Main Menu

সাংবাদিক নির্যাতনে তালেবানি শাসন শুরুতেই প্রশ্নবিদ্ধ

Manual7 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফগানিস্তানে নারীদের বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে তালেবানের হাতে বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন দেশটির বেশ কয়েকজন সাংবাদিক।

আজ বৃহস্পতিবার এনডিটিভি অনলাইন ও বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। আর এতে শুরুতেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে সশস্ত্র তালেবানি গোষ্ঠীর প্রতিশ্রুত ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা’।

Manual7 Ad Code

এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা দেয় তালেবান। তারপরই তালেবানের হাতে সাংবাদিকদের মারধরের শিকার হওয়ার একাধিক ছবি অনলাইনে আসে।

মারধরের শিকার দুজন সাংবাদিকের একটি ছবি টুইটারে শেয়ার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস পত্রিকার বৈদেশিক প্রতিনিধি মারকাস ইয়াম। তিনি তাঁর ভেরিফায়েড টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি শেয়ার করেন।

আরেকটি ছবি ভেরিফায়েড টুইটার অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেছে একটি আফগান সংবাদমাধ্যম। ইয়ামের পোস্ট করা ছবিতে দুই ব্যক্তিকে খালি গায়ে দেখা যায়, যাঁদের শরীরে আঘাতের অনেক চিহ্ন রয়েছে।

আফগান সংবাদমাধ্যমের পোস্ট করা ছবিতে মারধরের শিকার একই ব্যক্তিদের দেখা যায়। ছবিতে দুই সাংবাদিকের আঘাত ‘ক্লোজআপ’ করে দেখানো হয়েছে।

আফগান সংবাদমাধ্যমটির ভাষ্যমতে, যাঁদের ছবি পোস্ট করা হয়েছে, তাঁরা হলেন তাকি দরিয়াবি ও নেমাতুল্লাহ নাকদি। তাঁদের একজন ভিডিও এডিটর ও আরেকজন রিপোর্টার। বুধবার কাবুলের পশ্চিমাঞ্চলে নারীদের একটি বিক্ষোভের সংবাদ সংগ্রহ করছিলেন তাঁরা। সেখান থেকে তাঁদের অপহরণ করে তালেবান। পরে তাঁদের একটি কক্ষে নিয়ে বেদম মারধর করা হয়।

Manual5 Ad Code

নাকদি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘একজন তালেবান আমার মাথায় তাঁর পা রাখেন। তারপর কংক্রিটের সঙ্গে আমার মুখমণ্ডল পিষে দেন। তাঁরা আমার মাথায় লাথি মারেন। আমি ভেবেছিলাম তাঁরা আমাকে মেরে ফেলবেন।’

নাকদি জানান, কাজ ও শিক্ষার অধিকারের দাবিতে আফগান নারীদের বিক্ষোভ–সমাবেশের ছবি তোলা শুরু করেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর কাছে এসে একজন তালেবান যোদ্ধা আগ্রাসীভাবে কথা বলতে থাকেন।

নাকদি আরও বলেন, ‘তাঁরা আমাকে বলেছিলেন, আপনি ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে পারবেন না। যাঁরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করছিলেন, তাঁদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। পরে তালেবান সদস্যরা আমাকে অপমান করতে শুরু করেন। আমাকে লাথি মারতে থাকেন।’

নাকদি বলেন, যখন তিনি তালেবানকে জিজ্ঞেস করেন, কেন তাঁকে মারধর করা হচ্ছে, তখন তাঁকে বলা হয়, ‘তুমি ভাগ্যবান যে তোমার শিরশ্ছেদ করা হয়নি।’

১৫ আগস্ট কাবুল দখল করে তালেবান। তার তিন সপ্তাহ পর মঙ্গলবার আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষণা করে তারা। এই সরকারের মন্ত্রিসভায় কোনো নারী নেই। এর প্রতিবাদে বুধবার আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ একাধিক স্থানে বিচ্ছিন্ন বিক্ষোভ হয়। এসব বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই ছিলেন নারী।

কাবুলে নারীদের একটি বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করে দেয় তালেবানের নিরাপত্তা বাহিনী। কাবুলের পাশাপাশি ফাইজাবাদেও বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করার কথা জানা যায়।

Manual8 Ad Code

কাবুল দখলের পর তালেবানের সরকার গঠনের আগেও একাধিক দিন দেশটির বিভিন্ন স্থানে নারী-পুরুষের বিচ্ছিন্ন বিক্ষোভ হয়। এসব বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে তালেবান ছিল মারমুখী।

Manual8 Ad Code

কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের নিয়ে ৭ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ঘোষণা করে তালেবান। সরকারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তালেবানের কয়েকজন বর্ষীয়ান নেতা ও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় থাকা হাক্কানি নেটওয়ার্কের নেতাদের। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code