‘আসাম টাইপ ইউনিক হেরিটেজ হাউসেস ইন সিলেট’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ‘আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্যকে ধারণ করে এমন অনেক বাড়ি ও স্থাপনা সিলেটে রয়েছে। কিন্তু এগুলোকে ধীরে ধীরে উন্নয়নের নামে অথবা ব্যক্তি স্বার্থে তা ভেঙে ফেলা হচ্ছে। আমাদের অহংকার করার মতো এবং নিরাপদ বসবাসের উপযোগি এসব স্থাপনা এখন হারিয়ে যাচ্ছে। এগুলোকে রক্ষায় সিটি করপোরেশনসহ সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে। সিলেটে একটি ঐতিহ্য জাদুঘর গড়ে তোলতে হবে। জার্মানী প্রবাসী লেখক ও গবেষক শামছুল মজিদ চৌধুরী সাকি তাঁর ‘আসাম টাইপ ইউনিক হেরিটেজ হাউসেস ইন সিলেট’ গ্রন্থের মাধ্যমে আমাদের হারিয়ে যাওয়া সেই সব অমূল্য রত্নকে আবার আমাদের সামনে হাজির করেছেন। এজন্য তাকে ধন্যবাদ।’
বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট, সিলেট আয়োজিত জার্মানী প্রবাসী লেখক ও গবেষক শামছুল মজিদ চৌধুরী সাকির ‘আসাম টাইপ ইউনিক হেরিটেজ হাউসেস ইন সিলেট’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন এবং প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। প্রধান আলোচকের বক্তব্য রাখেন লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য, বিশিষ্ট নগরবিদ ড. কাজী আজিজুল মওলা।
ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটির সহকারী অধ্যাপক কবি প্রণব কান্তি দেব এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ লোকমান আহমদ, সিলেট প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. নাসিম আহমেদ, পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট, সিলেটের ট্রাস্টি ডা. মোস্তফা শাজামান বাহার, বিশিষ্ট স্থপতি আনোয়ার ইকবাল কচির পাঠানো লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শুনান সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অম্বরীষ দত্ত, প্রবাসী লেখক রানা ফেরদৌস, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিটেকচার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক স্থপতি কৌশিক সাহা, লিডিং ইউনিভার্সিটির আর্কিটেকচার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক স্থপতি রাজন দাশ প্রমুখ।
সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী নগরের চাঁদনীঘাট এলাকায় সারদা হলের তৃতীয়তলায় ‘সিলেট ইতিহাস-ঐতিহ্য জাদুঘর’ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়ে বলেন, এখানে হজরত শাহজালাল (রহ.) ব্যবহৃত জিনিসপত্রসহ সিলেটের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বহন করে এমন জিনিসপত্র রাখা হবে। তিনি বলেন, এর পাশেই একটি হেরিটেজ মার্কেট রয়েছে। ওই মার্কেটে ছিয়া, ঘাইলসহ আমাদের আবহমানকালের অনেক বিলুপ্তপ্রায় জিনিসপত্র ক্রয়-বিক্রয় করা হয়। ওই মার্কেটকে আমরা উচ্ছেদ করবনা। এটাকে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আরও যোগোপযোগী করে দেওয়া হবে।
মেয়র বলেন, সিলেটের অনেক বাড়ি আছে যেগুলো আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে ধারণ করে। কিন্ত ধীরে ধীরে সেগুলো ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণ কিংবা উন্নয়ন নামে হারিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এগুলো রক্ষায় সিটি করপোরেশনের কোনো আইন না থাকায় রক্ষা করা যাচ্ছেনা। তবে সিলেটের ইতিহাস-ঐতিহ্য রক্ষায় সিলেট সিটি করপোরেশন সবসময় সচেতন রয়েছে। তিনি বলেন. জার্মানী প্রবাসী লেখক ও গবেষক শামছুল মজিদ চৌধুরী সাকির ‘আসাম টাইপ ইউনিক হেরিটেজ হাউসেস ইন সিলেট’ গ্রন্থটি আমাদের স্থাপত্যশৈলীর জন্য অমূল্য সম্পদ হিসেবে কাজ করবে।
লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য, বিশিষ্ট নগরবিদ ড. কাজী আজিজুল মওলা বলেন, ‘আসাম টাইপ ইউনিক হেরিটেজ হাউসেস ইন সিলেট’ গ্রন্থটি স্থাপত্যবিদ্যা বিভাগের জন্য অমূল্য রতœ হিসেবে কাজ করবে। গ্রন্থটি এক থেকে দেড়শ বছরের পুরো ইতিহাস ও নির্মাণশৈলীকে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এ গ্রন্থ থেকে স্থাপত্যবিদ্যা শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবেন।
গ্রন্থের লেখক ও গবেষক শামছুল মজিদ চৌধুরী সাকি বলেন, এক যুগের বেশি সময় ধরে বইয়ে প্রকাশিত আসাম টাইপের বাড়িগুলোর ছবি সিলেটজুড়ে ঘুরে ঘুরে তুলেছি এবং এগুলো তিনি অনেক পড়াশোনার পর এসম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনাসহ বই আকারে প্রকাশ করি। গ্রন্থটি করতে আমার কয়েকজন স্থপতি বন্ধু ও সুহৃদ ব্যাপক উৎসাহ ও সহযোগিতা করেছেন বিভিন্নভাবে। এটি আমাদের শেকড়ের সন্ধান করতে উৎসাহিত করবে। প্রত্যেকেরই একটা ইতিহাস-ঐতিহ্য আছে। আমি আমাদের সিলেটের সেই ঐতিহ্যবাহি আসাম টাইপের বাড়িগুলো ধরে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মকে এনিয়ে গবেষণা করতে উৎসাহিত করার জন্য এই কাজটি করেছি।
তিনি বলেন, এ্ই গ্রন্থ থেকে আয় হওয়া প্রতিটি টাকা সিলেটের পরিবেশ ও ঐতিহ্য রক্ষা ও সংরক্ষনের জন্য পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট, সিলেট নামে একটি ট্রাস্ট করে দিয়েছি। এই প্রতিষ্ঠানের ট্রাস্টিরা বই থেকে পাওয়া আয় দিয়ে পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষনে কাজ করবেন।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, শাবিপ্রবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক কামাল আহমদ চৌধুরী, মদনমোহন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ, সরকারি পাইলট স্কুলের প্রধান শিক্ষক কবির খান, সিলেট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম শাহিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মিলু ওয়ালি আহমদ, প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান চৌধুরী ওয়েছ, সাবেক সিভিল সার্জন ডা. ফয়েজ আহমদ, অধ্যক্ষ সৈয়দ মুহাদ্দীস আহমদ, সিটি কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েছ লোদী, সিটি কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ, পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট, সিলেটের ট্রাস্টি ও জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ছামির মাহমুদ, বাপা সিলেটের সাধারণ সম্পাদক ও ট্রাস্টি আব্দুল করিম কিম, ট্রাস্টি অ্যাডভোকেট গোলাম সোবহান দিপন, ট্রাস্টি আব্দুল হাই আল হাদী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তাদীর আহমদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এনামুল মুনীর ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অরুপ শ্যাম বাপ্পী প্রমুখ।
Related News
সন্তানের মুখে মায়ের গল্প
মুহাম্মাদ শরীফুজ্জামান: ‘মা’ একটি ছোট্ট শব্দ। অথচ এই শব্দটির ভেতরেই যেন লুকিয়ে আছে এক বিশালRead More
জহিরপুর সৈয়দ বাড়ির সংক্ষিপ্ত ইতিবৃত্ত’ গ্রন্থের প্রকাশনা সম্পন্ন
শাহ মনসুর আলী নোমান, লন্ডন থেকে: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার দাওরাই বাজারে টেমস-সুরমা পারের গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বRead More



Comments are Closed