সিলেটে পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষ, আহত ৫০
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমার কদমতলীতে দুই দল বাস শ্রমিকদের মধ্যে দুই দফা সংঘর্ষ হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। নিক্ষেপ করা হয় ইট-পাটকেল। এতে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর ১টার দিকে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম আহমদ ফলিকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এনে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন সাধারণ শ্রমিকরা। কদমতলী বাস স্ট্যান্ডে এ বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।
এদিকে, ফলিকের বিরুদ্ধে পরিবহন শ্রমিকদের একটি পক্ষের এই আন্দোলনে অপর পক্ষও (ফলিকের অনুসারী) মাঠে নামে। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে বাস টার্মিনাল এলাকায় উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
প্রায় ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে আহত হন অন্তত ৪০ জন। ভাঙচুর করা হয় মিতালী পরিবহনের একটি বাস ও এনা পরিবহনের কাউন্টার। ওই সময় পুলিশ ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও র্যাব ৩ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
এর দেড় ঘন্টা পর, মঙ্গলবার বিকাল পৌনে ৬টার দিকে বাস টার্মিনাল এলাকায় আবারও উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বৃষ্টির মতো একপক্ষ আরেক পক্ষকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আরো ১০ জন।
এ সময় সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ প্রায় ৩০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি খায়রুল ফজল।
তিনি জানান, পুলিশ উভয়পক্ষকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দিয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মিতালী শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মিলাদ আহমদ রিয়াদ জানান, শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিলের প্রায় আড়াই কোটি টাকা ছিল। কিন্তু সেলিম আহমদ ফলিক আমাদের মাত্র ৪১ লাখ টাকার হিসাব দিয়েছেন। বাকি ২ কোটি টাকার হিসেব চাইলে তিনি শ্রমিকদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। এরপর শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে ফলিককে প্রতিহত করার ঘোষণা দেয়।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিলের পুরো টাকার হিসাব না দিলে তাকে কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
সিলেট সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম আহমদ ফলিক ব্যস্ত অছেন জানিয়ে ফোন কেটে দেন।
সিলেট জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু সরকার বলেন, আমরা দুইপক্ষকে নিয়ে বসার জন্য এসেছিলাম। কিন্তু তারা ছোট একটা বিষয় নিয়ে সংঘর্ষে জড়ালেন। তবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি সমঝোতা করার জন্য।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি খায়রুল ফজল বলেন, ‘সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ দু’দফায় ৪০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি এবং র্যাব ৩ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত আছে বলেও জানান তিনি।’
Related News
জিডিএফ’র আধুনিক ভবন নির্মাণ বিষয়ে সিসিক বরাবরে স্মারকলিপি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: গ্রীণ ডিসএ্যাবল্ড ফাউন্ডেশন (জিডিএফ) পরিচালিত জিডিএফ-ডিকেএফ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদী স্থায়ী উন্নয়নRead More
খাদিমনগরে রুজি হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন, দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবী
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগর ইউনিয়নের সাহেবের বাজার এলাকার হারিছ আলী মেয়ে রুজিRead More



Comments are Closed