সিলেটে আড়াই ঘণ্টা আগেই শুরু বিএনপির গণসমাবেশ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ নির্ধারিত সময়ের আড়াই ঘণ্টা আগেই শুরু হয়েছে। শনিবার দুপুর ২টায় সিলেট আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বেলা সাড়ে ১১টায় কোরআন তিলাওয়াত ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সমাবেশ শুরু হয়েছে।কোরআন তেলাওয়াত করেন সিলেটে জেলা ওলামা দলের সভাপতি নুরুল হক।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মিফতাহ সিদ্দিকীর পরিচালনায় শুরু হওয়া সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহানগর মহিলা দলের সভাপতি রোকসানা বেগম শাহনাজ।
সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে শুরু হওয়া এ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রধান বক্তা হিসেবে আছেন দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিভাগীয় গণসমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান উপদেষ্টা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
এ ছাড়া সমাবেশে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডক্টর আব্দুল মঈন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিত রয়েছেন।
সমাবেশস্থলে নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিসহ বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে প্ল্যাকার্ড, ব্যানার এবং ধানের শীষ নিয়ে বড় বড় মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে থাকে নেতাকর্মীরা।
আগের ছয়টি বিভাগীয় গণসমাবেশের মতো সিলেটে বিএনপির গণসমাবেশের মঞ্চেও দলীয় চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জন্য আলাদা চেয়ার রাখা হয়েছে।
দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগে কারাগার থেকে মুক্তি পেলেও রাজনীতি থেকে দূরে রয়েছেন। তবে না থেকেও বিভিন্ন সব কার্যক্রমে থাকছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।
শনিবার (১৯ নভেম্বর) সকালে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে গিয়ে দেখা যায়, মঞ্চের মাঝখানে বড় একটি চেয়ার রাখা হয়েছে খালেদা জিয়ার জন্য।
এই চেয়ারের দুই পাশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের চেয়ার রাখা হয়েছে।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানিয়েছেন দুপুরের পর সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হবে। তখন খালেদার জিয়ার চেয়ারটি ফাঁকা থাকবে। দলীয় চেয়ারপার্সনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন পূর্বক এই চেয়ার রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সমাবেশে মোট ৫৬ জন বক্তা সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন বলে জানান তিনি।
মঞ্চে টানানো ব্যানারে রয়েছে দলের প্রতিষ্ঠান জিয়াউর রহমান, চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের ছবি।
শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যই বিভিন্ন স্থান থেকে নেতা-কর্মীদের খণ্ড খণ্ড মিছিল আসতে শুরু করে, যা রাতেও অব্যাহত থাকে। ভোরে আশপাশের এলাকা থেকে নেতা-কর্মীরা দলে দলে যোগ দেয় সমাবেশে। সকাল ১১টার আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশ শুরুর পর স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দিচ্ছেন।
সকাল থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা স্লোগানের পর স্লোগান দিয়ে মুখরিত করে রেখেছেন আলিয়া মাদ্রাসার মাঠ ও এর আশেপাশের বেশ কয়েকটি সড়ক।
সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, গণসমাবেশের জন্য ৭০ ফুট দৈর্ঘ্যের ও ৩০ ফুট প্রস্থের সভামঞ্চ প্রস্তুতির পাশাপাশি লাগানো হয়েছে ১২৫টি মাইক। সমাবেশের মাঠ ছাড়াও সিলেট নগরজুড়ে সড়কের দুই পাশে লাগানো হয়েছে ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন। নগরীর প্রবেশ পথে তৈরি করা হয়েছে তোরণ।
এদিকে সমাবেশ শুরুর আগে থেকে ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া শহরের অনেক এলাকায় বিদ্যুৎবিভ্রাটের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সমাবেশে যোগ দেওয়া অনেকেই অভিযোগ করেন, সকাল থেকে ফোনে ইন্টারনেট পাচ্ছেন না তারা।
চট্টগ্রাম ছাড়া পরবর্তী প্রতিটি সমাবেশের সময় মোবাইল ফোনের ইন্টারনেটের গতি কমে যেতে দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খুলনা, রংপুর, বরিশাল ও ফরিদপুরে সমাবেশের দিন থ্রি-জি ও ফোর-জি ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুধু টু-জি সেবা সচল ছিল, যার মাধ্যমে শুধু মোবাইল ফোনে কথা বলা যায়। অবশ্য সমাবেশ শেষ হওয়ার পরপরই ইন্টারনেট সেবা স্বাভাবিক হয়ে যায়। তবে এ বিষয়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরদের কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলতে চায় না।
বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, পরিবহন ধর্মঘটের মতো ইন্টারনেটের গতিও সরকারের নির্দেশনায় করা হয়। যাতে বিএনপির সমাবেশ ফেসবুক পেজসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করতে না পারে এবং যোগাযোগ অ্যাপ ব্যবহার করতে না পারে, সে জন্য এমনটা করা হয়।
সমাবেশে থাকা সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মাহবুব চৌধুরী ফয়সল জানান আজ সকাল থেকে মোবাইলে ইন্টারনেট সংযোগ পাচ্ছেন না।
আজকের গণসমাবেশ কর্মসূচি ঘিরে ইতিমধ্যে আশপাশের জেলায় পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়েছে।
পরিবহন ধর্মঘট ও ইন্টারনেটের গতি কমানোকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা হিসেবে দেখছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অন্যদিকে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নগরীর বিভিন্ন মোড়ে টহল দিচ্ছেন তারা।
মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. নিশারুল আরিফ জানিয়েছেন, সমাবেশকে ঘিরে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থাও মাঠে রয়েছে। ১৯টি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। চারটি মোবাইল টিমসহ পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
শনিবার সিলেট বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখবেন।
প্রসঙ্গত, চাল-ডাল, জ্বালানি তেল, গ্যাস-বিদ্যুৎ, সারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, দুর্নীতি, গুম খুন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিতে হত্যা’র প্রতিবাদ এবং নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারে দাবিতে এ গণসমাবেশ আয়োজন করেছে বিএনপি। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনা, রংপুর, বরিশাল ও ফরিদপুরে বিভাগে গণসমাবেশ করা হয়েছে।
সামনে আরও তিনটি গণসমাবেশ ও ঢাকায় মহাসমাবেশ কর্মসূচি রয়েছে দলটির। এর মধ্যে আগামী ২৬ নভেম্বর কুমিল্লা, ৩ ডিসেম্বর রাজশাহী ও ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় এ কর্মসূচি রয়েছে।
Related News
খুলনা থেকে অপহৃত কলেজ ছাত্রী সিলেটে উদ্ধার, যুবক আটক
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট নগরীর আম্বরখানায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত এক কলেজছাত্রীকে উদ্ধার এবং এক যুবককে আটকRead More
মঙ্গলবার সিলেট আসছেন রাষ্ট্রপতি, নগর জুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রপতির সিলেট সফর ঘিরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত নগর। চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ।Read More



Comments are Closed