Main Menu

বাংলাদেশে ঢুকে কিশোরকে গুলি করল বিএসএফ

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ হিংস্রতায় প্রাণ গেল আরও এক বাংলাদেশির। দেশের অভ্যন্তরে বিএসএফ’র গুলিতে গুরুতর আহত পঞ্চগড়ের কিশোর ও এসএসসি পরীক্ষার্থী শিমুন রায় অবশেষে মারা গেছে।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

নিহত কিশোরের বাবা দাবি, ‘বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকে তার ছেলের পেটে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে গেছে প্রতিবেশি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা।’

আহত ছাত্রের বাবা পরেশ চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমাদের পাট খেত থেকে প্রায় দেড়শ গজ দূরে ভারতের কাঁটাতারের বেড়া। বিকেলে সুতার নেট দিয়ে আমরা খেতে বেড়া দিচ্ছিলাম। আমার ছেলে ২০ থেকে ২৫ হাত দূরে কাজ করছিল। একজন বিএসএফ সদস্য এসময় আমাদের দিকে এগিয়ে এসে গালিগালাজ শুরু করে।

‘ছেলের সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ওই বিএসএফ সদস্য আমার সামনেই ছেলের পেটে বন্দুক লাগিয়ে গুলি করে দেয়। আমাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসলে বিএসএফ সদস্য পালিয়ে যায়।’

আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকে আমার জমিতে আমার ছেলেকে গুলি করে গেল বিএসএফ।’

রবিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে পঞ্চগড় সদর উপজেলার শিংরোড-প্রধানপাড়া সীমান্ত পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে। পঞ্চগড় সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্র শিমোন এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।

ঘটনার পর স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধ শিমোনকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালের চিকিৎসক মো. তোফায়েল আহমেদ বলেন, ছেলেটির পেটে গুলি ঢুকে পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে গেছে। তার নাড়ি-ভুড়িও বের হয়ে গেছে। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মামুনুল হক বলেন, ঘটনাটি জানার পর আমরা তদন্ত শুরু করেছি। প্রতিবাদ জানিয়ে এ ব্যাপারে বিএসএফের কাছে কারণ জানতে চাওয়া হবে।

তবে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে ভারতের সীমান্তের কাছাকাছি না যাওয়ার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

Share





Related News

Comments are Closed