সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি পদে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করলেন আরিফ!
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট জেলা বিএনপির কাউন্সিলে সভাপতি পদে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী।
কেন্দ্রীয় নির্দেশে সভাপতি পদ থেকে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে কি কারণে কেন্দ্র এমন নির্দেশনা দিলো তা বলেননি বিএনপির এই প্রভাবশালী নেতা।
মঙ্গলবার (২২ মার্চ) দুপুরে নগরের এক কমিউনিটি সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন আরিফ। এসময় বিএনপির একাধিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আরিফ বলেন, এক খাঁটি বিএনপি কর্মী হিসেবে আমি সভাপতি পদে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেই। মাত্র এক সপ্তাহের পদচারণায় জেলার ১৮টি সাংগঠনিক অঞ্চলে প্রাণচাঞ্চল্য তৈরী করতে সক্ষম হই। আমি যে সাড়া পেয়েছি তা যেন নবান্নের উৎসবের মতো। এ অবস্থাতেও কেন্দ্রের নির্দেশে আমার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করছি।
তিনি বলেন, ‘আমি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহেবের সময় হতে ছাত্র দল থেকে শুরু করে আজ তিলে তিলে ভালােমন্দ। চড়াই-উতরাই পার করে চলা এক বিএনপি কর্মী। আমার চলার সাথী সিলেটের তৃণমূল বিএনপি নেতাকর্মী। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শিক্ষা, দলীয় শৃঙ্খলা ও আপােষহীনভাবে কমান্ড মেনে চলার দৃঢ়তা আমার পাথেয়। সারাদেশে যখন বিএনপি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দল গঠনে দিনরাত অতিবাহিত করছে, তখন গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা হরণকারী ফ্যাসিস্ট বাকশালি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরােধ লড়াইয়ে শামিল থাকা এক খাটি বিএনপি কর্মী হিসেবে আমি সভাপতি পদে নির্বাচন করতে সিদ্ধান্ত নেই। অকস্মাৎ – মাত্র এক সপ্তাহের পদচারণায় সিলেট জেলার আঠারােটি সাংগঠনিক অঞ্চলে প্রাণচাঞ্চল্যে তৈরী করতে সক্ষম হই। এমতাবস্থায় তৃণমূল বিএনপি নেতাকর্মী যেভাবে আমার প্রতি সাড়া দিয়েছেন, তা এককথায় বর্ণনা দিলে শুধু বলতে হয় – অপূর্ব, যেন অগ্রহায়ণে নবাহ্ন উৎসব। আমি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলছি- এর ঋণ শােধ করা অসম্ভব। আমি বিনীতচিত্তে তাঁদের কাছে ঋণী হয়ে রইলাম।’
বিএনপি নেতা আরিফ আরও বলেন, ‘বিএনপি দেশের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। সেই দলের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে আমার কাছে নীতিনির্ধারণী বহুজাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় একজন ব্যক্তির চেয়ে অবশ্যম্ভাবীভাবে অতীব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের আদর্শিক চেতনার নেতা প্রেসিডেন্ট জিয়া বলে গেছেন- ব্যাক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ। তাই সেই মতের সিপাহী হয়ে এর বাইরে আমার এক কদমও নেই এবং চলতে পারে না। এমতাবস্থায় দলের হাইকমান্ড মনে করেছেন একজন মেয়র হয়ে সিলেটের যে প্রভুত উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আপনাদের সহযােগিতায় নগরবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী পরিশ্রম করার চেষ্টা করছি -সেই লক্ষ্যে আরও মনােনিবেশ করে আগামীতে দলের স্বার্থে বড় কোনো কাজের জন্য প্রস্তুত থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এমন আলােকে আমি মনে করি- বিএনপি আমাকে অনেক দিয়েছে, একজন ছাত্রদল কর্মী করে আজকের মেয়র আরিফ। আমি কখনাে ভুলে যাই না দু-দুবার মেয়র হতে ভােট লড়াইয়ে আমার প্রিয় নেতাকর্মী এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কী মরণপণ লড়াই করেছেন এবং সেটি কেবল বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরীর জন্যে করেছেন, শুধু আরিফের জন্যে নয়। গােটা দেশের মানুষ যখন বলে সিলেটের মেয়র বিএনপির আরিফুল, তখন বাগানে ফুটে বিএনপি নামক ফুল! আমি সেই বাগানের মালি হয়ে আমার সারাজীবনের রাজনৈতিক জীবন চালিয়ে যেতে দৃঢ়সংকল্পে বলীয়ান। আমার শক্তি ও সাহসের বাতিঘর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দেশনায়ক তারেক রহমান। এমতাবস্থায় বিএনপি হাইকমান্ডের নির্দেশনার আলােকে আসন্ন সিলেট জেলা বিএনপির কাউন্সিলে সভাপতির পদ হতে আমার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিতে আমি অকুণ্ঠভাবে ঘােষণা করছি। এবং এই ঘােষণার সাথে সাথে আমার সঙ্গে পথচলা সকল নেতাকর্মী তথা বিএনপির প্রাণ-সিলেট জেলার প্রত্যেক তৃণমূল নেতাকর্মীদের বুকে ঠাই পাওয়া আরিফ নিঃসঙ্কোচে স্বীকার করছি, জানান দিচ্ছি – আমি আপনাদের ভালােবাসায় সিক্ত, আপ্লুত। মাত্র এক সপ্তাহে পথে পথে, রাত গভীরে, উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে যে অভূতপূর্ব মমতার নিদর্শন আপনারা দেখিয়েছেন-তাতে আমি বিমুগ্ধ এবং আমার পরিবার আজীবন কৃতজ্ঞতার বন্ধনে আবদ্ধ। এই ভালােবাসার প্রতিদান নেই, হতে পারে না। তথাপি এর উত্তরে আমার বার্তা হলাে- বিএনপি ছাড়া আমার কোনো রাজনৈতিক দল নেই, বিএনপি কর্মী হয়ে আপনাদের মনিকোঠায় সারাজীবন বেঁচে থাকতে চাই। এই আমার ব্রত, এই আমার তপস্যা।। আসন্ন সিলেট জেলা বিএনপির সম্মেলন গনতান্ত্রিক, সার্থক ও সফল করতে আমি সংশ্লিষ্ট সকলকে উদাত্ত আহ্বান জানাই।’
পরিশেষে আরিফ বলেন- ‘শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া এ জমিনকে সবুজ করতে এখনাে অক্লান্ত লড়াই করে যাচ্ছেন চলমান আন্দোলনের সর্বাধিনায়ক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। গণতান্ত্রিক এই আন্দোলনের ফসল তুলে সাদামাটা মানুষের হরণ করা ভােটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক দেশনায়ক তারেক রহমান। দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট থেকে আন্দোলন আরও শাণিত করতে হবে নব্বইয়ের মতাে, তবেই ফিরে আসবেন দেশনায়ক তারেক রহমান এবং সেদিনের অর্পিত যে কোনো দায়িত্ব মাথায় তুলে জীবন উৎসর্গ করতে কুণ্ঠিত নই আমি।’
লিখিত বক্তব্য শেষে আরিফ চেয়ার ছেড়ে উঠে যান। সাংবাদিকদের কোন প্রশ্নের সুযোগ রাখেননি। তবে লিখিত বক্তব্য চলাকালে যেন তাঁর অভিমানি কন্ঠেরই প্রতিধ্বনির আভাস পাওয়া যায়।
Related News
বিশ্বনাথে ভাড়াটিয়া নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে বাড়ির মালিক গ্রেপ্তার
Manual8 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বিশ্বনাথে নিজ ভাড়াটিয়া নারীকে ধর্ষণ করে কারাগারে গেলেনRead More
সিলেটের বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী মনির উদ্দিন আহমদের জানাযা শুক্রবার
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: পূবালী ব্যাংক লিমিটেড এর সাবেক পরিচালক, সিলেটের দক্ষিণ সুরমাRead More



Comments are Closed