Main Menu

বিশ্বখ্যাত জার্নালে জাবি অধ্যাপকের গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ

মোঃ আবু দারদা লিমন, জাবি প্রতিনিধি: বিশ্বখ্যাত জার্নাল ন্যাচার গ্রুপের সাইন্টিফিক রির্পোটস-এ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. আলী আজম তালুকদার ও তার টিমের গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। অধ্যাপক ড. আলী আজম তালুকদার এবং তাঁর গবেষণা টিম প্রায় ১২ বছর ধরে বায়োফুয়েল নিয়ে গবেষণা করছেন। এই গবেষণায় খেজুরের রস এবং পান্তা ভাত থেকে দূর্লভ প্রকৃতির ৫টি অনুজীব শনাক্ত করা হয়েছে।

এই গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল উচ্চ তাপমাত্রা-সাবস্ট্রেট অভিযোজন এবং অন্যান্য সম্ভাব্য অ্যামাইলোলাইটিক স্ট্রেনের সাথে S. cerevisiae-এর সহ-চাষের মাধ্যমে যুগপত স্যাকারিফিকেশন এবং ফার্মেন্টেশন (SSF) প্রক্রিয়া বিকাশ করা। এ গবেষণাপত্রে শক্তির অভাব দূরীকরণ ও দূষণ কমাতে পরিবেশ-বান্ধব পরিচ্ছন্ন শক্তি পুনর্নবীকরণযোগ্য বায়োইথানল ব্যাবহারের কথা বলা হয়েছে।

এই গবেষণায়, পূর্বে স্ক্রীন করা থার্মোসেনসিটিভ স্যাকারোমাইসিস সেরেভিসিয়া ডিজে-3 স্ট্রেনকে 42 ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত মানিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের স্টার্চ ব্যবহারের ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে তিনটি সম্ভাব্য থার্মোটোলারেন্ট অ্যামাইলোলাইটিক স্ট্রেনও স্ক্রীন করা হয়েছে। এরপর, 10.0% স্টার্চ ফিডস্টক ব্যবহার করে অভিযোজিত ডিজে-3 এবং অ্যামাইলোলাইটিক স্ট্রেন দ্বারা উচ্চ তাপমাত্রায় এসএসএফ গাঁজন সম্পাদন করা হয়েছে। অভিযোজিত ব্যাসিলাস অ্যামাইলোলিকফেসিয়েন্স (C-7) এবং ডিজে-3-এর উচ্চ তাপমাত্রার যুগপত স্যাকারিফিকেশন এবং গাঁজন (HSSF) থেকে উল্লেখযোগ্য ইথানল ঘনত্ব [3.86% (v/v)] লক্ষ্য করা যায়। এই HSSF প্রক্রিয়ার স্টার্চ থেকে উল্লেখযোগ্য ইথানল ঘনত্বকে দায়ী করা হয় C-7 এর উচ্চ মাত্রার গ্লুকোঅ্যামাইলেজ কার্যকলাপ (4.01 U/ml/min) স্টার্চ (42 °C পর্যন্ত) এবং ডিজে-3 এর শক্তিশালী গ্লুকোজ গাঁজন করার পরে। এই গবেষণাপত্র এইচএসএসএফ প্রক্রিয়ার উল্লেখযোগ্য সম্ভাব্যতার পরামর্শ দেয়।

এ গবেষণা সম্পর্কে আলী ড. আজম বলেন, ‘অনুজীব এবং গোল আলুকে গাজানো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বায়োফুয়েল তৈরী করা হয়েছে, যা জৈব্য জ্বালানী হিসেবে ব্যবহৃত হবে গাড়ী চালানোসহ অন্যান্য জায়গায় শক্তির উৎস হিসেবে। গাঁজানো প্রক্রিয়ার উচ্ছিষ্ট অংশ জৈবসার, গৃহপালিত পশুপাখী, হাঁস-মুরগী ও মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হবে। তিনি বলেন, সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি পরিবেশবান্ধব এবং কার্ব-নিউট্রাল, যা পরিবেশের উপর কোনো প্রকার ক্ষতিকর গ্যাস নিঃসরণ করবে না।’

ড. আজম এখন জৈব জ্বালানী গবেষণাকে কর্ম পাইলট পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছেন, যা আগামী ২ বছরের মধ্যে প্রতিদিন ১০০০ লিটার জৈব জ্বালানী তৈরী করতে সক্ষম হবে। ব্যবহার যোগ্য নয়- এমন আলু কাঁচামাল হিসেবে এতে ব্যবহৃত হবে। তাঁর গবেষণাপত্রটি ৭ মার্চ ২০২২ তারিখে বিশ্বখ্যাত ন্যাচার গ্রুপের সাইন্টিফিক রিপোর্ট-এ (https://www.nature.com/articles/s41598-022-07589-3) প্রকাশিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য ড. আজম ১৯৯৬ সালে জাপান সরকারের এবং ২০০৭ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বিজ্ঞানের সর্বোচ্চ সম্মাননা পদক একাডেমি অব সায়েন্সের স্বর্ণপদকে ভূষিত হন। বর্তমানে তাঁর গবেষণা প্রবন্ধের সাইটেশনের সংখ্যা ২১৪০ (google scholar)। বিশ্বখ্যাত বৈজ্ঞানিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা ২০২২- এ ড. আজমের নাম অন্তর্ভূক্ত হয়েছে (AD Scientific Index 2022)।

Share





Related News

Comments are Closed