Main Menu

ওসমানী হাসপাতালে স্বর্ণের চেইন ছিনতাই, সেই পপি আটক

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল ছিনতাইয়ের ঘটনায় আলোচিত পপিকে আটক করেছে পুলিশ।

সীমা বেগম পপির (৩৫) বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাইয় উপজেলায়। তবে দীর্ঘদিন ধরে বাস করছে সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহরে। লোকজনের পকেট ও ভ্যানিটি ব্যাগ কাটা তার মূল পেশা।

রবিবার (২৭ ফেব্রয়ারী) দুপুরে হাসপাতালে আসা এক রোগীর স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয়ার সময় তাকে আটক করা হয়। এর আগেও কয়েকবার ওসমানী হাসপাতাল ও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই ও চুরির সময় আটক হয়েছিল আলোচিত এই নারী ছিনতাইকারী।

ছিনতাইয়ের শিকার নারী জানান, ভিড়ের মধ্যে পপি তার দুই ভরি ওজনের গলার চেইন ও কানের দুল খুলে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় হাসপাতালে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা তাকে আটক করে।

আনসার সদস্যরা জানিয়েছেন, এর আগে পপিকে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনায় আরও তিনবার আটক করা হয়েছিল।

স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের ঘটনায় পপিকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জয়নাল আবেদীন।

তবে বৃদ্ধার চুরি হওয়া স্বর্ণালঙ্কার পপির কাছ থেকে উদ্ধার করা যায়নি। অভিযোগ রয়েছে- পপি জিনিসপত্র চুরি করে দ্রুত তার চক্রের সদস্যদের হাতে পাচার করে দেয়। যার করণে পরবর্তীতে তল্লাশি চালালেও তার কাছ থেকে কিছু উদ্ধার করা সম্ভব হয় না।

এদিকে, রবিবার বিকেলে পপিকে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্তকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আলী মাহমুদ জানান, যারা চুরির অভিযোগ করছেন তাদের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

পুলিশ ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সীমা বেগম পপির বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার বামুরা গ্রামে। তিনি বিবাহিত। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। নগরীর শাহজালাল উপশহরের এইচ ব্লকের ৪ নং রোডের বিলের পার এলাকায় গড়ে তুলেছেন ৫ তলা বাসা। সেখানে পরিবার নিয়ে থাকেন পপি। সেখানে রাত-দিন রয়েছে পরিচিত-অপরিচিত মানুষের আনাগুনা।

বাসার পাশেই পপি একটি মোদি দোকান ও খামার রয়েছে। তার স্বামী সেই দোকান ও খামার দেখাশুনা করেন। আর ওসমানী হাসপাতাল এবং নগরীর জিন্দাবাজার ও বন্দরবাজারে পকেটমার হিসেবে পপির পরিচিতি। বিশেষ করে ওসমানী হাসপাতালে তার দৌরাত্ম্য বেশি। সকাল হলেই বোরকা পরে নগরীর অলিগলি ও পথের পাশাপাশি বিভিন্ন মার্কেটে ঢুঁ মারেন তিনি। ঘুরে বেড়ান ওসমানীসহ সরকারি-বেসরকাীর বিভিন্ন হাসপাতালে। সুযোগ বুঝে কৌশলে ছিনিয়ে নেন স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল ফোন ও টাকা-পায়সা। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকবার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন পপি। কিন্তু প্রত্যেকবারই জেল থেকে বেরিয়েই পুরোনো পেশায় যুক্ত হয়।

পুলিশ জানায়, পপির বিরুদ্ধে সিলেটের শাহপরাণসহ বিভিন্ন থানায় প্রায় অর্ধশত মামলা রয়েছে। তার মূল পেশা চুরি। কিন্তু পাশাপাশি ছিনতাই, অসামাজিক কাজ, মাদক কেনাচেনাহ নানা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত তিনি। ২০১৯ সালের ৩০ মে নগরীর জিন্দাবাজার থেকে পপি ও তার সহযোগী স্বপ্নাকে আটক করে পুলিশ। পরদিন পুলিশ প্রসিকিউশনের মাধ্যমে আদালতে প্রেরণ করে। ওইদিনই তারা বেরিয়ে আসেন জামিনে। একই বছর ৩০ জুন নগরীর জিন্দাবাজার সিটি সেন্টারের সামনে থেকে স্বপ্না ও পপিকে আটক করে পুলিশ। থানাহাজতে তাদেরকে এক রাত আটকেও রাখা হয়। পরে রহস্যজনক কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। প্রসিকিউশনের মাধ্যমে তাদেরকে আদালতে হাজির করা হলে সেখান থেকে সহজেই বের হয়ে আসেন পপি ও স্বপ্না। বিভিন্ন সময় আরও অন্ততঃ ৫ বার পুলিশ এবং জনতার হাতে ধরা পড়েন পপি। কিন্তু কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না তার অপকর্ম।

এছাড়াও একটি মারামারির ঘটনায় সিলেটের শাহপরাণ থানায় পপির বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। থানাসূত্রে জানা গেছে, ওই মামলায় চার্জশিটও হয়েছে। পপি একটি কিশোর গ্যাং পোষেন বলেও জানা গেছে। সেই গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দেন তার ছেলে অন্তর।

সূত্রমতে, পপি ও তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা পুলিশের হাতে আটকের পর তাদের শেল্টারদাতাদের খবর দেয়া হয়। তখন তারা থানাপুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে অনেক সময় থানা থেকেই ছাড়িয়ে নেন। আবার কখনও প্রসিকিউশনের মাধ্যমে আদালতে প্রেরণ করা হয় এবং পরবর্তীতে সহজেই তারা বেরিয়ে আসেন।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জয়নাল আবেদীন বলেন, আমার দায়িত্বকালীন সময়ে চুরি ও ছিনতাইয়ের দায়ে ওসমানী হাসপাতাল এলাকায় মোট ৪ বার ওই নারীকে ধরা হয়েছে। কিন্তু জেল থেকে জামিনে বের হয়েই সে আবার চুরি-ছিনতাইয়ে জড়িয়ে যায়।

 

Share





Related News

Comments are Closed