Main Menu

মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮, একসাথে এত লাশ দেখেনি পঞ্চগড়বাসী

Manual7 Ad Code

মো. সফিকুল আলম দোলন,পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের করতোয়া নদী থেকে গত তিনদিন ধরে উদ্ধার হচ্ছে নারী-পুরুষ আর শিশুর লাশ। একসাথে এত লাশ কখনও দেখেনি পঞ্চগড়ের মানুষ।

বোদা উপজেলার মাড়েয়া ইউনিয়নের করতোয়া নদীর আউলিয়াঘাটে নৌকাডুবির ঘটনায় গত রোববার উদ্ধার হয় ২৫ লাশ। পরদিন সোমবার উদ্ধার হয় আরও ২৬ লাশ। আর মঙ্গলবার আগের ৫১ জনের তালিকার সাথে যুক্ত হয় আরও ১৭টি নাম। এ নিয়ে নৌ ট্রাজেডিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৬৮ জনে। এদের মধ্যে নারী ৩১ জন, শিশু ২০ জন ও পুরুষ ১৭ জন।

মঙ্গলবার উদ্ধার হওয়া ১৭টি মরদেহের সবার নাম জানা গেছে। তারা হলো, শৈলবালা (৫১), সনেকা রাণী (৫৫), হরি কিশোর (৪৫), শিল্টু বর্মন (৩২), মহেন চন্দ্র (৩০), ভ‚মিকা রায় পুজা (১৫), আঁখি রাণী (১০), সুমি রাণী (৩৮), পলাশ চন্দ্র (১৫), ধৃতি রাণী (১০), সজিব রায় (১০), পবিতা রাণী (৩০), জোসনা রাণী (৩২), মনিভুষণ (৪৬), দোলা রাণী (৫), মনিকা রাণী (৩৮), মহিন্দ্রনাথ (৫৬) ও রূপালি রাণী (২৫)।

এদিকে জেলা প্রশাসনের জরুরি তথ্য কেন্দ্রের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৬৮ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে কতজন যাত্রী ছিল, তার সঠিক তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক দীপঙ্কর রায় ।স্বজনদের দেওয়া তালিকা অনুসারে এখনো চারজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এই নৌকাডুবির ঘটনায় পঞ্চগড় জেলায় প্রথম একসাথে এত মানুষের মৃত্যু হল। নৌকা দুর্ঘটনায় পঞ্চগড়ের মানুষ স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। সমগ্র জেলার মানুষ স্তব্ধ। নিহতের পরিবার গুলো শোকে পাথর হয়ে গেছে। নিখোঁজদের স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছে। নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা স্বজনদের মরদেহ পাওয়ার অপেক্ষায় করোতোয়া নদীর পাড়ে দিন রাত অপেক্ষা করছে। মানুষের কান্নায় ভারী হয়ে গেছে করোতোয়া নদীর আকাশ-বাতাস।

Manual4 Ad Code

এদিকে উদ্ধার তৎপরতা দেখার জন্য হাজার হাজার উৎসুক জনতা করোতোয়া নদীর আউলিয়ার ঘাটে ভিড় করে। নিহত ব্যক্তিদের সৎকার করার জন্য পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট এর ফান্ড হতেও প্রতি মৃত ব্যক্তির স্বজনদের ২৫ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ও রেলপথ মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোঃ নুরুল ইসলাম সুজন এমপি ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান দুলাল গত সোমবার নৌকা দুর্ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছেন এবং নিহতদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সন্তপ্ত পরিবারদের সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আর্থিক অনুদান প্রদান করেছেন।

এদিকে বোদা পৌরসভার কলেজপাড়া স্কুল শিক্ষক দীপক চন্দ্র রায় ও ছন্দা রাণী দুই মেয়েকে হারিয়ে পাগলপ্রায়। রোববারের নৌকাডুবিতে তাদের বড় মেয়ে পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির দিবা শাখার শিক্ষার্থী ভূমিকা রাণী রায় ও ছোট মেয়ে বৃষ্টি রাণী রায় মারা গেছে। শোকের মাতম চলছে গোটা বাড়িতে। দুর্গাপূজার আগে দুই মেয়েকে হারাতে হবে এমনটা কখনও ভাবেনি তারা। ভূমিকার বান্ধবী পঞ্চগড় পৌর এলাকার ইসলামবাগের লুবাবা রহমান অর্থি জানায়, ভূমিকার সাথে স্কুলে তার শেষ দেখা হয়েছিল ১৪ সেপ্টেম্বর। সেদিন থেকে এসএসসি পরীক্ষার জন্য স্কুল বন্ধ হয়ে যায়। ভূমিকা তাকে দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীতে তাদের বাড়িতে যাওয়ার দাওয়াত দিয়েছিল।

Manual5 Ad Code

দুর্ঘটনার একদিন পর সোমবার বৃষ্টির মরদেহ এবং মঙ্গলবার ভ‚মিকার মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেনসের সদস্যরা।

গত রোববার মহালয়া উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নৌকায় করে বোদা উপজেলার বরদেশ্বরী মন্দিরে যাচ্ছিলেন উৎসবে যোগ দিতে। দুপুরের দিকে মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের আউলিয়া ঘাট এলাকায় একটি নৌকা উল্টে গেলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

 

Manual6 Ad Code

 

Manual7 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code