Main Menu

‘আমার ছেলে ছিনতাইকারী নয়, ষড়যন্ত্রের শিকার’

Manual8 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক : ছিনতাইর মামলায় কারাগারে আটক সিলেট জেলা ছাত্রলীগ নেতা সারোয়ার হোসেন চৌধুরী ছিনতাইকারী নয় বলে দাবি করেছেন তার মা হোসনা বেগম চৌধুরী। তিনি আজ রবিবার সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানান।

Manual2 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে হোসনা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে ছিনতাইকারী নয়, ষড়যন্ত্রের শিকার। মিথ্যা মামলায় তাকে ফাঁসানো হয়েছে।’

ছাত্রলীগ নেতা সারোয়ারকে গ্রেফতারে পুলিশের নাটকীয়তা উল্লেখ করে হোসনা বেগম বলেন, গত মঙ্গলবার (২০ মে) রাত দুইটার দিকে সিলেট কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাদের ঘর তল্লাশিতে আসেন। এ সময় পুলিশ জানায়, গত ১৮ মে দুপুরে সিলেট নগরের নয়াসড়কে জনৈক মহিলার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সারোয়ারকে গ্রেফতার করে থানাহাজতে রাখা হয়েছে এবং ছিনতাইকাজে ব্যবহৃত জিনিসপত্র খুঁজতে পুলিশ বাসায় তল্লাশি চালাবে। কিন্তু তল্লাশিকালে ঘর থেকে কোনো আলামত উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

Manual1 Ad Code

তিনি বলেন, সারোয়ার ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং সে একজন ব্যবসায়ী। সে দক্ষিণ সুরমা ছাত্রলীগের সহসভাপতি এবং জেলা ছাত্রলীগ নেতা। তার রাজনৈতিক অঙ্গনের পরিচিত বড় ভাই জয়নাল আবেদিন ডায়মন্ডকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে শুনে এ বিষয়ে খোঁজখবর নিতে কয়েকজন বন্ধুসহ ২০ মে দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে কোতোয়ালি থানায় যায়। ওই সময় ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে’ সারোয়ারকে আটক করে ছিনতাই মামলায় গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। গ্রেফতারকালে তার কাছ থেকে দুইটি মোবাইল ফোন ও তার পকেটে থাকা ৮ হাজার টাকা পুলিশ নিয়ে নেয়।

Manual4 Ad Code

পুলিশের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা দাবি করে হোসনা বেগম বলেন, ১৮ মে ছিনতাইয়ের দিন ঘটনার সময় সারোয়ার তার বন্ধু মাহমুদ হাসানের (টিলাগড়ের শাপলাবাগস্থ) বাসায় ঘুমিয়ে ছিলো। আগের দিন (১৭ মে) রাত ১১ টা ৪৪ মিনিটে সারোয়ারের ওই বাসায় ঢুকা এবং পরদিন (১৮ মে) বিকেল ৪ টা ৫৪ মিনিটে ওখান থেকে বের হওয়ার বিষয়টি ওই বাসার সিসিটিভি ফুটেজে ধারণ করা আছে। অপরদিকে, পুলিশের সংগ্রহকৃত ছিনতাইয়ের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সারোয়ারের পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং তার রাজনৈতিক অঙ্গনের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ নিশ্চিত হন যে- ছিনতাইকারী দুইজনের কারো চেহারার সঙ্গেই সারোয়ারের চেহারার মিল নেই। বিষয়টি পুলিশের নজরেও আনেন তারা। কিন্তু পুলিশ তাতে ভ্রুক্ষেপ করেনি।

অন্যদিকে, গত ১৯ মে সারোয়ার জিন্দাবাজারস্থ এক্সিম ব্যাংকের শাখা থেকে নিজ স্বাক্ষরিত একটি চেকের পাতা দিয়ে দুই লক্ষ টাকা উত্তোলন করে। ওই দুই লক্ষ টাকার কিছু টাকা তার পকেটে ছিলো। পরবর্তীতে এই টাকা থেকে ৮ হাজার টাকা ‘ছিনতাইকৃত টাকা’ বলে চালিয়ে দেয় পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, সারোয়ারকে গ্রেফতারের ঘটনাস্থল নিয়ে পুলিশের এজাহারের বিবরণ আর গণমাধ্যমকে দেয়া বক্তব্য সাংঘর্ষিক। গণমাধ্যমকে পুলিশ বলেছে- সারোয়ারকে ঘর থেকে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু এজাহারে উল্লেখ- কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও সারোয়ার গত ১৯ মে রাতে থানায় যে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যায় সেটি তার বন্ধু মাহমুদ হাসান ব্যবহার করে। সেই মোটরসাইকেলটি ১৮ তারিখের ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত হয়েছে বলে মামলার বিবরণীতে পুলিশ তুলে ধরে। কিন্তু এই মোটরসাইকেলটি নাম্বার প্লেটবিহীন ও রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদিত। আর পুলিশের সংগ্রহকৃত ছিনতাইয়ের সিসিটিভি ফুটেজে ছিনতাইকারীদের কাছে যে মোটরসাইকেলটি দেখা গেছে সেটিতে নাম্বার প্লেট লাগানো রয়েছে।

হোসনা বেগম তার ছেলে সারোয়ার বর্তমানে অসুস্থ উল্লেখ করে বলেন, গত এপ্রিল মাসের ২২ তারিখ এক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয় সারোয়ার। দুইদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরে। সে এখনও পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। ছিনতাই ঘটনার দুই দিন আগে (১৫ মে) সারোয়ার ডাক্তার দেখিয়ে আসে। ওই দিন ডাক্তার তাকে পূর্ণ এক মাস ঘরে বিশ্রামের পরামর্শ দেন।

সবশেষে হোসনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলে সম্পূর্ণ নিরপরাধ। পুলিশ ওই ছিনতাই মামলার বিবরণে বলেছে- তার বিরুদ্ধে আরও দুইটি মামলা রয়েছে। কিন্তু সে দু’টি মামলা রাজনৈতিক, কোনো চুরি-ছিনতাইয়ের মামলা নয়। আমার নিরপরাধ ও অসুস্থ ছেলেকে কেন নাটকীয়ভাবে গ্রেফতার করে কারাবাস করানো হচ্ছে- এই ব্যথাতুর প্রশ্নটি আপনাদের মাধ্যমে আজ আমি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে রাখছি।’

Manual1 Ad Code

এ বিষয়ে হোসনা বেগম পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code