Main Menu

গোলাপগঞ্জে সিলেটের প্রথম ‘কফি গার্ডেন’

Manual3 Ad Code

ইউনুছ চৌধুরী : বিচ্ছিন্নভাবে কফি গাছ লাগানো হলেও সিলেটে প্রথম কফি বাগান গড়ে উঠেছে গোলাপগঞ্জ উপজেলার আমুড়া ইউনিয়ন কমপ্লেক্স সংলগ্ন কদমরসুল গ্রামে। প্রায় ৫০ বিঘা জায়গা নিয়ে সাড়ে ৩ হাজার কফি গাছ নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে কফি গার্ডেন। উঁচু নিচু টিলায় সারিসারি আনারস গাছের মধ্যে লাগানো হয়েছে কফি গাছ। আগামী ৬ মাসের মধ্যে গাছে ফুল আসা শুরু করবে।

Manual3 Ad Code

টিলা রক্ষা, অনাবাদি জমি আবাদ, কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি এবং উচ্চ মূল্যের ফসল উৎপাদন বাড়ানোর জন্য এই প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা। এদিকে, সাধারণ মানুষকে টাটকা কফির স্বাদ দিতে কফি গার্ডেনের পাশেই গড়ে তোলা হচ্ছে কফি হাউস। বাগানের সাথেই বিশাল লেক এর পাশে কফি হাউসের সাথে থাকবে নৌকা। নৌকায় চড়ে অথবা লেক এর পাশে বসে গরম কফির স্বাদ নিতে পারবেন দর্শনার্থীরা।

Manual1 Ad Code

জানা যায়, অনাবাদি টিলা চাষের আওতায় নিয়ে আসতে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সৈয়দ মাছুম আহমদ বাগান করার পরিকল্পনা নেন। এরই অংশ হিসেবে প্রায় ৫০ বিঘা জায়গা নিয়ে প্রথমে গড়ে তুলেন কফি বাগান। পরে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে টিলা আবাদের জন্য কফি চাষের জন্য চারা দিলে এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা করা হলে গত বছর থেকে ব্যাপকভাবে কফি চাষ শুরু করেন তারা। প্রথমবার তাদের উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ২শ ৫০টি কফি গাছ দেয়া হয়েছিল। পরে আরো এক হাজার ১শ’ ২৬টি গাছ দেয়া হয়েছে। বাগান কর্তৃপক্ষ নিজেদের থেকে ২ হাজার কফি গাছ রোপণ করে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আরোও ১ হাজার ১শ’ ২৬টি গাছ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। প্রথম দফায় লাগানো গাছ থেকে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ফুল আসবে বলে জানিয়েছে বাগান সংশ্লিষ্টরা।

Manual8 Ad Code

এদিকে, শুধু কফি আবাদই নয়, উদ্যোক্তারা বাগানের পাশেই টিলাবেষ্টিত লেক এর পাশে গড়ে তুলেছেন কফি হাউস। যেখানে বসে টটকা কফির স্বাদ নিতে পারবেন যে কেউ। স্বচ্ছ জলের লেকে থাকবে নৌকায় ভ্রমণের ব্যবস্থা। নৌকায় চড়েও গরম কফির মগে চুমুক দেয়ার অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন সাধারণ মানুষ, জানালেন বাগানের ব্যবস্থাপক আবু সুফিয়ান।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, টিলা এলাকায় ফসল চাষে বেশ কিছু বিষয় বিবেচনা করতে হয়। প্রথমত টিলার মাটি শুষ্ক এবং বর্ষাকাল শেষে শুকিয়ে যায়। তাই গাছ লাগানের ক্ষেত্রে দীর্ঘ মূল বিশিষ্ট গাছ লাগাতে হয়। দ্বিতীয়ত টিলার ঢালুতে ফসলের যত্ন নেয়া এবং বারবার চলাচল করা কঠিন। তাই এমন গাছ লাগানো উচিত যেন একবার লাগালে ন্যূনতম ১০ থেকে ১৫ বছর ফলন পাওয়া যায়। দীর্ঘমূল বিশিষ্ট গাছ হলে টিলার মাটিও ধরে রাখে। কফি একটি দীর্ঘমূল বিশিষ্ট মাঝারি জাতীয় উদ্ভিদ। এটি প্রায় চা গাছের মতোই ৮ থেকে ১০ ফুট উঁচু হয় এবং ৫০ থেকে ৬০ বছর ফলন দেয়।

Manual6 Ad Code

গোলাপগঞ্জ কফি গার্ডেনের ব্যবস্থাপক আবু সুফিয়ান জানান, ব্যক্তি উদ্যোগে ও উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় তারা কফি বাগানটি গড়ে তুলেছেন। কফি গাছে আড়াই থেকে ৩ বছরের মধ্যে ফলন আসে এবং ৫০ থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। উপজেলা কৃষি অফিস চারা প্রদান, পরামর্শ সহ সব ধরনের সহযোগিতা করছে এবং বাগানের মালিক সৈয়দ মাছুম আহমদ আমেরিকা থেকে প্রতিনিয়ত বাগানের খেয়াল রাখছেন। দীর্ঘমেয়াদে বাগান থেকে ভালো মুনাফা আসবে বলে তিনি আশা করছেন। তবে তারা আগামীতে আনারস সরিয়ে শুধুমাত্র কফি আবাদ করবেন। বাগানের জন্য আরো কয়েকটি টিলা প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান বলেন, পতিত জমি চাষের আওতায় আনা, সিলেটের ঐতিহ্য লেবু, আনারস চাষ বৃদ্ধি, টিলা সংরক্ষণ, টিলা ধস রোধ, উদ্যোক্তা তৈরির জন্য এই বাগান একটি সূচনা হতে পারে। কৃষি বিভাগ তাদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।

কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় উপপরিচালক কাজী মুজিবুর রহমান জানান, উচ্চ মূল্যের ফসল আবাদ বাড়ানো সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় আছে। কফি একটি উচ্চ মূল্যের পণ্য। সিলেটের টিলা এলাকায় কফি চাষ ছড়িয়ে দেয়ার অনেক সুবিধা রয়েছে। বাগানটি সিলেটের প্রথম কফি বাগান। এই অভিজ্ঞতা থেকে নতুন নতুন বাগান গড়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদী।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code