Main Menu

টাকা আত্মসাত করে উল্টো প্রবাসীকে হুমকির অভিযোগ

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ‘সিলেটের বিশ্বনাথের একটি সংঘর্ষের ঘটনা নিষ্পত্তি করার নাম করে এক লাখ টাকা নিয়ে আত্মসাত করে উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম নুনু মিয়া উল্টো আমাকে হত্যাসহ মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছেন। সর্বশেষ গত শুক্রবার নুনু মিয়া আমার বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ এনে বিশ্বনাথ থানায় জিডি করে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।’

সোমবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেছেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার রসুলপুর (লাউতলা) গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী আমির আতাউর রহমান তালুকদার।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইউকে আর্ন্তজাতিক বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি আতাউর রহমান উল্লেখ করেন ২০২০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্বনাথ উপজেলার জয়নগর নোয়াপাড়ায় আমার শ্যালক সজিব আহমদের সাথে একটি মোটরসাইকেল ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে ওই গ্রামের আরশ আলীর ছেলে মাজিদ ও মুজিবদের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলাও হয়। ওই ঘটনার কিছুদিন পর ২২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্য থেকে আমি দেশে আসি। দেশে ফেরার পর গত ৮ অক্টোবর বিষয়টি শালিসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করে দেওয়ার জন্য আমার দূরাত্মীয় বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের চেযারম্যান এসএম নুনু মিয়ার সিলেট নগরের বাগবাড়ির বাসায় যাই। এসময় এসএম নুনু মিয়া ওই ঘটনা শেষ করে দিতে তাঁর আমার কাছে দেড় লাখ টাকা দাবি করেন। পরে দর কষাকষি শেষে তিনি এক লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দিতে সম্মত হন। ওইদিন রাতে নুনু মিয়ার বাসায় উপস্থিত ছিলেন অলংকারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বিশ্বনাথের মুহুরি ফারুক মিয়া।

পরদিন ৯ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে নুনু মিয়ার বাগবাড়ির বাসায় আতাউর রহমান তার ভাগ্নে সুরুক, রুবেল ও রাসেলকে সাথে নিয়ে গিয়ে তাঁর দাবিকৃত নগদ এক লাখ টাকা তাকে দিয়ে আসেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ওই টাকা নিয়ে নুনু মিয়া দুদিনের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দিবেন বলে তাকে প্রতিশ্রতি দেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি ঘটনাটি নিষ্পত্তি না করে নানা টালবাহানা শুরু করেন। ঘটনাটি নিষ্পত্তির জন্য একাধিক দিন নুনু মিয়াকে তাগাদা দিলেও তিনি বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দেননি। পরে উপায়ন্তর না দেখে ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর আমার শ্বশুর মখলিছ মিয়া, শ্যালক সজিব আহমদ, নাছিম আহমদসহ ৫জনকে সিলেটের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিশ্বনাথ আদালতে হাজির করি। পরে আদালত আমার শ্বশুর মখলিছ মিয়া, শ্যালকদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেন। পরে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে না দেয়ায় আমি আমার টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য বলি। কিন্তু নুনু মিয়া আমার টাকা ফেরত না দিয়ে নানা ছলচাতুরির আশ্রয় নেন। এরপর তিনি গত বছরের ডিসেম্বর মাসে হার্টের অসুস্থতার জন্য রিং লাগাতে ঢাকায় যান। এসময় ৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে বলেন আর কোনো টাকা দিতে পারবোনা। বাকি ৫০ হাজার টাকা চাইলে তিনি আমাকে মা-বাবা তুলে গালাগাল করেন এবং আমাকে হুমকি দেন।

তিনি আরও বলেন, এরপর টাকা উদ্ধারে আমি এসএম নুনু মিয়ার বড়ভাই যুক্তরাজ্য প্রবাসী লাকি মিয়া, কিনু মিয়া ও আঙ্গুর মিয়ার কাছে এ বিষয়ে দফায় দফায় বিচার প্রার্থী হই। কিন্তু তারাও টাকা আদায় করে দিতে ব্যর্থ হন। এছাড়া এ বিষযটি আমি সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পদক মো. মাহফুজুর রহমান, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাবেক কাউন্সিলর জগদ্বীশ চন্দ্র দাস ও বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পংকী খানকেও অবহিত করি।

দীর্ঘদিন ধরে টাকা না দেওয়ায় গত বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) আমি একটি অনলাইন গণমাধ্যমের লাইভে এসে বিষয়টি তুলে ধরে বক্তব্য দেই। আমার পাওনা ৫০ হাজার টাকা না দিয়ে উল্টো গত শুক্রবার (২০ আগস্ট) রাতে বিশ্বনাথ থানায় উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম নুনু মিয়া বাদী হয়ে আমার বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ এনে একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের (জিডি) করেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ্য করেছেন আমি না কি তার বিরুদ্ধে ‘মানহানিকর অশালীন’ বক্তব্য দিয়েছি। অথচ তিনিই আমার টাকা আত্মসাৎ করে উল্টো আমার মা-বাবাকে তুলে অকথ্যভাষায় গালাগাল করেন এবং বলেন ‘তোর কোন বাপ আছে আমার কাছ থেকে টাকা আদায় করতে পারবে। তুই যা তোর যে বাপ আছে তাকে নিয়ে আয়, আমি ৫০ হাজার দিয়েছি এটাই বেশি।’

সমাজে প্রভাবশালী এসএম নুনু মিয়া তাকে হত্যা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসাবেন বলে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন জানিয়ে তিনি এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পরিকল্পনামন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা এবং তাঁর জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহবান জানান।

 

Share





Related News

Comments are Closed