স্পেস স্টেশনের ক্যামেরায় ধরা পড়ল ভুতুড়ে আলো
প্রযুক্তি ডেস্ক: রহস্যময় এক বিদ্যুতের ঝলক দেখল আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন। তাও আবার একবার নয়, একাধিকবার। এই বিদ্যুতের ঝলকের দেখা পাওয়া গেছে বায়ুমণ্ডলের অনেক উপরের স্তরে। নীল রঙের ‘ভুতুড়ে’ আলো। বড়জোর ১ থেকে ২ সেকেন্ডের স্থায়িত্ব হয় তাদের। আকাশের কোন স্থান থেকে এই বিদ্যুতের ঝলকের জন্ম তা এখনও এক রহস্য।
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (আইএসএস) রহস্যে মোড়া এই পর্যবেক্ষণের গবেষণাপত্রটি গত ২২ জানুয়ারি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘নেচার’-এ।
ভূপৃষ্ঠের ৩৫ থেকে ৪০ হাজার ফুট উপরে উড়তে উড়তে মাঝেমধ্যে এই আলোর ঝিলিক চোখে পড়ে আন্তর্জাতিক বিমানের পাইলটদেরও। যার কারণে বেশ কয়েক বার বড়সড় দুর্ঘটনায় পড়তে হয়েছে আন্তর্জাতিক বিমানগুলোকে।
এই রহস্যময় আলোর ঝলক প্রায়ই ব্যাঘাত ঘটায় এফ এম রেডিও যোগাযোগব্যবস্থায়। নিখুঁতভাবে রেডিও সিগন্যাল পাঠানো যায় না এদের কারণে।
ব্লু জেট
নীল রঙের এই ‘ভুতুড়ে’ বিদ্যুৎ চমকগুলিকে বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয় ‘ব্লু জেট’। যেগুলি তৈরি হয় মেঘের একেবারে নিচের স্তরে। যার নাম ‘ট্রপোস্ফিয়ার’। পৃথিবীর অক্ষাংশ অনুসারে যা ভূপৃষ্ঠের ৭ থেকে ১২ কিলোমিটার উপরে থাকে। তার পরেই শুরু হয় মেঘ-রাজ্যের পরের স্তর।
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের মেঘ-রাজ্য থেকে এই বিদ্যুৎ চমকগুলিকে একের পর এক ছুটে যেতে দেখেছে মহাকাশের দিকে। বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন দিক থেকে।
নাসার জেট প্রোপালসন ল্যাবরেটরির (জেপিএল) একটি সূত্র জানাচ্ছে, এই ব্লু জেটগুলিকে ভূপৃষ্ঠের ১২ কিলোমিটার উপর থেকে ১ বা ২ সেকেন্ডের মধ্যে ৫০ কিলোমিটার উচ্চতার দিকে ছুটে যেতে দেখা গিয়েছে। তার পরই তারা উধাও হয়ে গিয়েছে।
‘তবে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের ঠিক কোন জায়গায় এই ব্লু জেটগুলির উৎপত্তি হচ্ছে, কীভাবে হচ্ছে আর তারা এক দুই সেকেন্ডের মধ্যে মেসোস্ফিয়ারের ঠিক কোন জায়গায় পৌঁছে উধাও হয়ে যাচ্ছে, তা এখনও একেবারেই রহস্যাবৃত।
স্প্রাইট্স এবং এলভ্স
ব্লু জেট ছাড়াও তিন ধরনের আলোর ঝিলিক দেখা যায় আমাদের এই বাসযোগ্য গ্রহের মেঘ-রাজ্যে।
তার একটির নাম ‘স্প্রাইট্স’। এগুলির উৎপত্তি হয় স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের ঠিক উপরের স্তর মেসোস্ফিয়ারে। এগুলির রং লাল। এগুলি বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তর থেকে নেমে আসে নিচের দিকে। পৃথিবীর দিকে।
অন্যটির নাম ‘এলভ্স’। যা আদতে আলোর বলয়। ‘রিং’। যা চার পাশে উত্তরোত্তর বেড়ে ওঠে মিলিয়ে যায়। পুকুরে জলের তরঙ্গের মতো। এগুলির রং হয় সাদা ও সবুজ। এগুলি পৃথিবীর দিকে নেমে আসে না। আবার মহাকাশের দিকেও ছুটে যায় না।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা
Related News
যেভাবে ফোনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করছে ভয়ংকর ম্যালওয়্যার
প্রযুক্তি ডেস্ক: অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে সাইবারনিরাপত্তা গবেষকেরা। ‘ম্যানট্যাক্স ওট্যাক্স’ নামেরRead More
৬৪ জেলায় ফ্রি’তে প্রশিক্ষণের সু্যোগ, মিলবে খাবার ও যাতায়াত ভাড়া
প্রযুক্তি ডেস্ক: দেশের ৬৪ জেলার শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবক ও যুব নারীদের বিনামূল্যে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেবেRead More



Comments are Closed