Main Menu

জৈন্তাপুরে সুমি বেগমকে বহিস্কার করল আ’লীগ

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি: বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও মোবাইলে ভিডিও ধারনের ঘটনার মামলায় গ্রেফতার হওয়া জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সুমি বেগমকে সংগঠন থেকে সাময়িক ভাবে বহিস্কার করেছে উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগ।

জৈন্তাপুর উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জয়মতি রানী জানান, সংবাদ মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর রোববার (১০ মে) বিকেলে সংগঠনের এক জরুরী সভা অনুষ্টিত হয়। সভায় সর্বসম্মতি ক্রমে ১নং নিজপাট ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি পদ হতে সুমি বেগমকে সাময়িক ভাবে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। তাকে বহিস্কারের বিষয়টি জেলা মহিলা আওয়ামীলীগকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এরআগে গত ৯ মে জৈন্তাপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে স্বামীসহ আওয়ামী লীগ নেত্রী সুমি বেগমকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

গ্রেপ্তার সুমি বেগম (৩০) জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও তার স্বামী কয়েছ আহমদ (৩৫) জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের কমলাবাড়ী মোকামটিলা এলাকার রেনু মিয়ার ছেলে। সুমি বেগম অভিযোগকারী ওই ছাত্রীর খালা।

জৈন্তাপুর পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় ওই তরুণী বর্তমানে জৈন্তাপুরে নিজ বাড়িতে রয়েছেন। খালা সুমি বেগম অনেক সময় তরুণীকে তার বাড়িতে ডেকে নেন। গত ২ মে ইফতারের দাওয়াত দিয়ে ওই তরুণীকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান সুমি। ইফতার শেষে রাত ৮টার দিকে সুমি বেগম ওই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে চায়ের সাথে নেশা জাতীয় কিছু মিশিয়ে খেতে দেয়। এই চা খেয়ে অচেতন হয়ে পড়েন তরুণী। এরপর সুমি বেগমের সহায়তায় তার স্বামী কয়েছ আহমদ ভিকটিমকে ধর্ষণ করে এবং মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে।

পরে চেতনা ফিরে আসলে চিৎকার করে ওঠে ওই তরুণী। এসময় কয়েছ আহমদ তার মুখ চেপে ধরে।

পুলিশ জানায়, পরে ওই তরুণীর বাবা এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান এবং আত্নীয় স্বজনের পরামর্শে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করেন।

পরে ৪ মে এই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী নিজে বাদী হয়ে জৈন্তাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। র‌্যাব-৯ এর সহযোগিতায় শুক্রবার মধ্যরাতে সিলেট থেকে কয়েছ আহমদ ও তার স্ত্রী সুমি বেগমকে আটক করে।

জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামল বনিক বলেন, আসামীরা এই অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। আমরা তাদের ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করেছি।

জানা যায়, খালু কর্তক ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী সমাজ কল্যান বিভাগে অনার্স ২য় বর্ষ ও পাশাপাশি সিলেটের একটি বেসরকারী বিশ্ববিবদ্যালয়ে এলএলবি ১ম সেমিষ্টারে অধ্যায়নরত।

Share





Related News

Comments are Closed