Main Menu
শিরোনাম
কানাইঘাটে ৩ সন্তানের জননীর আত্মহত্যা         জৈন্তাপুরে তালা কেটে দোকানে চুরি, আটক ৪         কানাইঘাটে নারীকে যৌন হেনস্তা, আরো ১ যুবক গ্রেপ্তার         জৈন্তাপুরে ধর্ষণ মামলার আসামী গ্রেপ্তার         বিশ্বনাথে দিন দুপুরে চুরি, নগদ টাকা ও স্বর্ণ লুট         কানাইঘাটে সুরমা নদীতে নিখোঁজ মাঝির লাশ উদ্ধার         কমলগঞ্জে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে বন্ধু আহত         কমলগঞ্জে শিশুধর্ষণ চেষ্টাকারী পুলিশের হাতে আটক         গোলাপগঞ্জ এলপি গ্যাস প্ল্যান্টে ফের উৎপাদন চালুর আশ্বাস         সিলেটে করোনায় আরো ৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ৩৮         বিয়ানীবাজারে ট্রাক-অটো শ্রমিকদের সংঘর্ষ, আহত ৩০         বিয়ানীবাজারে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ইলেকট্রিশিয়ানের মৃত্যু        

টানা বৃষ্টিতে সিলেটের তিন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: টানা তিনদিনের বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে সিলেটের তিন উপজেলার নিম্নাঞ্চল। পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে স্কুল-মাদ্রাসাসহ শতাধিক গ্রাম। শুধু নিম্নাঞ্চল নয় প্রধান বাজারসহ বিভিন্ন হাট-বাজার বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। অনেকের বাড়ি ঘরেও পানি উঠে গেছে। নদ-নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে পানিবন্দী হয়ে আছে হাজারো মানুষ। দূর্ভোগে রয়েছে, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর উপজেলার হাজারো মানুষ। অনেক গ্রামে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট।

গোয়াইনঘাট উপজেলায় ৩দিনের বর্ষণে ও পাহাড়ী ঢলে প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। জেলা ও উপজেলার সাথে যোগাযোগের সড়কের কয়েকটি স্থানে পানি উঠেছে। হাওরাঞ্চলের ১০/১২ হাজার মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। সারি-গোয়াইন-রাধানগর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গত রোববার রাত থেকে অবিরাম বর্ষণে ও ওপার থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে গোয়াইনঘাটের বিস্তীর্ণ এলাকা। জেলার সাথে যোগাযোগের গোয়াইন-সারি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও সালুটিকর রাস্তায় কয়েকস্থান পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। গোয়াইনঘাট রাধানগর রাস্তায় নৌকা দিয়ে যাত্রী পারাপার হচ্ছে। কৈয়া, সিটিং, চদিবদি, লেঙ্গুড়া, তিতকুল্লি, নাইন্দা, সাতাইন, আমবাড়ি হোয়াউরা, বামনহাওর, উনাইহাওরসহ বিভিন্ন ইউপির হাওরাঞ্চলে ১০/১২ হাজার মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। শ্রমজীবী কয়েক হাজার মানুষ বেকার থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ জানান, গোয়াইন-সারি রাস্তার বেকরায় রাস্তা নিমজ্জিত। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সালুটিকর সড়কে কয়েকস্থানে ঢলের পানি উঠেছে, তবে এখনও যানবাহন কোনমতে চলছে। গোয়াইনঘাট রাধানগর সড়কের ভাঙ্গায় নৌকায় পারাপার চলছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ৩টি ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি গ্রামের বেশিরভাগ ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সবচেয়ে বেশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইসলামপুর পূর্ব ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রাম ও ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়নের ছনবাড়ী গ্রাম। এরমধ্যে চাঁনপুর গ্রামের প্রায় ৫টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর আগে স্থানীয় মসজিদটিও ভেঙে পড়ে। এতে নদী ভাঙ্গনের প্রবল ঝুঁকিতে রয়েছে চাঁনপুর গ্রাম।

জানা যায়, উপজেলার ছনবাড়ী গ্রামের স্কুল, মসজিদ, মন্দির, রাস্তা, শাহ আরেফিন বাজারসহ পুরো গ্রাম বানের পানির নিচে তলিয়ে যায়। এছাড়া ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়নের নতুন জালিয়ারপাড়, বৈশাকান্দি, লম্বাকান্দি, নভাগী, কান্দিসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন ও চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া নিজ নিজ এলাকার পানিবন্দি গ্রামগুলো পরিদর্শন করেন।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন আচার্য জানান, উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বন্যার্তদের জন্য নগদ ১৫ লক্ষ টাকা মজুদ রয়েছে। এই টাকা দিয়ে আমরা শুকনো খাবার ক্রয় করে তাদের মাঝে বিতরণ করবো। শিশু খাদ্য ও গো-খাদ্য পর্যাপ্ত পরিমাণে আমাদের কাছে রয়েছে। এ ছাড়াও বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে যে কোন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে সৃষ্ট বন্যায় জৈন্তাপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। সারী ও বড় নয়াগাং নদীর পানি বিপদসীমার .৫৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে পানি বন্দি হয়ে পড়েছে নিজপাট, জৈন্তাপুর ও চারিকাটা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের মানুষ।

বন্যায় আটকে পড়া পরিবারের লোকজনকে নৌকা অথবা ভেলায় করে উঁচুস্থানে আশ্রয়ের জন্য ছুটতে দেখা যায়। বন্যায় পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন জনপ্রতিনিধি এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা।

বন্যা কবলিত এলাকাগুলো হলো, মেঘলী, বন্দরহাটি, লামাপাড়া, ময়নাহাটি, মোরগাহাটি, জাঙ্গালহাটি, মজুমদারপাড়া, নয়াবাড়ী, হর্নি, বাইরাখেল, গোয়াবাড়ী, তিলকৈপাড়া, বড়খেল, ফুলবাড়ী, ডিবিরহাওর, ঘিলাতৈল, মাস্তিং, হেলিরাই, মুক্তাপুর, বিরাইমারা, বিরাইমারা হাওর, লামনীগ্রাম, কাটাখাল, খারুবিল, চাতলারপাড়, ডুলটিরপাড়, ১নং লক্ষীপুর, ২নং লক্ষীপুর, আমবাড়ী, ঝিঙ্গাবাড়ী, কাঠালবাড়ী, নলজুরী হাওর, বালিদাঁড়া, রামপ্রসাদ, থুবাং, বাউরভাগ উত্তর, বাউরভাগ দক্ষিণ।

উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল আহমদ জানান, গত ৩দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে সৃষ্ট ফ্লাস বন্যায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। বন্যা কবলিতদের সহায়তার জন্য স্থানীয় মন্ত্রী সহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত আজমেরী হক জানান, বন্যায় প্লাবিত এলাকা সমুহের খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য ও গ্রাম পুলিশদের বন্যার পরিস্থিতির পর্যবেক্ষণের জন্য সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

 

0Shares





Related News

Comments are Closed