Main Menu

সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে বর্ষবরণ আড্ডা ও বৈশাখি মিষ্টিমুখ সম্পন্ন

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে বর্ষবরণ আড্ডা ও বৈশাখি মিষ্টিমুখ আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে।

পহেলা বৈশাখের (১৪ এপ্রিল) রাতে অনুষ্ঠিত এ আড্ডায় সভাপতিত্ব করেন ক্লাব সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক আল-আজাদ। সঞ্চালনা করেন ক্লাব সাধারণ সম্পাদক ছামির মাহমুদ।

আড্ডায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি ও নাট্যাঙ্গণের সুধীজনদের মধ্যে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের প্রধান পরিচালক অরিন্দম দত্ত চন্দন, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সভাপতিমন্ডলির সদস্য মোকাদ্দেস বাবুল, সাংস্কৃতিক জোটের সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধি শামসুল আলম সেলিম, সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সিলেটের সাধারণ সম্পাদক গৌতম চক্রবর্তী।

অরিন্দম দত্ত চন্দন তার বক্তব্যে বলেন, একটা সময় সংস্কৃতি অঙ্গণের জন্য চরম কঠিনসময় গেছে। নাটক কিংবা গানে, কবিতায় মানুষের কথা কিছুই বলা যেতো না। এখন সুদিন ফিরেছে। এ সুযোগে মানুষের কথা বলতে হবে।

মোকাদ্দেস বাবুল বলেন, নতুন প্রজন্মের একটা বড় অংশ প্রমিত বাংলা বা মান বাংলায় কথা বলতে পারেন না। অনেকে বৈশাখ সম্পর্কেই জানেনা। এজন্য এসবের চর্চা প্রয়োজন।

শামসুল আলম সেলিম বলেন, সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হচ্ছে ঠিকমতো বাংলাচর্চা হচ্ছে না। সাংবাদিকরা সংস্কৃতিবান্ধব। সংস্কৃতিঅঙ্গণে ছদ্মবেশী কিছু মানুষ ক্ষতির কারণ। এদের চিহ্নিত করতে হবে।

রজত কান্তি গুপ্ত বলেন, সিলেটে সাংস্কৃতিক অঙ্গণে একটা সময় নানা প্রতিবন্ধকতা ছিলো। এখন সেগুলো নাই। এখন মঙ্গল শোভাযাত্রায় দলমত নির্বিশেষে নারী-পুরুষ, শিশু-তরুণরা অংশ নেন।’

গৌতম চক্রবর্তী বলেন, সিলেটের কিছু থাকুক না থাকুন আছে ইস্পাতকঠিন আঞ্চলিকতা। ঈদ, পূজা, পার্বণ, বর্ষবরণ সবকিছুতেই এখানে সিলেটের মানুষদের মধ্যে অটুট বন্ধনের প্রমাণ মিলে।

বালাগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ লিয়াকত শাহ ফরিদী বলেন, তরুণদের মধ্যে ভিনদেশী সংস্কৃতির আগ্রাসন পরিলক্ষিত হচ্ছে। যা খুবই ক্ষতিকর। এজন্য অভিভাবক ও নেতৃস্থানীয়দের নজর দিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে আল আজাদ বলেন, সিলেট জেলা প্রেসক্লাব বাংলাদেশ ও বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্য ধারণ করে, লালন করে। এরই ধারাবাহিকতায় এবারই প্রথমবার বৈশাখের আড্ডা আয়োজন করা হলো। আগামীতে আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজন করার চেষ্টা থাকবে।

উন্মুক্ত আড্ডায় ক্লাব সদস্যদের মধ্যে অংশগ্রহণ করেন ও উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ লিয়াকত শাহ ফরিদী, ইউএনবি’র সিলেট প্রতিনিধি মোহাম্মদ মহসীন, দৈনিক সমকালের স্টাফ রিপোর্টার মুকিত রহমানী, ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি ও দৈনিক একাত্তরের কথা’র উপ-সম্পাদক মঈন উদ্দিন, ক্লাবের সহসভাপতি এস. সুটন সিংহ, সাবেক সহসভাপতি ও নিউ এজ পত্রিকার স্টাফ করেসপন্ডেন্ট মনিরুজ্জামান মনির, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের ব্যুরো প্রধান শাহ দিদার আলম নবেল, বর্তমান সহসাধারণ সম্পাদক ও নিউজ টুয়েন্টিফোর টেলিভিশনের সিলেট প্রতিনিধি সৈয়দ রাসেল, প্রথম আলোর সিলেট প্রতিনিধি সুমনকুমার দাশ, ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ ও একাত্তরের কথা’র প্রধান প্রতিবেদক মিসবাহ উদ্দীন আহমদ, সংবাদ প্রতিদিনের ব্যুরো প্রধান শাব্বীর আহমদ ফয়েজ, ক্লাব সদস্য রবি কিরণ সিংহ রাজেশ, দৈনিক যুগভেরীর স্টাফ ফটোগ্রাফার রনজিত কুমার সিংহ, আমাদের নতুন সময়ের ব্যুরো প্রধান আশরাফ চৌধুরী রাজু, মাই টিভির ক্যামেরাপার্সন মো. শাহীন আহমদ, দীপ্ত টিভির সিলেট প্রতিনিধি ও যুগান্তরের স্টাফ রিপোর্টার ইয়াহ্ইয়া মারুফ, কার্যনির্বাহী সদস্য ও মানবকণ্ঠের স্টাফ ফটোগ্রাফার মিঠু দাস জয়, দৈনিক বর্তমান পত্রিকার সিলেট ব্যুরো প্রধান শাহজাহান সেলিম বুলবুল, দৈনিক উত্তরপূর্ব পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ভবরঞ্জন মৈত্র বাপ্পা, একাত্তরের কথার স্টাফ রিপোর্টার জিকরুল ইসলাম, মাইটিভির সিলেট প্রতিনিধি মৃণাল কান্তি দাস, দৈনিক আমাদের অর্থনীতি পত্রিকার সিলেট প্রতিনিধি মোকলেছুর রহমান মকলিছ, উত্তরপূর্ব পত্রিকার সাব এডিটর ফয়জুল আহমদ, শুভ প্রতিদিন পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার সুমন ইসলাম, উত্তরপূর্ব পত্রিকার ফটোসাংবাদিক পল্লব ভট্টাচার্য্য, শ্যামল সিলেটের স্টাফ ফটোগ্রাফার মো. শাহীন, এনটিভি ইউরোপ’র সিলেট প্রতিনিধি সাজলু লস্কর, জাগ্রত সিলেটের কম্পিউটার ইনচার্জ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, সরকারী কর্মকর্তা মো. শওকত আলী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে আগত সবাইকে মিষ্টিমুখ করান ক্লাব নেতৃবৃন্দ। পাশাপাশি ছিলো সঙ্গীতায়োজন, কবিতা আবৃত্তি, সিলেটের সাংস্কৃতিক অঙ্গণ, বিগতদিনের বৈশাখী আয়োজন সম্পর্কে স্মৃতিচারণ। এছাড়া বাঙালির ঐতিহ্যবাহী নানারকম মিষ্টান্নজাতীয় খাবার পরিবেশনও আয়োজনে ব্যতিক্রম স্বাদ দিয়েছে।

 

Share





Related News

Comments are Closed