ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে ৯৬ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে লিবিয়া থেকে ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা করা একটি যাত্রীবোঝাই নৌকা ডুবে অন্তত ৯৬ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ)।
সংস্থাটির বিবৃতি থেকে জানা যায়, গত শনিবার (২ এপ্রিল) ভোরে আলেগ্রিয়া-১ নামের একটি বাণিজ্যিক ট্যাংকার ভূমধ্যসাগরে ভাসতে থাকা একটি ভেলা থেকে চারজনকে জীবিত উদ্ধার করেছে। জীবিত ৪ জন জানান, তারা কমপক্ষে একশ জনের সঙ্গে একটি নৌকায় ভ্রমণ করছিলেন। উদ্ধার হওয়ার আগ পর্যন্ত তারা কমপক্ষে ৪ দিন সমুদ্রে ভাসছিলেন। আলেগ্রিয়া-১ ট্যাংকারের লগবুক অনুযায়ী এ নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এমএসএফ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা ও সুরক্ষা প্রয়োজন। কিন্তু লিবিয়া একদমই তাদের জন্য নিরাপদ নয়। দাতব্য সংস্থাটি বলছে, দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া অভিবাসীদের এমন জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না যেখানে তারা আটক, নির্যাতন ও দুর্ব্যবহারের সম্মুখীন হতে পারে।
গত এক দশকের সংঘাত ও অরাজকতায় জর্জরিত লিবিয়া এখন আফ্রিকান ও এশীয় অভিবাসীদের জন্য ইউরোপে পৌঁছানোর কেন্দ্রবিন্দু। লিবিয়া হয়েই অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গমন করে। মূলত সমুদ্র পথে বিভিন্ন দেশে যায় তারা। এসব অভিবাসীরা প্রায়ই লিবিয়ায় ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়।
লিবিয়া থেকে যাত্রার জন্য তাদের ছোট ছোট নৌকায় উঠিয়ে দেওয়া হয়। যেগুলোর বেশিরভাগই অনিরাপদ। লিবিয়া থেকে সমুদ্রযাত্রায় অনুপযোগী ও যাত্রীবোঝাই জাহাজগুলো অধিকাংশ সময়ই ডুবে যায় কিংবা সমস্যায় পড়ে। আবার এসব অভিবাসী ফিরে আসার পর তাদের আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়, যেখানে তাদের ওপর চলে অমানুষিক নির্যাতন।
এদিকে, রোববার (৩ এপ্রিল) এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে টুইট করেছেন জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার- ইউএনএইচসিআর প্রধান ফিলিপ্পো গ্রান্ডি। তিনি বলেন, ভূমধ্যসাগরীয় আরেকটি ট্র্যাজেডিতে ৯০ জনেরও বেশি লোক মারা গেছে।
তিনি আরও বলেন, ইউরোপ যেভাবে উদারতার সঙ্গে ইউক্রেন থেকে ৪০ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। এখন যদি অন্যান্য দেশের উদ্বাস্তু ও অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ইউরোপে ঢুকতে চায়, তাহলে তারা কীভাবে তাদের গ্রহণ করবে? বর্তমান সংকটাবস্থায় এটি জরুরিভাবে বিবেচনা করা উচিত।
এ ঘটনার আগে এ বছর ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় ৩৬৭ জনের মৃত্যু হয়। ইউএনএইচসিআর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে, ২০২১ সালে এ অঞ্চলে নৌকা ডুবে মৃতের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৪৮ জন।
ইউরোপীয় উপকূলে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সংখ্যা কমাতে লিবিয়ার কোস্ট গার্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নকে কড়া সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয়েছে। এরপরও এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
Related News
হঠাৎ সৌদিতে জরুরি সতর্কতা জারি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করার প্রেক্ষাপটে সীমান্তবর্তী আসির প্রদেশের খামিস মুশাইত ওRead More
পশ্চিমবঙ্গে একসঙ্গে ২৫২ মাদরাসা বন্ধের নির্দেশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর পর্যালোচনা চালানোর অংশ হিসেবে ২৫২টি মাদরাসা বন্ধের নোটিশ দিয়েছেRead More



Comments are Closed