জাবিতে উন্নয়নের ভারে বিধ্বস্ত সড়ক!
জাবি প্রতিনিধি: দেশে করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার পর পরই সারা দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হওয়ার চার মাস পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় কবে খুলবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম। তবে চলতি মাসের শুরুর দিকে অনলাইন ক্লাস নিয়ে বেশ তোড়জোড় শুরু হলেও তা খুব একটা ফলপ্রসু হচ্ছে না। তবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বেশ জোরেসোরেই চলছে।
অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম ধাপে তিনটি ছাত্রী হলের কাজ আগেই শুরু হয়েছে। কিন্তু স্থান নির্বাচন নিয়ে জটিলতার প্রেক্ষিতে আন্দোলন চলমান থাকায় তিনটি ছাত্র হলের কাজ স্থগিত ছিল। করোনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। এরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছনের অংশে শহীদ রফিক-জব্বার হল সংলগ্ন মাঠে স্থগিত থাকা ছাত্রদের তিনটি হলের কাজ পুরোদমে শুরু করে প্রশাসন। আর এই কাজ করতে যেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরের প্রধান কয়েকটি সড়ক চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
শোনা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে পারে। যদি তাই হয় সেক্ষেত্রে বেশ চাপে পড়বে প্রশাসন। কারণ, হাতে খুব কম সময় আছে। এতো অল্প সময়ে এই সড়ক মেরামত করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অফিস। একই কথা জানান প্রকল্প পরিচালক নাসির উদ্দিনও। আর সড়ক মেরামত না করতে পারলে শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট কেউই চলাচল করতে পারবে না।
মূলত প্রশাসনের গাফিলতি এবং দুরদর্শিতার অভাবেই এমনটা হয়েছে বলে মত সংশ্লিষ্টদের। আর প্রকল্প পরিচালক নাসির উদ্দিনের কথায়ও উঠে আসে এমন আভাস।
তিনি বলেন, ‘কাজ করতে গেলে সড়ক কিছুটা নষ্ট হবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এতোটা যে নষ্ট হবে এটা আমাদের ধারণা ছিল না।’
আর প্রশাসনের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে আছেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন একজন শিক্ষকের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বললে তিনিও কিছু জানেন না বলে জানান। বলেন, ‘প্রকল্পের কোন বিষয়ই আমাকে জানানো হয় না। ফলে এ বিষয়েও আমি কিছুই জানি না।’
এদিকে সড়কের ভাঙা অংশগুলো কারা কী ভাবে মেরামত করবে তা নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মেরামত করবে না যেসব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের জন্য সড়ক নষ্ট হয়েছে তারা মেরামত করবে তা এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। এমনকি কাজ শুরুর সময় এসব বিষয়ে কোন কথাও হয়নি।
জানতে চাইলে প্রথমে প্রকল্প পরিচালকও বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। পরে অবশ্য জানান, ‘যেহেতু আমরা কাজ করাচ্ছি এবং তাদের গাড়ি চলার কারণে সড়ক নষ্ট হয়েছে, সেহেতু দুই পক্ষ মিলেই ঠিক করতে হবে। কারও একার উপর তো বিষয়টা চাপানো যাবে না। এছাড়া উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে নতুনভাবে সড়ক তৈরির জন্য আলাদা বাজেট আছে। কিন্তু এখন ওই বাজেট থেকে অর্থ শেষ করলে পরে পরিকল্পনা অনুযায়ী সড়কের কাজ করা যাবে না। তাই আলোচনা করে দুইপক্ষের জন্য যেটা ভালো হয় সেভাবেই কাজ করতে হবে।’
তবে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানই ভাঙা অংশগুলো মেরামত করবে বলে জানান প্রশাসনের সাথে সংশ্লিষ্ট অধ্যাপক পদমর্যাদার একজন শিক্ষক। পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। তাদের কাজের কারণে সড়ক নষ্ট হয়েছে। এখন তাদের কাজের স্বার্থেই ঠিক করতে হবে। সাময়িকভাবে হলেও খুব দ্রুতই তারা মেরামতের কাজ শুরু করবে।
সরেজমিন ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ছাত্রী হলগুলোর ঢালাইয়ের কাজের জন্য উপকরণ মিক্স করা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশমাইল এলাকায়। কিন্তু ছাত্র হলগুলোর কাজ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঢালাইয়ের কাজের জন্য উপকরণ ক্যাম্পাসে মিক্স করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে। বর্তমানে হলগুলোর বেজমেন্টের কাজ চলছে। এ কাজের জন্য ঢাকা থেকে গাড়িতে করে ঢালাই মিক্স ক্যাম্পাসে নিয়ে এসে কাজ করা হচ্ছে। তবে তাদের এমন মনোভাবের কারণ হিসেবে নাসির উদ্দিন বলেন, ‘এই হলগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। সেজন্য হয়ত তাদের যেখানে কাজ করতে সুবিধা হচ্ছে তারা সেখানে কাজ করছে।’
প্রতিটি হলের জন্য সাতশ গাড়ি প্রতিদিন ক্যাম্পাসের ভিতর চলাচল করছে। এতে প্রধান ফটক (ডেইরি গেট) থেকে নতুন কলা ভবন, নতুন রেজিস্ট্রার এবং বটতলার বিভিন্ন অংশের কার্পেটিং উঠে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে নতুন কলার সামনে এবং নতুন রেজিস্ট্রার থেকে বটতলা পর্যন্ত সড়কের পুরো অংশ বড় বড় গর্ত হয়ে দেবে গেছে। কোথাও কোথাও সড়কের দুপাশের মাটিও সরে গেছে। দেখে কোন ভাবেই বুঝার উপায় নেই কিছুদিন আগেও এটা মসৃন সড়ক ছিল। ফলে ক্যাম্পাসের বাসিন্দাদের জন্য হাঁটা-চলা করা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে গেছে। আর বৃষ্টি হলে তো দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।
গত সপ্তাহে নতুন রেজিস্ট্রারের সামনের সড়ক ধরে হাঁটতে হাঁটতে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের এক শিক্ষকের সাথে। তিনি বলেন, ‘এখন তো কষ্ট হলেও হাঁটা যাচ্ছে। কিন্তু বৃষ্টি হলে হাঁটা অসম্ভব।’ ঈদুল আযহার অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঈদের সময় বেশ কয়েকদিন বৃষ্টি হয়েছে। ঐ সময় তো এদিক দিয়ে হাঁটা যেতো না। একদিন বিকেলে বের হয়ে পরে আর ভয়েই বের হয়নি।’ একইরকম অভিজ্ঞতা জানান দর্শন বিভাগের একজন অধ্যাপকও।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর এসব সড়ক দিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত যাতায়াত করবে। সেক্ষেত্রে ভারী যান চলাচল করলে যেকোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করার জন্য কোন বিকল্প সড়কের পরিকল্পনা রাখা হয়নি। তবে প্রকল্প পরিচালক একটি সড়কের ধারণা দেন। বলেন, ‘সেটি হবে একটি নির্জন সড়ক। যেখান দিয়ে মানুষের চলাচল খুব একটা থাকবে না।’
কিন্তু তিনি যেভাবে সড়কের ছক দেখান তার কোনটিই নির্জন নয়; আর কিছু অংশে আদতে কোন সড়কই নেই। তারমতে, ক্যাম্পাস খোলার পর গাড়িগুলো বিশমাইল গেট দিয়ে প্রবেশ করবে। সেখান থেকে স্কুল-কলেজের সামনের সড়ক হয়ে চৌরঙ্গী হয়ে মেডিকেলের সামনে দিয়ে আল বেরুনী হলের খেলার মাঠের ওপর দিয়ে গাড়িগুলো নির্মাণ কাজের জায়গায় চলে যাবে।
Related News
ঢাকা-চট্রগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক
Manual5 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: গত কয়েক দিনের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়িRead More
উপকেন্দ্রে আগুন, বিদ্যুৎহীন ঢাকার একাংশ
Manual6 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ঢাকার তেজগাঁওয়ের এফডিসি মোড় এলাকার একটি বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রে (সাবস্টেশন)Read More



Comments are Closed