪২টি অ্যান্টিবায়োটিক এলেও ১৯৯০ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে নতুন অ্যান্টিবায়োটিক এসেছে মাত্র ২১টি। ২০০০ সালের পর নতুন অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের পরিমাণ একেবারেই কমে গেছে। ২০০০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে নতুন অ্যান্টিবায়োটিক এসেছে মাত্র ছয়টি এবং অপর দিকে ২০১০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে মাত্র ৯টি নতুন অ্যান্টিবায়োটিক এসেছে।
আইইডিসিআর ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ১৪ হাজার ৬৬৯টি নমুনা পরীক্ষা করে ১০টি পরিচিত জীবাণুর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে গেছে (রেজিস্ট্যান্ট) বলে প্রতিবেদনে বলেছে। গবেষণার ফলাফলে অ্যান্টিবায়োটিক সবচেয়ে বেশি প্রতিরোধী পাওয়া গেছে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে। এই বিভাগে অ্যান্টিবায়োটিক ৬৬ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিরোধী হয়েছে। অপর দিকে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ১১ শতাংশ এবং আইসিইউ-এ ১১ শতাংশ করে প্রতিরোধী হয়ে গেছে। অন্যান্য বিভাগে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে গেছে ১২ শতাংশ।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হওয়ার কারণে হাসপাতালের আইসিইউতে ৮০ শতাংশ মৃত্যু হচ্ছে।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সাইদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে অ্যান্টিবায়োটিক নীরবে প্রতিরোধী হয়ে উঠছে। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের ফলে সাধারণ সর্দি-জ্বর, কাটাছেঁড়া থেকে বড় ইনফেকশন, সবকিছুই রূপ নিচ্ছে মারণব্যাধিতে, কাজ করছে না কোনো ওষুধ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার বলছে, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বৈশ্বিক স্বাস্থ্যের ওপর সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
Related News
ডেঙ্গুতে আরও দুইজনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১২৩২
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে একRead More
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যুRead More



Comments are Closed