Main Menu

ইন্দোনেশিয়ায় বিনামূল্যের স্কুলের খাবার খেয়ে অসুস্থ প্রায় ২ হাজার

Manual1 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়ায় প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর অন্যতম প্রধান উদ্যোগ ‘বিনা মূল্যের পুষ্টিকর খাবার’ কর্মসূচির খাবার খেয়ে চলতি সপ্তাহে প্রায় ২ হাজার মানুষ অসুস্থ হয়েছেন। আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী।

শনিবার (৫সেপ্টেম্বর) দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে পূর্ব জাভা, মধ্য জাভা, পশ্চিম সুমাত্রা, আচেহ ও দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রদেশে এসব ঘটনা ঘটে। কর্মসূচির আওতায় দেওয়া খাবার খেয়ে প্রায় ১ হাজার ৯৫০ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও ইসলামিক বোর্ডিং স্কুলের শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছেন। ইন্দোনেশিয়ায় কর্মসূচিটি ‘এমবিজি’ নামে পরিচিত।

সবচেয়ে বেশি মানুষ অসুস্থ হয়েছেন মধ্য জাভার রেম্বাং এলাকায়। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান আলি শিয়োফি জানান, রেম্বাংয়ের একটি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ৭৫২ শিক্ষার্থী ও ২৫ শিক্ষক খাবার খাওয়ার পর ডায়রিয়া, বমি, বমি বমি ভাব ও পেটব্যথায় আক্রান্ত হন।

Manual1 Ad Code

পূর্ব জাভার সিদোয়ারজোতে অসুস্থ হয়েছেন আরও ৭৩০ জন। তাদের বেশিরভাগই একটি ইসলামিক বোর্ডিং স্কুলের শিক্ষার্থী। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান লাখসমি হেরাওয়াতি ইউয়ানতিনা জানান, আক্রান্তদের মধ্যে ৭০৬ জনকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তারা বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

এ ছাড়া পশ্চিম সুমাত্রার আগাম এলাকায় ২৭৬ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে স্থানীয় পুষ্টিকেন্দ্র থেকে খাবার বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে।

আচেহ প্রদেশের বেনার মেরিয়াহ এলাকায় স্কুলের খাবার খেয়ে মাথা ঘোরা ও বমি বমি ভাবসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয় ১৫ শিক্ষার্থী ও এক অধ্যক্ষের। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ সুলাওয়েসির তানা তোরাজা এলাকায় দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আরও ১৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে খাদ্যে বিষক্রিয়ার উপসর্গ দেখা দেয়। তাদের তিনটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কর্মসূচিটি চালুর পর থেকেই এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনা বাড়ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ২ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, ৩৬টি প্রদেশের ২৪৫টি জেলা ও শহরে এমবিজি কর্মসূচির খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ৫৬০টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় মোট ৫০ হাজার ৫৯৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

জাতীয় পুষ্টি সংস্থার প্রধান সুদারিওনো জানান, সংস্থার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আগের খাদ্যে বিষক্রিয়ার ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ঘটনার পেছনে খাদ্য নিরাপত্তার নিয়ম না মানার বিষয়টি ছিল। খাবার সংরক্ষণ, কাঁচামাল গ্রহণ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং খাবার পরিবেশনের সময়সীমা ঠিকভাবে না মানার মতো বিষয়গুলো এর মধ্যে রয়েছে।

Manual8 Ad Code

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে বড় ধাক্কা হিসেবে উল্লেখ করে সুদারিওনো বলেন, খাবার সরবরাহকারীদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি দেশজুড়ে প্রায় ২৭ হাজার খাবার বিতরণ কেন্দ্র পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পরিদর্শনে শত শত সন্দেহজনক বা ভুয়া কেন্দ্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্যবিধি ও স্যানিটেশন মান পূরণ করতে না পারায় অন্তত ৮৩৩টি রান্নাঘরও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

Manual8 Ad Code

প্রাবোও সরকারের এই কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৯ কোটি শিক্ষার্থী, শিশু ও গর্ভবতী নারীকে বিনামূল্যে খাবার দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। অপুষ্টি কমানো এবং শিশুদের স্বাভাবিক শারীরিক বিকাশ নিশ্চিত করাই কর্মসূচিটির মূল উদ্দেশ্য। ২০২৯ সাল পর্যন্ত এ কর্মসূচিতে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। এটি প্রেসিডেন্ট প্রাবোওর অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিও ছিল।

সূত্র: আরব নিউজ

Manual6 Ad Code

 

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code