Main Menu

দ্বিতীয় দফা বন্যা, পানিতে ভাসছে সুনামগঞ্জ

Manual2 Ad Code

আল-হেলাল, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ বন্যা শুরু হয়েছে ভাটির জনপদ সুনামগঞ্জে। ইতিমধ্যে জেলার প্রধান নদী সুরমার পানি বৃদ্ধি পেয়ে সুনামগঞ্জ পৌরসভার নবীনগর, ষোলঘর, কাজিরপয়েন্ট, উকিলপাড়া, মধ্যবাজার, পশ্চিমবাজার, আরপিননগর, তেঘরিয়া, বড়পাড়া, আমপাড়া আবাসিক এলাকা এবং সদর উপজেলার মইনপুর, ইব্রাহিমপুর, সদরগড় ও অচিন্তপুরসহ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

সুরমার পাশাপাশি তাহিপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীতেও পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলার দোয়ারাবাজার, তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জেলা সদরের সাথে এই তিন উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী রঙ্গারচর, সুরমা ও জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের প্রধান সড়ক ডুবে যাওয়ায় জেলা সদরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন ৩ ইউনিয়নের মানুষ।

মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে গত ৩ দিনে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে আবারও শুরু হয়েছে প্রবল পাহাড়ী ঢল। একদিকে বজ্রপাতসহ শিলাবৃষ্টি অন্যদিকে প্রবল পাহাড়ী ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শনিবার বিকেল পর্যন্ত সুরমা নদীতে ৬০ সেন্টিমিটারের উপরে পানি বেড়েছে। এই সময়ে জেলা সদরে ১৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

Manual7 Ad Code

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে গত বৃহস্পতিবার সুরমার পানি বিপদসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার নীচে থাকলেও শনিবার সকাল ৯টায় সুরমার পানি বিপদসীমার ৭.৮০ সেন্টিমিটার অতিক্রম করে ৮.৩৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য গত ২৫ থেকে ২৯ জুন সুনামগঞ্জে প্রথম দফায় বন্যা হয়। এতে জেলা শহর নিমজ্জিত হয়ে ৭ উপজেলার ৬৪ ইউনিয়নে বন্যা দেখা দেয়। ক্ষতিগ্রস্থ হয় মানুষের বসতবাড়ী গবাদিপশুসহ মূল্যবান সহায় সম্পদ। ২৯ জুন শহরের পানি নেমে গেলেও গ্রামাঞ্চলে এখনও বিরাজ করছে বন্যা পরিস্থিতি। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত আবারও লাগাতার পাহাড়ী ঢল, বৃষ্টি বন্যায় ভেসে যাচ্ছে একটির পর একটি গ্রাম।

সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত বলেন, সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজ ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর আশ্রয় কেন্দ্রে উপদ্রতরা ইতিমধ্যে আশ্রয় নিয়েছে। পৌর এলাকায় ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করার প্রস্তুতি চলছে।

সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি আরিফ আদনান বলেন, উপজেলার ১৯টি হাইস্কুল ও ১২৯টি প্রাইমারী স্কুলকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

Manual4 Ad Code

জেলা প্রশাসনের বন্যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সুত্রে জানা যায়, ১১ উপজেলা ও ৪ পৌরসভায় ৪২ হাজার ৫৭টি পরিবার বন্যায় এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ৮১টি ইউনিয়নে ২৮০ মে:টন চাল ও ১৬ লাখ টাকা, শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সবিবুর রহমান বলেন, সুনামগঞ্জে সুরমার পানি বিপদসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলায় আরও ৩ থেকে ৪ দিন ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে। সবাইকে সতর্ক থাকার আহবান জানান তিনি।

Manual4 Ad Code

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, জেলার ১১টি উপজেলায় বন্যা তথ্য কেন্দ্র ও আশ্রয়কেন্দ্র খোলা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

Manual1 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code