Main Menu

বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুর, ছাত্র ইউনিয়নের নিন্দা

আসিফ আল-মামুন, জাবি প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নেতা বিপ্লবী বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে ছাত্র ইউনিয়ন।

কুমারখালী উপজেলার কয়া বাঘা যতীন কলেজের সামনে অবস্থিত বাঘা যতীনের ভাস্কর্য শ্য বৃহস্পতিবার রাতের কোনো এক সময় ভাঙচুর করা হয় বলে জানা গেছে। ১৮৭৯ সালের ৭ ডিসেম্বর তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বাংলা প্রেসিডেন্সির কয়াগ্রামে (বর্তমানে কুষ্টিয়া) জন্ম নেয়া এই বিপ্লবীর ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র আন্দোলনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সেসময় বাংলার প্রধান বিপ্লবী সংগঠন যুগান্তর দলের নেতা ছিলেন বাঘা যতীন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কিছুদিন আগে কলকাতায় জার্মান যুবরাজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি জার্মানি থেকে অস্ত্র ও রসদের প্রশিক্ষণ নেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্র বলে পরিচিত ‘জার্মান প্লট’ তারই মস্তিস্কপ্রসূত। সশস্ত্র সংগ্রামের এক পর্যায়ে সম্মুখযুদ্ধে উড়িষ্যার বালেশ্বরে তিনি গুরুতর আহত হন এবং বালাসোর হাসপাতালে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

এক যুক্ত বিবৃতিতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সভাপতি মিখা পিরেগু ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল রনি বলেন, ব্রিটিশ ভারতের সকল জাতিসত্ত্বার স্বাধীনতার সংগ্রাম ছিল এক সূত্রে গাঁথা। প্রধান লক্ষ্য ছিল ইংরেজদের বিতাড়ন করা। আর ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসকদের বিরুদ্ধে যারা স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রাম করেছেন, যাদের আত্মদান ইংরেজ শাসকদের বুকে কাঁপন ধরিয়েছে, তাদের অন্যতম বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়। দেশমাতৃকার প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা, অপরিসীম সাহস যাকে অগ্নিযুগের বিপ্লবীদের প্রথম সারিতে স্থান দিয়েছে, সেই বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুরকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।”

ধর্মের দোহাই দিয়ে ভাস্কর্যের বিরোধীতা করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভূলণ্ঠিত করার মধ্য দিয়ে যারা বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করছে আর অবৈধভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকতে যারা তাদের আশকারা দিচ্ছে তাদের প্রতি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, জণগণকে সাথে নিয়ে তাদের এই চক্রান্ত রুখে দিতে ছাত্র ইউনিয়ন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

 

Share





Related News

Comments are Closed