বিদায় বেলা
স্কুল জীবনের শেষ দিনটা আসতে চলেছে…
সেই দিনটা কেমন হবে?
সেইদিন কি সূর্যটা একটু আগে উঠবে?
নাকি মেঘলা থাকবে?
আমাদের মনের মতো,
আকাশেও কি হবে সূর্য মেঘের লুকোচুরি খেলা!
সেইদিন কি সময়টাও আমাদের জন্য একটু অপেক্ষা করবে?
যেভাবে তোরা বেঞ্চে ব্যাগ রেখে,
অপেক্ষা করতিস!
সেইদিন কি চোখের জল দেখে কি,
সবসময়ের মতো জড়িয়ে ধরবি?
হয়তো হ্যাঁ,
কিন্তু ভবিষ্যতে কান্না করলে কে জড়িয়ে ধরে বলবে,
“সব ঠিক হয়ে যাবে!”
স্কুল পালানোর দিনগুলো কি আর মনে পড়বে?
নাকি,জীবনের দৌড়ে ব্যাস্ত হয়ে যাবি!
স্যারদের নামে এক-একটা গল্প কি
এভাবেই মনে থাকবে!
ভাগাভাগির নামে কাড়াকাড়িটা কি আর কোনোদিন করা হবে?
ঘন্টা বাজার সেই আওয়াজটা কি,
আর তোদের কানে বাজবে?
শেষ পিরিয়ডের ব্যাগ গুছিয়ে ঘড়ির দিকে হয়তো আর তাকানো হবে না…
ঘড়িটাও হয়তো ভুলে যাবে,
কেই অধীর আগ্রহে তার দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করত!
ছুটির ঘন্টার মধুর সঙ্গীতটা শোনার আগ্রহটা,
তখন হয়তো ধুয়েমুছে যাবে…
পুকুর-পাড়ের ভুতুড়ে কাহিনিগুলো
হয়তো ভুলেই যাবি,তাই না?
লাস্টব্যাঞ্চে বসে বইয়ে মুখ লুকিয়ে হয়তো গল্প হবে না।
যে সাদা স্কুল ড্রেসটা রোজ সকালে পরতে এত বিরক্ত!
তার গায়ে মেখে থাকা রঙিন দিনগুলোর জন্য,
মন কাঁদবে না?
একটু বেশ সময় ঘুমানোর জন্য,শরীর খারাপের বাহানা
হয়তো আর করা হবে না…
শেষ পিরিয়ডে স্কুল পালানোর সঙ্গীর কথা,
আর কি মনে পড়বে?
টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে এটা-ওটা কেনা হবে না।
সেই চেনা পথ ধরে হেটে যাওয়ার সময়,
তোর কথা খুব মনে পড়বে রে!
পাঁচ টাকা বাঁচানোর জন্য বাড়ি হেটে যাওয়ার পথে,
পঁচিশ টাকা খেয়ে ফেললে
কে হাসাহাসি করবে?
টিফিন ব্রেকে স্কুলটাকে আরেকবার ঘুরে দেখা হবে না।
শীতের ছুটি দেয়ার আগের দিন,
কাকে জড়িয়ে ধরে বলব,
“তোকে খুব মিস করব!”
বেঞ্চের ওপর কাটাকুটি খেলা কি আর খেলতে পারব?
ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ওয়াশরুমে সময় কাটানো আর হবে না….
শেষ পরীক্ষার দিন ঘুরতে যাওয়ার দিনগুলো,
আর কি মনে পড়বে?
চ.ঞ এর সময় জাতীয় সঙ্গীত না গেয়ে,
শুধু ঠোঁট নাড়ানোর ভান করার সুযোগ হয়তো আর আসবে না…
শপথ বাক্য পাঠ করার সময় একটু আরামের জন্য,
কে তোর কাঁধে হাত রাখবে?
এই ছুটির ঘন্টা পর হয়তো
সেই ছুটোছুটি-আনন্দময় পরিবেশ থাকবে না।
হয়তো সব শান্ত হয়ে যাবে।
এটা যে আমাদের বিদায় ঘন্টা!
এই আট বছরের স্মৃতিগুলোকে উপহার স্বরূপ দিয়ে,
বিদায় জানানো হবে নতুন এক জীবনের অধ্যায়ের জন্য।
হাজারো স্মৃতির আল্পনায় রঙিন,
আমাদের বিদায় বেলা!
লেখক: সামীহা আরা সাবা অহনা
Related News
সৈয়দ মুজতবা আলীর ১২২তম জন্মবার্ষিকী পালন
সালেহ আহমদ (স’লিপক): আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পণ্ডিত বহুভাষাবিদ ড. সৈয়দ মুজতবা আলীর ১২২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনাRead More
বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিমের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সুনামগঞ্জের কালনী নদীর তীরে ছোট্ট গ্রাম উজানধল। চারদিকে হাওর, বর্ষায় অথৈ জলRead More



Comments are Closed