পঞ্চগড়ে শুরু হয়েছে চলতি মৌসুমের চা-পাতা সংগ্রহ
মো.সফিকুল আলম দোলন, পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ে তিন মাস বন্ধ থাকার পর শুরু হয়েছে সমতলের চা-বাগানগুলো থেকে চলতি মৌসুমের চা-পাতা সংগ্রহ কার্যক্রম। বাগানে সেচ, কীটনাশক ও পরিচর্যার জন্য তিন মাস পাতা কাটা বন্ধ ছিল। বসন্ত শুরু হতেই গাছে এসেছে নতুন কুঁড়ি। এতে চাষিদের মুখে ফুটেছে সবুজ-সোনালি হাসি।
অন্যদিকে কারখানাগুলোতেও শুরু হয়েছে তোড়জোড়। কাঁচা চা-পাতা সংগ্রহ ও চা উৎপাদনের জন্য সব প্রস্তুতি নিয়েছে তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, চাষি ও শ্রমিকরা বাগান থেকে পাতা সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাগান থেকে চা-পাতা উত্তোলন করে বিক্রি করতে দেখা যাচ্ছে চাষিদের।
এখন বসন্তের আগমন ঘটেছে। বিদায় নিচ্ছে শীত। এ সময়টায় পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকার সমতলের চা-বাগানগুলোয় উঁকি দেয় নতুন কুঁড়ি। চা-গাছের পাতা বৃদ্ধি ও সুস্থতা এবং অধিক পাতা উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রতিবছরের ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি টানা তিন মাস বাগানগুলোয় পাতা কাটা বন্ধ থাকে। এ সময় বাগানগুলোয় চলে প্রুনিং কার্যক্রম।
প্রতিবছরের ১ মার্চ থেকে চা-পাতা সংগ্রহের মৌসুম শুরু হয়। সে মোতাবেক চাষিরাও আজ থেকে তাদের বাগানের উৎপাদিত চা-পাতা উত্তোলন করে কারখানায় বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে মৌসুমে কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কারখানাগুলোও চালু হয়েছে।
তাদের দাবি, বিগত মৌসুমের তুলনায় চলতি মৌসুমে সার-কীটনাশক, ডিজেল ও শ্রমিকের মজুরি বাড়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে কয়েক গুণ। অন্যদিকে চাষিরা ন্যায্যমূল্য না পাওয়া ও মূল্য ওঠানামা করায় চাপ পড়ে চা-শ্রমিকদের ওপর। এতে শ্রমিকদের মজুরিও কমে যায়।
তেঁতুলিয়া উপজেলার আজিজনগর এলাকার চা-শ্রমিক রবিউল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন পর আজ থেকে আবারও বাগান থেকে পাতা উত্তোলনের কাজ করতে পারছি আমরা। এতে আমরা অনেক আনন্দিত। তবে প্রতিবছর কাঁচা চা-পাতার দর ওঠানামা করায় চাষিদের লোকসানের মুখে পড়তে হয়। তার কারণে তারা আমাদের মজুরি বৃদ্ধি করে না। ফলে আমাদের মজুরি কম দেয়। তবে পাতার দাম ভালো থাকলে আমরাও ভালো থাকি।
চা বোর্ড জানায়, ২০২১ সালে জেলায় চায়ের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ কোটি কেজি চা, সেখানে উৎপাদন হয়েছিল ১ কোটি ৪৫ লাখ কেজি। ফলে গত বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪৫ লাখ কেজি চা বেশি উৎপাদিত হয়েছে। চলতি বছরে জেলায় চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ কোটি ৮০ লাখ কেজি। বোর্ড আরও জানায়, উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় ১০টি নিবন্ধিত ও ১৭টি অনিবন্ধিত চা-বাগান এবং ৭ হাজার ৩১০ ক্ষুদ্রায়তন চা-বাগানের (নিবন্ধিত ১ হাজার ৫১০টি) মোট ১০ হাজার ১৭০ দশমিক ৫৭ একর জমিতে চা চাষ হয়েছে। পঞ্চগড় ১৭টি ও ঠাকুরগাঁও ১টি মোট ১৮টি চা কারখানা চলমান রয়েছে।
তেঁতুলিয়া গ্রিন কেয়ার অ্যাগ্রো লিমিটেডের ম্যানেজার মো. মঞ্জুর আলম বলেন, কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সামনে রেখে চলতি মৌসুমে কারাখানা চালুর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং চালুও করা হয়েছে। আজ থেকে চা-পাতা সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এটা চলবে ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত। আমরা সরাসরি চাষিদের কাছে থেকে চা-পাতা কিনছি। চাষিরাও বাগানের নতুন পাতা বিক্রি করে বেশ আনন্দ পাচ্ছেন।
বাংলাদেশ চা বোর্ড (পঞ্চগড়), নর্দান বাংলাদেশ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ শামীম আল মামুন বলেন, আজ ১ মার্চ থেকে চলতি বছরের চা-পাতা সংগ্রহের মৌসুম শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে চাষিরা তাদের বাগান থেকে চা-পাতা উত্তোলন ও কারখানা কর্তৃপক্ষ চা-পাতা থেকে চা উৎপাদন করতে সব সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চাষিদের আমরা সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। দাম নিয়ে চাষিদের কোনো সমস্যা হলে আমরা সমস্যা সমাধানে কাজ করব।
Related News
পঞ্চগড়ের আকাশে মায়াবী কাঞ্চনজঙ্ঘা, মেঘ সরতেই ধরা দিল হিমালয়ের রূপালি মুকুট
সফিকুল আলম দোলন, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি: অপেক্ষার প্রহর শেষে মেঘের আড়াল ভেদ করে উত্তরের আকাশেRead More
রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, তিনজনের মৃত্যু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বৈরাগীগঞ্জে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকে বাসের ধাক্কায়Read More



Comments are Closed