Main Menu

গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি সিলেট’র শোকসভা অনুষ্ঠিত

Manual4 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি সিলেট জেলা শাখার আহবায়ক, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) সিলেট জেলা শাখার সহ-সভাপতি শ্রমিকনেতা মোঃ সুরুজ আলীর স্ত্রী মোছাঃ সাজেদা বেগম এর মৃত্যুতে গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে গত ৬ আগস্ট শুক্রবার বিকেল ৪টায় শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়।

গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি সিলেট জেলা শাখার সিনিয়র সদস্য খোরশেদা বেগম এর সভাপতিত্বে ও তানিয়া আজাদ সুখীর পরিচালনায় শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন জাতীয় ছাত্রদল সিলেট জেলা শাখার অন্যতম নেতা শুভ আজাদ শান্ত।

আলোচনা করেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা শাখার সহ-সভাপতি মোঃ সুরুজ আলী, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ ছাদেক মিয়া, সিলেট জেলা প্রেস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি একে আজাদ সরকার, জাতীয় ছাত্রদল সিলেট জেলা শাখার যুগ্ম-আহবায়ক নাজমুল হোসেন, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের দফতর সম্পাদক বদরুল আজাদ, পরিবারের সদস্য ও মরহুমের বড় ছেলে জীবন মিয়া।

শোকসভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, সাজেদা বেগম একজন সাধারণ গৃহিনী হিসেবে শ্রমিকনেতা মোঃ সুরুজ আলীর সাথে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন। প্রগতিশীল রাজনীতির সাথে জড়িত শ্রমিকনেতা সুরুজ আলীর সাথে দেখা করার জন্য প্রায় সময়ই সংগঠনের নেতাকর্মীরা আসতেন। প্রথমদিকে শ্রমিকনেতা স্বামীর সহকর্মী ও সহযোদ্ধাদের আপ্যায়ন-সমাদর করতে গিয়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি সাজেদা বেগমের আন্তরিকতা তৈরি হয়। সাধারণ শ্রমজীবী জনগণের প্রতি সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মমত্ববোধ দেখে এক সময় রাজনীতির প্রতি সাজেদা বেগমের আগ্রহ তৈরি হয়। সংগঠনের নেতৃবৃন্দের আলাপ আলোচনায় সাজেদা বেগমের রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি হয় এবং এক পর্যায়ে তিনি রাজনৈতিক কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত হন। বিশেষ করে তিনি নারীদের সংগঠিত করে সিলেট জেলায় গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি গঠন করার ক্ষেত্রে সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। তিনি জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট এর শরিক সংগঠন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ ও এর বিভিন্ন বেসিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি, জাতীয় ছাত্রদল, ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ প্রভৃতি সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচি ও সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

Manual6 Ad Code

জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট ঘোষিত টিপাইমুখ বাঁধ বিরোধী আন্দোলন, সুনেত্র গ্যাসক্ষেত্র ইজারা বিরোধী গণযাত্রা আন্দোলন, ট্রানজিট-করিডোর বিরোধী আন্দোলনসহ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। মহান মে দিবস পালন, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সম্মেলন, কালাগুল কৃষক আন্দোলন, চা-রাবার শ্রমিক আন্দোলন, হোটেল শ্রমিকদের বিভিন্ন আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

বক্তারা বলেন, উৎপাদনের সকল ক্ষেত্রে পুরুষের পাশাপাশি নারীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এ দেশের জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবও নারীর অংশগ্রহণ ছাড়া অসম্ভব। বাংলাদেশে গার্মেন্টস্, নির্মাণ, চা-বাগান, ফার্মাসিউটিক্যালস ইত্যাদি শিল্প ক্ষেত্রসহ সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা, হাসপাতাল, অফিস-আদালতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, গৃহকর্মী, প্রবাসী নারী শ্রমিক, গ্রামের কৃষাণীদের তথা শ্রমজীবি নারীদের হাড়ভাঙ্গা খাটুনি, রক্ত ঘাম করা পরিশ্রমে মুনাফার পাহাড় গড়ে দেশের অর্থনীতি চালু রাখলেও তারা সম ও ন্যায্য মজুর পায় না। তারা দেশের আপামর জনতার উপর চেপে বসা তিন শোষকের নির্মম শোষণ-নির্যাতন ছাড়াও পুরুষতন্ত্রের শোষণে জর্জরিত। বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর অর্ধেক নারী, তাদের জীবন-জীবিকার সমস্যাও আপামর জনতার সমস্যার সাথে জড়িত। চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি; দফায় দফায় গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির দাম বৃদ্ধি; গার্মেন্টসের নারী শ্রমিকসহ শিল্পের শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরী না দেওয়া, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা না থাকা, ভবন ধস ও অগ্নিকান্ডে হতাহত হওয়া; কাজের অভাবে অর্ধাহারে ও অনাহারে জীবন-যাপন ইত্যাদি তীব্রতর হয়ে তাদের বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। এমনকি প্রবাসী নারী শ্রমিকরা নির্যাতিত ও প্রতারিত হয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হচ্ছে। তদুপরি সামাজিক অবক্ষয় সর্বব্যাপী রূপ ধারণ করায় মাদকের ছড়াছড়ি, চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই, গুম-খুন, নারীনির্যাতন-নারীধর্ষণ, শিশু ও নারী পাচার ইত্যাদি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ভুক্তভোগী মূলতঃ নারীরাই।

Manual5 Ad Code

করোনা মহামারীতে জনগণের জীবন ও জীবিকা সংকটে পড়লেও লুটপাটকারীদের অর্থবিত্ত বৈভব বেড়ে যাওয়ায় গত এক বছরে দেশে ১০ হাজার ৫১ জন নতুন কোটিপতির সৃষ্টি হয়েছে। সরকার শ্রেণিস্বার্থে এর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করে গরিব মানুয়ের উপর খড়গহস্ত হয়েছে। ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী ও পাকাপোক্ত করে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস অব্যাহত রেখে শ্রমিক, কৃষক, জনগণের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং বিপ্লবী শক্তিকে ধ্বংস করা এবং প্রতিক্রিয়াশীল প্রতিপক্ষকে কোনঠাসা করার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস তীব্রতর করে চলেছে। করোনা পরিস্থিতি মোকবেলার কথা বলে ঘোষিত উদ্দীপক কর্মসূচির মাধ্যমে মূলত দালাল পুঁজির স্বার্থ রক্ষা করছে। শ্রমিক-কৃষক-জনগণের অভাব-অনটন, বেকারত্ব ইত্যাদি বৃদ্ধি পেয়ে জীবন-জীবিকা আরো কঠিন হয়ে পড়া সত্বেও ত্রাণ নিয়ে চালায় বেপরোয়া লুটপাট। বাজার অর্থনীতির অজুহাত তুলে ধরে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ না করে সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনায় শোষণ-লুন্ঠনের পথ প্রশস্ত করে চলেছে সরকার।

Manual6 Ad Code

আমাদের মতো নয়াউপনিবেশিক ও আধাসামন্তবাদী দেশে জাতীয় জীবনের দূর্দশা ও সংকটের মূল কারণ সাম্রাজ্যবাদ ও দালালদের নির্মম শোষণ নির্যাতন। আর এই শোষণ নির্যাতন থেকে মুক্তির একমাত্র পথ শোষণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার উচ্ছেদ এবং যা শ্রমিক কৃষক জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আসতে পারে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শক্তিকে সকল সাম্রাজ্যবাদী অন্যায় যুদ্ধের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যুদ্ধসহ সকল ধরনের শোষণ-নিপীড়নের জন্য দায়ী পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তনের সংগ্রামের অংশ হিসাবে এদেশের শ্রমিক-কৃষক-জনগণকে সকল সাম্রাজ্যবাদ ও তার দালাল এবং তাদের স্বার্থরক্ষাকারী স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন-সংগ্রামের পথে অগ্রসর হতে হবে।

উল্লেখ্য, মোছা: সাজেদা বেগম ১৯৭১ সালের ৫ জানুয়ারি নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার মান্দারুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং গত ২৫ জুলাই ২০২১ রবিবার সকাল ৯টায় সিলেট সদর উপজেলার শাহপরাণ থানাধীন ইসলামপুর চামেলীবাগের নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন এবং ঐদিন বাদ আসর চামেলীবাগ জামে মসজিদে জানাজার নামাজ শেষে হযরত শাহপরাণ (র:) দরগা কবরস্থানে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, ৬ ছেলে ও ৩ মেয়ে, অসংখ্য গুণগ্রাহী ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের রেখে যান। বিজ্ঞপ্তি

Manual6 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code