ওসমানী গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর চালুর দাবীতে স্মারকলিপি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বঙ্গবীর ওসমানী স্মৃতি সংসদের সিলেটের উদ্যোগে মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর জেনারেল এমএজি ওসমানীর স্মৃতি রক্ষার্থে ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের দয়ামীর গ্রামে প্রতিষ্ঠিত “মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানী গ্রন্থগার ও স্মৃতি জাদুঘর” এর সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ ও পাঠাগার চালুর দাবী সম্বলিত আবেদন ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শামীম আহমদ-কে প্রদান করা হয়।
মঙ্গলবার ২০ ডিসেম্বর দুপুরে আবেদনপত্র প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ আনা মিয়া, বঙ্গবীর ওসমানী স্মৃতি সংসদের সিলেটের সভাপতি সৈয়ীদ আহমদ বহলুল, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোহাম্মদ জুয়েল।
আবেদনের প্রেক্ষিতে ওসমানীনগর উপজেলা চেয়ারম্যান শামীম আহমদ সংসদের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে তাৎক্ষণিক বঙ্গবীর ওসমানী পাঠাগার ও স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা পরিষদের মহিলা সদস্য সুষমা সুলতানা রুহি। উপজেলা চেয়ারম্যান শামীম আহমদ ভিপি বঙ্গবীর এম এ জি ওসমানী পাঠাগার ও স্মৃতি জাদুঘর চালুর ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।
সিলেট জেলার ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের দয়ামীর গ্রামে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিগত ২০০৮ সালের ২২ ডিসেম্বর তৎকালনী সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল মঈন উদ্দিন আহমদ এনডিসি পিএসসি মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম.এ.জি ওসমানী গ্রন্থগার ও স্মৃতি জাদুঘর এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রায় ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে সিলেট জেলা পরিষদের ব্যবস্থাপনায় গ্রন্থগার ও স্মৃতি জাদুঘরের ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়।
২০১২ সালের ২৮ নভেম্বর তৎকালীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মরহুম সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ‘ওসমানী গ্রন্থগার ও স্মৃতি জাদুঘর’ এর উদ্বোধন করেন।
বঙ্গবীর এমএজি ওসমানীর নিজ গ্রাম ও পৈতৃক নিবাস দয়ামীরে ‘ওসমানী গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরের এক তালা বিশিষ্ট আধুনিক স্থাপনাটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পশ্চিম পাশে, দয়ামীর ডিগ্রি কলেজ, ছদরুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়, আব্দুস সোবহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দয়ামীর মাদরাসার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। ভবনটিতে বিশাল লাইব্রেরি কক্ষ, কেয়ারটেকার কক্ষ, ওয়েটিং কক্ষসহ ৫টি কক্ষ ও দর্শনার্থীদের জন্য পৃথক বাথরুম রয়েছে। উদ্বোধনের পর থেকেই জাদুঘর সম্পর্কে লোকজনের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও চালু না হওয়ার কারণে জনমনে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। তবে জাদুঘরটি একনজর দেখার জন্য দূর-দুরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এলেও নিরাশ হয়ে তাদের চলে যেতে হয়। কয়েক কোটি টাকার সম্পদ বঙ্গবীর ওসমানী গ্রন্থগার ও স্মৃতি জাদুঘর এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অত্র এলাকার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী সহ জ্ঞান পিপাসুগণ।
ইতিপূর্বে সিলেট জেলা পরিষদের প্রথম প্রশাসক মরহুম আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান এর কাছে আবেদন করলে তিনি রাস্তা, গেইট নির্মাণ সহ সৌন্দর্য বর্ধন, শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের বসার জন্য ৫টি স্টীলের বেঞ্চ ও ২টি স্টীলের দরজা বরাদ্দ দিয়েছিলেন। ফলে ভবনের আঙ্গিনাটি একটি মনোরম পরিবেশ তৈরি হয়। তৎকালীন বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে আহবায়ক করে একটি পরিচালনা কমিটি গঠনের সুপারিশ করেন তিনি। ঠিক সেই সময় ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদের কার্যক্রম শুরু হলে উক্ত কমিটি আর গঠিত হয়নি। ফলে দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ ওসমানী গ্রন্থগার ও স্মৃতি জাদুঘর অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে থাকায় ভবনের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল সহ ফ্লোর নস্ট হচ্ছে এবং গেইট ও জানালা গুলো ভেঙ্গে যাচ্ছে, গ্রন্থাগারের আসবাবপত্রগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও এই সুযোগে স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তি ভবনের সামনের স্থান দখল করে ব্যবহার করছে এবং বখাটেদের আড্ডা ও অসামাজিক কার্যকলাপের স্থানে পরিণত হয়ে পড়েছে। যার ফলে স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত সহ পরিবেশ নষ্ট হয়ে পড়েছে। এতে বঙ্গবীর জেনারেল এমএজি ওসমানীর প্রতি অসম্মান ও অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হচ্ছে সুধীজন মন করেছেন। তাই জরুরী ভিত্তিতে ওসমানী গ্রন্থগার ও স্মৃতি জাদুঘর এর কার্যক্রম চালু ও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল জনগণের মধ্যে তুলে ধরতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সহযোগিতা কামনা করে নেতৃবৃন্দ। বিজ্ঞপ্তি
Related News
গোলাপগঞ্জের কুশিয়ারা নদীতে উৎসবমুখর নৌকা বাইচ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার মীরগঞ্জে কুশিয়ারা নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবারRead More
জকিগঞ্জে মা-সন্তানকে বেঁধে ডাকাতি, স্বর্ণ ও নগদ টাকা লুট
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের জকিগঞ্জে গভীর রাতে বসতবাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে এক গৃহকর্ত্রী ওRead More



Comments are Closed