ইবিতে ছাত্রী নির্যাতন, তদন্ত কমিটির মুখোমুখি ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তরা
ইবি প্রতিনিধি: “একদিন কাজ না করলে আমাদের পেট চলে না। কাজ বাদ রেখে তদন্তের স্বার্থে এ পর্যন্ত চারবার ক্যাম্পাসে এসেছি। বারবার ক্যাম্পাসে আসা যাওয়া করার ফলে আমার মেয়ে শরীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। প্রতিবার আসতে ও যেতে প্রায় আট ঘন্টা সময় লাগে। এছাড়াও প্রতিবার ৫০০/৬০০ টাকা খরচ হয়, যা আমার জন্য কষ্টকর। আমি তো আর প্রশাসনকে বলতে পারিনা যে এখানে থাকবো। যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা দিয়ে থাকার ব্যবস্থা করে তাহলে ভালো হয়।”
বুধবার (২২ ফেব্রুয়রি) দুপুরে ভুক্তভোগীর পিতা আতাউর রহমান সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
বুধবার তদন্ত কমিটির ডাকে চতুর্থবারের মতো ক্যাম্পাসে এসেছেন ভুক্তভোগী ছাত্রী। বেলা ১২টার দিকে পিতা আতাউর রহমানের সাথে ক্যাম্পাসে আসেন তিনি। এসময় তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম ও জয়শ্রী সেনের তত্ত্বাবধানে হলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হল কর্তৃপক্ষ গঠিত তদন্ত কমিটি তাকে প্রায় দুই ঘন্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে।
এদিকে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেত্রী সানজিদা চৌধুরী অন্তরা ও তার সহযোগীরা গোপনে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। এমনকি বিষয়টি গোপন রাখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও তদন্ত কমিটি। পরে বিকেল তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় তদন্ত কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. বেবা মন্ডলের কক্ষে ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তদের ঢোকানো হয়। তদন্ত কমিটি ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তদের প্রায় দুই ঘন্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এসময় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেত্রী সানজিদা চৌধুরী অন্তরা, তাবাসসুম ইসলাম, মোয়াবিয়া জাহান, হালিমা খাতুন উর্মি ও ইশরাত জাহান মীম উপস্থিত ছিলেন।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ভুক্তভোগী সাহসের সাথে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন। কিন্তু অভিযুক্তরা কথা বলতে রাজি হয়নি। এমনকি মুখ খুলেনি তদন্ত কমিটির সদস্যরাও। এসময় তদন্ত কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. দেবাশীষ শর্মা, ড. মুর্শিদ আলম ও কর্মকর্তা আলীবদ্দী খান উপস্থিত ছিলেন।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, যারা আমার সাথে অন্যায় করেছে তাদেরকে আমি চিনিয়ে দিয়েছি। অন্তরা আপু আমার হাত-পা ধরে মাফ চেয়েছে, অনেক অনুরোধ করেছে। তাদের কান্না কান্না ভাব ছিলো। কিন্তু আমি আমার অবস্থানে দৃঢ়। তবে হাত-পা ধরে মাফ চাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত অন্তরা এই বিষয়ে মুখ খুলেননি।
অভিযুক্ত তাবাসসুম বলেন, যা বলার তদন্ত কমিটিকে বলেছি। কান্নার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেখে কি মনে হয় কান্না করেছি? তবে এই বিষয়ে মুখ খুলেননি প্রশাসন কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. রেবা মন্ডল।
এ বিষয়ে হল তদন্ত কমিটির আহবায়ক ড. আহসানুল হক বলেন, তদন্তের স্বার্থে ভুক্তভোগীকে আজও ডাকা হয়। আমরা তার সাথে বিস্তারিত কথা বলেছি। অভিযুক্তদের সাথেও কথা বলবো। কতদূর অগ্রগতি হলো এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে আর কিছু বলতে চাই না।
সহকারী প্রক্টর সাজ্জাদুর রহমান টিটু বলেন, আমরা ভুক্তভোগীকে নিরাপত্তা দিয়ে আলাউদ্দিন নগর পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছি। পরে তারা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাসায় যান।
প্রসঙ্গত, দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলে গত ১১ ও ১২ই ফেব্রুয়ারি দুই দফায় ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী ফুলপরীকে রাতভর র্যাগিং, শারীরিকভাবে নির্যাতন ও বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করার অভিযোগ উঠে। ইবি শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানজিদা চৌধুরী ও তার অনুসারীরা নির্যাতন চালায় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, হল প্রভোস্ট ও ছাত্র উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
Related News
যশোরে স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: যশোরের অভয়নগরে এক স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।Read More
যশোরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: যশোরে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহতRead More



Comments are Closed