Main Menu

ছাদ-বাগান: একজন সফল সৌখিন চাষির গল্প…

মাগুরা প্রতিনিধি: নিজের বসত বাড়ির ছাদ-বাগানে নানা জাতের ফুল, ফল ও সবজির চাষ করে সফল হয়েছেন মাগুরার শ্রীপুরের খামারপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম। পেশায় তিনি বাণিজ্যিক ফটোগ্রাফার। গত ৩৫ বছর ধরে ‘স্টুডিও বীণা’ নামে সুনামধন্য একটি ফটোগ্রাফি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন রফিকুল ইসলাম। তবে এই পরিচিতির সাথে নতুন করে যোগ হয়েছে তিনি একজন সফল সৌখিন চাষি।

গোলাপ, হাসনাহেনা, গাঁদা, জবা, টগর, রজনীগন্ধা; কমলা, মালটা, আপেল কুল, পেয়ারা, জাম্বুরা, আম, আমড়া, আতা, কামরাঙ্গা, আখ; পেঁপে, বেগুন, শিম, মুলা, লাউ, টমেটো, ধনেপাতা এবং তুলসী, পুদিনা, ঘৃতকুমারী, বিভিন্ন ঔষধি গাছ- কী নেই সৌখিন এ চাষির বাড়ির ছাদ-বাগানে। যখন যা ফলাতে চেয়েছেন, আগ্রহ করে তিনি সবই ফলিয়েছেন।

ছাদ-বাগান জুড়ে থাকা নানান ফুল, ফল ও সবজির এই রাজ্য শুধু রফিকুল ইসলামকে অনুপ্রাণিত করেনি; অনুপ্রাণিত করেছে শ্রীপুর উপজেলার সব শ্রেণিপেশার মানুষকে। ব্যতিক্রমী এই ছাদ-বাগান দেখতে প্রায় দিনই ছুটে আসেন এলাকার বৃক্ষপ্রেমীরা।

সরেজমিনে ছাদ-বাগান ঘুরে দেখা গেছে, ছাদের উপরে সারিবদ্ধভাবে ড্রাম ও টবে মাটি ভরাট করে দেশি-বিদেশি ফুল, ফল ও সবজির রাজ্য গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি লাউ, কুমড়া ও পুইঁশাকের মতো সবজির জন্য বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ মাঁচা। বর্তমানে মৌসুমি সব ফুল, ফল ও সবজিতে শোভিত হয়ে আছে গোটা ছাদ-বাগান। শুধু রফিকুল ইসলাম নিজে নন, এলাকার আগ্রহী সাধারণ এবং সৌখিন চাষিদের ফুল, ফল ও সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠতে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। ছাদ-বাগান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিভিন্ন পরামর্শের জন্যে তার কাছে প্রায়ই ছুটে আসেন আগ্রহীরা। ছাদ-বাগানের মাটিতে কী ফুল, ফল ও সবজির চারা লাগাতে হবে এবং পোকামাকড় দমনে কী কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে, সে বিষয়ে আগ্রহীদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন রফিকুল ইসলাম।

একান্ত আলাপকালে সৌখিন চাষি রফিকুল ইসলাম বলেন, নিজের বাড়ির ছাদে দেশি-বিদেশি নানা জাতের ফুল, ফল ও সবজি চাষের শখ আমার অনেক দিনের পুরানো। কারণ আমার বাবা বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মরহুম শহিদুল ইসলাম বাড়িতে কমলা উৎপাদন করে মাগুরা জেলায় বেশ আলোচিত হয়েছিলেন। কমলা উৎপাদনের জন্যে বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ঢাকা) ও মাগুরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ পুরষ্কারও পেয়েছিলেন তিনি। এছাড়া একসময় আমাদের বাড়িতে ছোট আকারে হরিণের খামারও গড়ে তুলেছিলেন আমার বাবা। এককথায় তিনি ছিলেন একজন সৌখিন মানুষ। মূলত মুক্তিযোদ্ধা বাবার সৌখিনতার স্মৃতিই আমাকে ছাদ-বাগান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অনেকটাই উৎসাহ যুগিয়েছে। অবশেষে ২০০৫ সালের দিকে নিজের বাড়ির ছাদে বিভিন্ন ফুল, ফল ও সবজির বাগান গড়ে তুলি।

রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রথমে ছাদ-বাগানে কয়েকটি ফুল ও ফলের চারা মাটির টবে লাগিয়ে পরীক্ষা করি, এতে সফলতার মুখ দেখতে পায়। এরপর পর্যায়ক্রমে আম, কমলা, মালটা, ছবেদা, কামারাঙ্গা, কাজী পেয়ারা, ডালিম, জাম্বুরা, জামরুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলের গাছ রোপণ করি। বর্তমানে বিভিন্ন ফলদ গাছে ফল ধরেছে। হাসনাহেনা, জুঁই-চামেলীসহ নানান ফুলের গাছে ফুঁটেছে বাহারি ফুল। আর সবজির মধ্যে রয়েছে- দেশি মরিচ, ক্যাপসিক্যাম, লাউ, চাল কুমড়া, মিষ্টি কুমড়া, বরবটি, সিম, ঝিঙ্গে, করলা ইত্যাদি। আমার পাশাপাশি আমার স্ত্রী রোখসানা ইসলাম এবং ছেলে-মেয়েরাও ছাদ-বাগান পরিচর্যা করে থাকেন।

সৌখিন এ চাষি আরও বলেন, বিগত কয়েকবছর ধরে আমার ছাদ-বাগানে উৎপাদিত আম, কমলা, মালটা, লেবু ও সবজি নিজেরা খেয়ে আসছি। পাশাপাশি প্রতিবেশী এবং আত্মীয়-স্বজনদেরও দিয়ে থাকি।

এছাড়া রফিকুল ইসলাম বলেন, সব ধরণের ফুল, ফল ও সবজি উৎপাদনে কীটনাশক প্রয়োগ না করে শুধুমাত্র জৈব সার ব্যবহার করে থাকি। তার ভাষায়- কঠোর শ্রম, অধ্যবসায় ও সততা থাকলে যে কেউ নিজের অঙ্গণে সফল হতে পারেন। তারই প্রমাণ আমার এই ছোট্ট ছাদ-বাগান। পারিবারিক জীবনে মাতা ফাতেমা বেগম এবং স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে রফিকুল ইসলামের সংসার।

প্রসঙ্গত, স্থানীয় কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা রফিকুল ইসলামের ছাদ-বাগানকে মডেল হিসেবে দেখছেন। পাশাপাশি গ্রামীন জনপদে এমন উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানান ও প্রশংসা করেছেন।

0Shares





Related News

Comments are Closed