Main Menu

সিলেটে ৪ হাসপাতাল ঘুরে এম্বুলেন্সেই ব্যবসায়ীর মৃত্যু!

Manual8 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের চারটি হাসপাতালে ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে এম্বুলেন্সেই মারা গেছেন নগরীর বন্দরবাজার এলাকার এক ব্যবসায়ী। আজ শুক্রবার সকালে হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন না পেয়ে চিকিৎসার অভাবেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন বন্দরবাজারের আর এল ইলেকট্রনিকের স্বত্বাধিকারী ও নগরীর কুমারপাড়ার বাসিন্দা ইকবাল হোসেন খোকা (৫৫)।

Manual7 Ad Code

চিকিৎসা না পেয়ে বাবাকে হারানো ছেলে এই হৃদয় বিদারক ঘটনার বর্নণা করেছেন শুধুমাত্র অন্য কারো পরিবারে যাতে এরকম ঘটনা না ঘটে।

Manual1 Ad Code

ইকবাল হোসেন খোকার ছেলে তিহাম জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তার বাবার বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। তখন তিনি প্রথমেই সোবাহানীঘাট এলাকার একটি হাসাপাতালে এম্বুলেন্সের জন্য কল করেন। এম্বুলেন্স বাসায় আসার পর দেখা যায় এর সাথে যে অক্সিজেন সিস্টেম রয়েছে সেটি ভাঙ্গা। তাই এই অবস্থায়ই রোগীকে সোবাহানীঘাটের ঐ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি বার বার তাদেরকে অক্সিজেনের ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ করলেও তারা রোগীকে রেখে নিয়মকানুন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যান। এক পর্যায়ে জানান তারা রোগীকে রাখবেন না, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে নিয়ে যেতে। অনেক অনুরোধ করার পরও তারা অক্সিজেনের ব্যবস্থা করে দেননি। পরে আমরা রোগীকে নিয়ে দক্ষিণ সুরমার নর্থ ইস্ট হাসপাতালে যাই। সেখানে গেলে কর্তৃপক্ষ জানান তাদের হাসপাতালে সিট নেই, রোগীর চিকিৎসা দেয়া সম্ভব নয়। তখন আমরা পরিচিত এক চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করি। তিনি আমাদের পরামর্শ দেন শহীদ ডা. শামসুদ্দিন হাসপাতালে যাওয়ার জন্য।

তিহাম অভিযোগ করে বলেন, শামসুদ্দিন হাসপাতালে গিয়ে তারা সবকিছু বন্ধ পান। ১০-১৫ মিনিট পরে এক নিরাপত্তাকর্মী এসে জানান হাসপাতালের সবাই ঘুমে। অন্য কোথাও রোগীকে নিয়ে যেতে। তখন তারা সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দিকে রওয়ানা হন। সেখানে জরুরী বিভাগে যাওয়ার পর তারা সিসিইতে নিয়ে একটি ইসিজি করেন। এরপরই হাসপাতালের ইর্মাজেন্সিতে কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার বাবাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ইকবাল হোসেন খোকার ভাই জাকির হোসেন জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে তার ভাইকে আল হারামাইন হাসপাতালে নিয়ে গেলে তারা কোন চিকিৎসা দেয়নি। তারা নানা ফর্মালিটি দেখিয়ে সময় নষ্ট করলেও রোগীকে কোন চিকিৎসা করেনি। আমরা বার বার তাদেরকে অনুরোধ করেও তাদের সাহায্য পাইনি।

তিনি বলেন- গত কয়েকদিন আগেও তার ভাই এই হাসপাতালে প্রায় ২০ হাজার টাকার পরীক্ষা করিয়েছেন। কিন্তু তবুও আজ তারা রোগীকে কোন চিকিৎসা করেনি।

এই ব্যাপারে আল হারামাইন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক নাহিয়ান চৌধুরী বলেন, সকালে যে সময় ঐ রোগী আমাদের হাসপাতালে এসেছিলেন তখন তার আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন ছিল৷ তিনি গত ৩-৪ দিন আগে আমাদের হাসপাতালে ডা. শাহেদ আহমদকে দেখিয়েছিলেন। তখন ডাক্তার তাকে কিছু টেস্ট দেন এবং জ্বর, শ্বাসকষ্ট থাকায় করোনা পরীক্ষা করারও পরামর্শ দেন। আমাদের হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড থাকলেও আইসিইউ ব্যবস্থা নেই। তাই আমরা তাকে দ্রুত নর্থ ইস্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলি। আমাদের আইসিইউতে ৫-৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন। এই অবস্থায় আমরা করোনা সন্দেহভাজন রোগী কিভাবে আইসিইউতে নেব।

এদিকে, জাকির জানান- গত মঙ্গলবার (২ জুন) শামসুদ্দিন হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়েছিলেন ইকবাল হোসেন। কিন্তু এখনো তার রিপোর্ট আসেনি।

দেশের সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে কোভিড-১৯ রোগীদেরও চিকিৎসা দেয়ার সরকারি নির্দেশনা থাকার পরও শংকটাপন্ন অবস্থায় সিলেটের কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল ভর্তি না করায় ক্ষোভ জানিয়েছেন মারা যাওয়া রোগীর পরিবারের স্বজনরা।

Manual3 Ad Code

এর আগে গত ৩১ মে রাতে সিলেটের ছয়টি হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যান নগরীর কাজিরবাজার মোগলটুলা এলাকার লেচু মিয়ার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৬৩)। একই দিনে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে স্ট্রোক করে সিলেটে আসা এক রোগী ৭টি হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে মারা যান। এনিয়ে তীব্র সমালোচনার মধ্যে আবারও এমন ঘটনা ঘটলো।

এদিকে, এই দুটি ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে সতর্ক করে চিঠি দেয়া হলেও আবারো ঘটল প্রায় একই ধরণের ঘটনা।

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান বলেন, অভিযোগের ব্যাপারে শুনেছি। সব হাসপাতালকে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা তদন্ত করে দেখবো।

Manual5 Ad Code

 

 

 

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code