Main Menu

হত্যা মামলায় সবাই পলাতক, একা ঘরে বৃদ্ধার মৃত্যু

Manual1 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ৮০ বছরের অসুস্থ বৃদ্ধা জুবেদা খাতুনকে একা রেখে ঘর ছেড়ে পালিয়েছিলেন তার ছেলে ও পরিবারের সদস্যরা। একটি হত্যা মামলার আসামি হওয়ায় আত্মগোপনে গিয়েছিলেন তারা। একজন আছেন জেলে। এরপর থেকে বৃদ্ধা জোবেদা খাতুন একাই ঘরে থাকতেন। পাড়া প্রতিবেশীও এই বাড়িতে যাওয়া আসা বন্ধ করে দেন।

ঘরে একা থেকে অসুস্থ অবস্থায় মারা যান বৃদ্ধা জোবেদা খাতুন। কিন্তু স্বজনরা কেউ না থাকায় বৃদ্ধার লাশ ঘরে থেকেই পচন শুরু হয়।

Manual1 Ad Code

সোমবার (২১ ডিসেম্বর) কুলাউড়া থানা পুলিশ ঘরের বিছানা থেকে জুবেদা খাতুনের পচন ধরা লাশ উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভূকশীমইলের আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা ও পৌরশহরের ব্যবসায়ী আব্দুল মনাফ গত ১২ ডিসেম্বর খুন হন। তারই চাচাতো ভাই শাহীনূর রহমান শাহিদসহ স্বজনরা মিলে মনাফকে হত্যা করে তাদের বাড়ির পিছনে একটি গর্তে মাটিচাপা দিয়ে পুঁতে রাখে বলে অভিযোগ ওঠে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ৩ দিন পর ১৫ ডিসেম্বর পুলিশ শাহীনূর ও তার ভাইকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা হত্যা করে লাশ মাটিচাপা দিয়ে রাখার বিষয়টি স্বীকার করে।

Manual6 Ad Code

পরে পুলিশ ওইদিন রাতে শাহীনূরদের বাড়ির পিছনে স্যাফটিক ট্যাংকির পাশে গর্ত থেকে মাটিচাপা দেওয়া লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় শাহীনূর রহমান ও তার বড় ভাই আতিকুর রহমান চান মিয়াসহ ৭ আসামীর ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

এদিকে এঘটনার পর থেকে শাহীনূর ও আতিকুর রহমানের স্ত্রী-সন্তানরা এবং তাদের ভাই শাহিদুল বৃদ্ধা মা জুবেদা খাতুনকে একা ঘরে রেখে পালিয়ে যান। ওই বৃদ্ধার মেয়ে আফসা বেগম স্বামীর বাড়ি থেকে সোমবার সকালে বাবার বাড়িতে এসে ঘরে অনেক ডাকাডাকি করে মায়ের কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে বিষয়টি থানা পুলিশকে জানান।

খবর পেয়ে কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ বিনয় ভূষণ রায়সহ থানা পুলিশ সেখানে গিয়ে ঘরের ভিতরে বিছানা থেকে জুবেদা খাতুনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে।

Manual1 Ad Code

পুলিশ আরো জানায়, দুই তিন দিন আগে হয়তো বৃদ্ধা অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। লাশে পচন ও দূর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে।

কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ বিনয় ভূষণ রায় লাশ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সুরতহালে বৃদ্ধার শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মনাফ হত্যায় জেল হাজতে থাকা শাহীনূর ও আতিকুরের স্ত্রী সন্তানসহ তার ভাই তাদের বৃদ্ধা মাকে একা বাড়িতে রেখে ফেলে যায়। বৃদ্ধা অসুস্থ অবস্থায় হয়তো ঘরে মারা যেতে পারেন। অধিকতর তদন্ত ও নিশ্চিতের জন্য ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

Manual3 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code