Main Menu

গোয়াইনঘাটে একই পরিবারের ৩জনকে গলাকেটে হত্যা

Manual6 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের গোয়াইনঘাটে এক পরিবারের তিনজনকে গলাকেটে ও কুপিয়ে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় একজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

Manual5 Ad Code

স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে বুধবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের বিন্নাকান্দি গ্রাম থেকে এ তিন মরদেহ উদ্ধার করে ও আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে পাঠায়।

নিহতরা হলেন- গ্রামের হিফজুর রহমানের স্ত্রী আলিমা বেগম (৩২), তার ছেলে মিজান (৯) এবং ৪ বছরের মেয়ে আনিছা। নিহতদের সকলের গলা ও মাথায় ধারালো অস্ত্রের কোপ দেখা গেছে।

এছাড়া হিফজুর রহমানকে (৩৫) গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক। হিফজুরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে দায়ের কোপ ছিল।

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ জানায়, বুধবার সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি দেখে প্রতিবেশিরা হিফজুরের ঘরের সামনে যান। ভেতর থেকে ঘুঙ্গানির শব্দ শুনে তারা দরজায় ধাক্কা দেন। এসময় ঘরের দরজা খোলা ছিল। ভেতরে প্রবেশ করে খাটের মধ্যে তিন জনের জবাই করা ও কুপানো মরদেহ ও হিফজুরকে রক্তাক্ত দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে গোয়াইনঘাট থানার এসআই মহসিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গিয়ে লাশ তিনটি উদ্ধার করেন এবং হিফজুরকে হাসপাতালে পাঠান। হিফজুরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে দায়ের কোপ ছিল।

Manual8 Ad Code

এদিকে হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে বুধবার দুপুরে সিলেটের ডিআইজি মোঃ মফিজ উদ্দিন, সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ (অপরাধ) আশিশুর রহমান, গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিলুর রহমান, গোয়াইনঘাট সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ প্রবাস কুমার সিংহ, গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল আহাদ, জৈন্তাপুর থানার ওসি গোলাম দস্তগীর, ইন্সপেক্টর জৈন্তাপুর ফারুক আহমেদ, ইন্সপেক্টর তদন্ত দীলিপ কান্ত নাথ, ওসি ডিবি মোঃ সাইফুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

ইতোমধ্যে হিফজুরের মামা ও কয়েকজন আত্মীয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। পুলিশ ধারণা করছে জায়গা সংক্রান্ত ও পারিবারিক বিরোধ জেরে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।

এদিকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হিফজুর রহমানের জ্ঞান এখনও ফিরেনি। পুলিশের পাহারায় তার চিকিৎসা চলছে।

সিলেটের ডিআইজি মফিজ উদ্দিন বলেন, হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনের জন্য পুলিশের একাধি ইউনিট কাজ করে যাচ্ছে। কয়েকটি বিষয় মাথায় নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করতে পারবো বলে আমরা আশাবাদী।

Manual5 Ad Code

তিনি জানান, ভিকটিম হিফজুর যে ঘরে থাকতেন ওই ঘরটি তার মায়ের পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত। আর পাশের আরও দুটি ঘরে তার মামারা থাকতেন। হিফজুর দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাদের মামাসহ আত্মীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক কিংবা গ্রেফতার করেনি পুলিশ।

সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম বলেন, পুলিশ কয়েকটি বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এরমধ্যে রয়েছে জমি সংক্রান্ত ও পারিবারিক বিরোধ। সেই সাথে হিফজুর পুলিশের পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার জ্ঞান ফিরেনি। জ্ঞান ফিরার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। হামলাকারীরা শিশু দুটির গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে হত্যা করেছে। আর শিশুদের মা আলেয়া বেগমের বুকে, পিঠেসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। সেই সাথে হিফজুরের শরীরের একাধিকস্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।

এদিকে, ঘরে ঢুকে তিনজনকে হত্যার ঘটনায় গোয়াইনঘাট উপজেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় করেছেন।

হিফজুরদের প্রতিবেশি, স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, হিফুজর তার মামার বাড়িতে ঘর বানিয়ে থাকেন। তার বাড়ি পার্শ্ববর্তী গ্রামে।

Manual7 Ad Code

তিনি বলেন, হিফজুরের কোনো শত্রু আছে বলে আমার জানা নেই। কারা এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে তা বুঝতে পারছি না। আমি এই হত্যাকান্ডের বিচার চাই।

গোয়াইনঘাট থানার ওসি আবদুল আহাদ তিনজন নিহত ও একজন আহতের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বটি দা দিয়ে কুপিয়ে কে বা করা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। ঘটনার কারণ খুঁজে দেখছে পুলিশ।

তিনি বলেন, দুর্বৃত্তরা হিফজুরদের ঘরে ঢুকে তাদের বটি দা দিয়েই সবাইকে কুপিয়ে হত্যা করে। রক্তমাখা সেই বটি দা উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা অনেকগুলো মোটিভ নিয়ে কাজ করছি। তবে এটি ডাকাতির কোনো ঘটনা নয়। হিফজুররা একেবারেই দরিদ্র। তাছাড়া ঘরের কোনো জিনিসপত্রও খোয়া যায়নি।

নিহত আলেয়া বেগম (৩২)

স্থানীয় লোকজন জানান, বুধবার সকালে অনেক বেলা পর্যন্ত ঘুম থেকে উঠছিলেন না হিফজুরের পরিবারের সদস্যরা। দেরী দেখে প্রতিবেশিরা হিফজুরের ঘরের সামনে যান। এসময় ভেতর থেকে কান্নার শব্দ শুনে দরজায় ধাক্কা দেন তারা।

প্রতিবেশিরা জানান, দরজার সিটকিনি খোলাই ছিলো। ভেতরে প্রবেশ করে খাটের মধ্যে তিন জনের জবাই করা মরদেহ ও হিফজুরকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। পরে পুলিশে খবর দিলে গোয়াইনঘাট থানার এসআই মহসিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গিয়ে লাশ তিনটি উদ্ধার করেন এবং হিফজুরকে হাসপাতালে পাঠান। হিফজুরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে দায়ের কোপ রয়েছে।

 

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code