সিলেটে ৯ বছরের শিশু দিয়ে দেহব্যবসা, নারীসহ আটক ৩
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ৯ বছর বয়সী কন্যা শিশুকে ধরে নিয়ে দেহ ব্যবসার অভিযোগে মহিলাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নগরীর উপশহরের গুলবাহার হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে, জসিম উদ্দিন, হালিমা বেগম ও ওয়াজেদ আলী।
গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দীরগাঁও ইউনিয়নের কচুয়ার পার গ্রামের ৯ বছর বয়সী শিশুকন্যা নিখোঁজ হয় প্রায় এক বছর আগে। এ বিষয়ে ওই শিশুর পিতা গোয়াইনঘাট থানায় প্রথমে সাধারণ ডায়েরি ও পরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
প্রায় এক বছর পর অবশেষে ওই শিশুকন্যাটিকে উদ্ধার করেছেন গোয়াইনঘাট থানাধীন সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. শফিকুল ইসলাম খান।
এবিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলার তোয়াকুল ইউনিয়নের পূর্ব পেকেরখাল গ্রামের বতাই মিয়ার ছেলে আনোয়ার হোসেনকে অভিযুক্ত করে গোয়াইনঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নিখোঁজ ৯ বছর বয়সী শিশু কন্যার পিতা।
জানা যায় ২০২০ সালের ৩০ নভেম্বর নন্দীরগাঁও ইউনিয়নের কচুয়ার গ্রামের হারিয়ে যাওয়া ৯ বছর বয়সী শিশু কন্যার সন্ধানে গোয়াইনঘাট থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন শিশু কন্যার পিতা। অভিযোগ ও জিডির সূত্র ধরে গোয়াইনঘাট থানাধীন সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. শফিকুল ইসলাম খান শিশু কন্যাটির সন্ধানে দীর্ঘদিন ধরে নানা কৌশল অবলম্বন করেন।
নিখোঁজ শিশুটি এক পর্যায়ে কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার লাকসাম গ্রামের হালিমা বেগম নামের এক দেহ ব্যবসায়ীর হাতে পড়ে। হালিমা সিলেট নগরীর শাহী ঈদগাহস্থ অনামিকা ৬২ নম্বর বাসায় ভাড়া থাকেন। হালিমা বেগম শিশুটিকে তুলে দেন খদ্দের বিয়ানীবাজার উপজেলার বাড়ইগ্রামের সুরুজ আলী ছেলে জসিম উদ্দিনের হাতে। জসিম উদ্দিন ওই ৯ বছর বয়সী শিশু কন্যাকে নিয়ে সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহর এলাকার গুলবাহার হোটেলের ৫ম তলার ৫০৫ নাম্বার কক্ষে শিশু কন্যাকে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করে। ওইদিন কৌশলে শিশুকন্যাটি তার পিতার মোবাইলে ফোন করে। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে গোয়াইনঘাট থানাধীন সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. শফিকুল ইসলাম খান সংঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ৩ জুন দিবাগত-রাত থেকে সিলেট শহর ও বিয়ানীবাজার উপজেলায় অভিযান পরিচালনা করে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের সহযোগীতায় জসিম উদ্দিনকে আটক করেন। জসিমউদদীনের দেয়া তত্ত্বের ভিত্তিতে সিলেট শহরের উপশহরস্থ গুলবাহার হোটেলের ম্যানেজার জকিগঞ্জ উপজেলার দরিয়াপুর গ্রামের মৃত মদরিছ আলীর ছেলে ওয়াজিদ আলীকে আটক করেন। জসিম উদ্দিন ও ওয়াজেদ আলীকে আটকের পর শিশু কন্যাটিকে না পেয়ে তারা উভয়ের সহযোগিতা নিয়ে দেহব্যবসায়ী হালিমা বেগমকে মোবাইলে ওই শিশু কন্যার জন্য ৫ হাজার টাকায় চুক্তি করেন। শুক্রবার হালিমা বেগম ৫ হাজার টাকার চুক্তি মতো শিশু কন্যাটিকে নিয়ে হোটেল গুলবাহারে যান। এসময় পূর্ব থেকে উৎপেতে থাকা পুলিশ দল হালিমাকে গ্রেপ্তার করে। এবং শিশু কন্যাকে উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল আহাদ বলেন, গোয়াইনঘাট উপজেলার নন্দীরগাঁও ইউনিয়নের কচুয়ার পার গ্রামের ৯ বছরের একটি শিশু নিখোঁজ হয়েছিল। শিশুটির পিতা প্রথমে গোয়াইনঘাট থানায় একটি জিডি ও পরে লিখিত অভিযোগ করেন। এরই সূত্র ধরে গোয়াইনঘাট থানাধীন সালুটিকর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. শফিকুল ইসলাম খান শিশুটিকে উদ্ধার করেন। জড়িতদের গ্রেফতার করেন। বর্তমানে এ বিষয়ে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। এবং ভিকটিমকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে পাঠানো হয়েছে।
Related News
জকিগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ২০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের জকিগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মিছিল ও সমাবেশের অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাRead More
সিলেটের র্যাব-৯ এখন এসআরবি-৯
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৯ এর নাম পরিবর্তন হয়ে এখন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-৯Read More



Comments are Closed