Main Menu

সিলেটে ডায়রিয়ার প্রকোপ, ৭ দিনে আক্রান্ত সাড়ে ৫শ’

Manual8 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির সাথে সাথে সিলেট জুড়ে নতুন বিপদ দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন হু হু করে বাড়ছে ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ্যা। ডায়রিয়ার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চর্মরোগ সহ নানা পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা। গত ২৪ ঘন্টায় সিলেট জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৭১ জন।

Manual4 Ad Code

সিভিল সার্জন সিলেট অফিস সূত্রে জানা গেছে, সিলেটে ১৭ মে থেকে বন্যাজনিত রোগের হিসাব শুরু হয়। ১৭ মে থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সিলেট জেলায় ৪০০ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া চর্মরোগ ও শ্বাসতন্ত্র জনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১৫০ জন। দিন দিন পানিবাহিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিলেট জেলার ১৩টি উপজেলকে ডায়রিয়া উপদ্রুত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে সেসব এলাকায় মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে। ১৩টি উপজেলায় ১৪০টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।

Manual5 Ad Code

গেল সপ্তাহের ডায়রিয়া রিপোর্ট পর্যালোচনা করে জানা যায়, সিলেট জেলায় ৩৭২ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।

Manual1 Ad Code

সিভিল সার্জন সিলেট সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিনে সিলেটে ডায়রিয়ার প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে। গত ১৭ মে থেকে ২২ মে রোববার পর্যন্ত ১১৪ জন ডায়রিয়ার রোগী ছিলেন। কিন্তু পরবর্তী ৩ দিনে তা ৫৫০ জনে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত ও পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জেলায় ১৪০টি এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে ৩টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এরমধ্যে বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জে সর্বোচ্চ ১৬টি করে মেডিকেল টিম রয়েছে। এছাড়া কানাইঘাটে ১২টি, জৈন্তাপুরে ১১টি, বিশ্বনাথে ১১টি, গোয়াইনঘাটে ১০টি, জকিগঞ্জে ১০টি, সদর উপজেলায় ১০টি, ফেঞ্চুগঞ্জে ১০টি, ওসমানীনগরে ৯টি, দক্ষিণ সুরমায় ৮টি, বালাগঞ্জে ৭টি ও কোম্পানীগঞ্জে ৭টি টিম কাজ করছে। এর বাইরে জেলা শহরের জন্য ৩টি টিম রাখা হয়েছে।

সিলেটের ডেপুটী সিভিল সার্জন ডা. জন্মে জয় শংকর দত্ত বলেন, বন্যা পরবর্তী সময়ে জেলায় সাড়ে ৪৫০ থেকে ৫০০ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়েছেন। পাশাপাশি চর্মরোগ সহ অন্যান্য পানিবাহিত রোগেও আক্রান্ত হচ্ছেন। বিভিন্ন সরকারী হাসপাতালে চর্মরোগ নিয়ে অনেকে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। তবে ডায়রিয়া ছাড়া অন্যান্য রোগের রিপোর্টিং এখনো পুরোপুরিভাবে নেয়া হচ্ছেনা। বর্তমানে ডায়রিয়া, ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু রিপোর্টিং করা হচ্ছে। সিলেটে বন্যাপরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্য পরিস্থিতির তেমন অবনতি ঘটছেনা। আমাদের মেডিকেল টীম সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, বন্যা পরবর্তী সময়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমাদের ৩টি মেডিকেল টীম সার্বক্ষনিক কাজ করছে। এছাড়াও ওয়ার্ডভিত্তিক স্বাস্থ্য ক্যাম্পেইন চালু হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে আমরা প্রতিদিন ওয়ার্ড ভিত্তিক স্বাস্থ্য ক্যাম্পেইন করবো। যা আগামী ১৫ দিন অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, নগরীর বন্যা কবলিত প্রধান সমস্যা হচ্ছে বিশুদ্ধ পানি আর বস্তি এলাকার মানুষ বেশী স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। এদিকে বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে নগরীতে ১ লক্ষ ৬০ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিদিনই যে এলাকায় যাচ্ছে পানি বিশুদ্ধকরণ টেবলেট বিতরণ করছে।

Manual4 Ad Code

স্বাস্থ্য অধিদফতর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, সিলেটে ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগী বাড়ছে। তবে আতঙ্কজনক পর্যায়ে নয়। গ্রামীণ জনপদ নিয়ে আমরা খুব একটা চিন্তিত নই। তবে সিটি কর্পোরেশন নিয়ে আমাদের উদ্বেগ রয়েছে। কারণ নগরীর যেসব এলাকা পানিতে তলিয়েছে এর একটা বিশাল জনগোষ্টী বস্তিবাসী। এই নিম্ন আয়ের মানুষই বেশী ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট তাদের বেশী। আগের ২৪ ঘন্টায় সিলেট বিভাগে ১৮৩ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়েছিলেন। বৃহস্পতিবারের রিপোর্টে সেই সংখ্যা দাড়িয়েছে ১৭১ জনে। হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর কোন চাপ নেই। ওসমানী হাসপাতালে বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্ত কিছু রোগী থাকলেও তারা দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরে যাচ্ছেন। নগরীর শাহী ঈদগাহের সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালেও ডায়রিয়া রোগীর কোন চাপ নেই। সব মিলিয়ে সিলেটের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা খুব একটা খারাপ বলা যাবেনা।

তিনি বলেন, বন্যা পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বিশুদ্ধ পানি। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর সিলেটের উদ্যোগে ৪টি ও রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির উদ্যোগে ১টি, মোট ৫টি ভ্রাম্যমাণ পানি বিশুদ্ধকরণ মেশিন বর্তমানে কাজ করছে। এরমধ্যে নগরীতে ২টি মেশিন বিশুদ্ধ পানি দিতে কাজ করছে। একটি মেশিন ঘন্টায় ৫০০ লিটার পর্যন্ত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে পারে। আর ১টি মেশিন সুনামগঞ্জে রাখা হয়েছে। অপর ২টি মেশিন সিলেটের জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলা এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে কাজ করছে।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code