Main Menu

সিলেটে বিএনপি নেতা কামাল হত্যা, দুইদিনেও মামলা হয়নি

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে বিএনপি নেতা আ ফ ম কামাল হত্যাকান্ডের দুদিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি। কাউকে আটকও করা হয়নি। তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে কামাল হত্যার প্রধান সন্দেহভাজন আজিজুর রহমান সম্রাটকে আটকের গুঞ্জন শোনা যায়। তবে আইনশৃঙ্খরা রক্ষাকারী বাহিনীর কোন ইউনিটই তার সত্যতা স্বীকার করেনি।

এদিকে, কামাল হত্যার প্রতিবাদে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের মিছিল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুরের ঘটনায় ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায়ও এখন পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বলেন, কামাল হত্যাকান্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি। আমরা এজাহারের জন্য অপেক্ষায় আছি। পরিবার থেকে মামলা দায়ের করা না হলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।

গত রোববার (৬ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে সিলেট মহানগরের বড়বাজার এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে খুন হন আ ফ ম কামাল (৪৫)। তিনি সিলেট জেলা বিএনপির সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ কমিটির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। এর আগে সিলেট ল’ কলেজ ছাত্রসংসদের ভিপি ছিলেন তিনি। সিলেট শহরতলীর জালালাবাদ ইউনিয়নের আলীর গাঁওয়ে কামালের বাড়ি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মহানগরের সুবিদবাজারে বসবাস করছিলেন।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি নেতা আ ফ ম কামাল রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সিলেট বিমানবন্দর এলাকা থেকে আম্বরখানা বড়বাজার হয়ে গোয়াইটুলার দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় তার গাড়িকে অনুসরণ করছিল একটি মোটরসাইকেল। তাতে আরোহী ছিলেন তিনজন। পরে আরেকটি মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি বড়বাজার ১১৮নং বাসার সামনে কামালের গাড়ির গতিরোধ করেন। পরে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে খুনিরা পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা কামালকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মূলত অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই মারা যান তিনি।

এ বিষয়ে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান শামছুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, কামালের দেহে ২৫টি ছুরিকাঘাত করা হয়। তার বাঁ হাতে ১৬টি, বাম বগলের নিচে ২টি, বুকের বামপাশে ১টি ও বাম পায়ে ৬টি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে আরও জানা গেছে, সিলেটের বিএনপি নেতা আ ফ ম কামাল খুনের ঘটনা পরিকল্পিত। পূর্বের দ্বন্দ্বের জের ধরে ছাত্রলীগ নেতা সম্রাটের নেতৃত্বে খুনের মিশন চালানো হয়। ঘটনার পর তারা আম্বরখানা বড়বাজারে গলির প্রধান সড়ক ধরে পালিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আম্বরখানা বড়বাজার এলাকায় যান। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি’র ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরেই খুনীদের চিহ্নিত করতে পেরেছে পুলিশ।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে- সম্রাটের নেতৃত্বে শাকিল ও রাজু নামের দুজন এবং তাদের আরও দুই সহযোগী- মোট ৫ জন সন্ত্রাসী এ খুনের মিশনে অংশ নেয়। তারা পরিকল্পনা করে এই খুনের ঘটনা ঘটায়। ঘটনার সময় বিএনপি নেতা আফম কামাল ড্রাইভিং সিটে ছিলেন। এই অবস্থায়ই তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের পর আঘাত করা হয়। মাত্র দু’তিন মিনিটে ঘটনা ঘটিয়ে তারা চলে যায়। আর খুনিরা চলে যাওয়ার পরপরই প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে হামলার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, কামালের ট্রাভেলস ব্যবসা রয়েছে। এক বিদেশযাত্রীর ভিসার টাকাকে কেন্দ্র করে অক্টোবরের শেষদিকে ছাত্রলীগ নেতা আজিজুর রহমান সম্রাট ও তার দলবলের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি আ ফ ম কামালের। এ নিয়ে মারামারির ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনার পর আজিজুর রহমান সম্রাটের পক্ষ থেকে সিলেটের কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের রয়েছে। এ মামলার ৪ নং আসামি ছিলেন বিএনপি নেতা কামাল। অভিযোগ রয়েছে- ওইদিন সম্রাটকে থাপ্পর মেরেছিলেন কামাল। এর প্রতিশোধ নিতেই সম্রাটের নেতৃত্বে হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

এসএমপি’র এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাইনুল জাকির মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বলেন- কামালের ভাই মইনুল বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়েরে প্রস্তুতি চলছে। তারা সন্ধ্যার পর থানায় আসার কথা।

কামাল খুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে র‍্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার সিনিয়র এএসপি আফসান আল-আলম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন- আমরাও আমাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে চেষ্টা চালাচ্ছি এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ধরতে। তবে এখনও কাউকে ধরতে পারিনি। ফেসবুকে ‘গুজব’ ছড়ানো হচ্ছে।

 

 

 

 

 

Share





Related News

Comments are Closed