Main Menu

পপুলারের আল্ট্রাসনোগ্রামে জমজ শিশু, সিজারে মিলল এক!

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে মায়ের গর্ভে দুইটি সন্তানের অস্তিত্ব রয়েছে, সে অনুযায়ী অপারেশনের প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন চিকিৎসক। রক্ত সংগ্রহ থেকে নিয়ে সবকিছু দুটি সন্তান গ্রহণের জন্যও প্রস্তুতি নিয়েছিলেন স্বজনরা। তবে অপারেশনের পর জানা গেল দুজন নয়, মায়ের গর্ভে মূলত রয়েছে একটি সন্তান। এরপর শুরু হয় রোগীর স্বজন ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি।

সোমবার (১৭ মে) সিলেট নগরীর কাজলশাহ এলাকার আল রাইয়্যান হাসপাতালে ঘটনাটি ঘটে। তবে, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্টটি ছিলো-সিলেট নগরীর কাজলশাহের পপুলার মেডিকেল সেন্টার লিমিটেডের। এ নিয়ে চরম বিভ্রান্তিতে পড়েছে ঝরণা বেগম নামের ঐ প্রসূতি মায়ের পরিবার। তার বাড়ি সিলেট সদর উপজেলার মোগলগাও ইউনিয়নের মীরেরগাওয়ে। তিনি সৌদি প্রবাসী সদর উদ্দিনের স্ত্রী।

ঝরনা বেগমের স্বামী সদর উদ্দিন বর্তমানে দেশে অবস্থান করছেন। এ প্রতিবেদকের কাছে তিনি অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী সন্তান সম্ভবা হওয়ার পর থেকে একাধিকবার আল্ট্রাসনোগ্রাম করান। ঝরনার গর্ভে একজন সন্তান রয়েছে বলে এতে সনাক্ত হয়। সোমবার সন্তান প্রসবের সময় ঘনিয়ে এলে তাকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সকাল ৯টার দিকে হাসপাতাল থেকে একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম করার জন্য কাগজে লিখে দিলে ঝরনা বেগমের স্বজনরা নগরীর কাজলশাহের পপুলার মেডিকেল সেন্টারে তাকে নিয়ে আসেন। সেখান থেকে দুপুর ১২টায় একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট ডেলিভারী দিলে তাতে মায়ের পেটে ২ জন সন্তান রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েন স্বজনরা। এরপর ঝরনা বেগমকে ওসমানীতে না নিয়ে দ্রত পার্শ্ববর্তী আল রাইয়ান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তাৎক্ষনিকভাবে ওসমানী হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডাঃ ফাহমিনা আক্তার ফাহমিকে কল করা হলে তিনি এসে অপারেশনের প্রস্তুতি নেন। কিন্তু, অপারেশনের পর দেখা যায় সন্তান দুটি নয়, একটি। এসময় আমরা আরো একটি সন্তান কোথায় জানতে চাইলে চিকিৎসকসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, পপুলারের দেয়া রিপোর্টটি ভুল।

ওসমানী হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডাঃ ফাহমিনা আক্তার ফাহমি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, রোগীর সাথে আগের এবং সর্বশেষ তিনটি আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট ছিলো। আমরা সর্বশেষ রিপোর্ট দেখেই প্রস্তুতি নেই। তবে বাস্তবে ঝরনা বেগমের গর্ভে একটি কন্যা সন্তানই পাই। তিনি বলেন, আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টটি ভুল হতে পারে। তবে আমরা একটি সন্তানই পেয়েছি। এর বাইরে কিছুই জানি না।

সদর উদ্দিন অভিযোগ করেন, পপুলারের একটি ভুল রিপোর্টের জন্য আমরা চরম বিভ্রান্তিতে পড়েছিলাম। আমরা চাই আর যেন কেউ এমন পরিস্থিতিতে না পড়ে। আমরা এই বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অভিযোগ করবো। তিনি জানান, আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে পপুলারের ডাঃ নিরুপমা দাশ নামন নামের জনৈক চিকিসকের স্বাক্ষর রয়েছে।

এ ব্যাপারে পপুলার মেডিকেল সেন্টার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডাঃ সায়েক আজিজ চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ করে তার সহকারী জানান, তিনি অপারেশন থিয়েটারে রয়েছেন।

অবশ্য পপুলারের ম্যানেজার চন্দন আচার্য্য সংবাদ মাধ্যমকে জানান, অনেক সময় ভুলত্রুটি হয়ে যায়। কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে তারা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান তিনি।

Share





Related News

Comments are Closed