Main Menu
শিরোনাম
ফেঞ্চুগঞ্জে অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ, জরিমানা         সিলেটে প্রকৌশলীর উপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার দাবি         শ্রীমঙ্গলে ট্রেনে কাটা পড়ে নারীর মৃত্যু         ৪দিন বন্ধের পর খুলেছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক         সিলেট জেলায় আরো ৬৬ জনের করোনা শনাক্ত         কোম্পানীগঞ্জে নৌপথে চাঁদাবাজিকালে আটক ৫         গোলাপগঞ্জে ১০জন ভিক্ষুককে ১০০টি হাঁস প্রদান         জাফলংয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযযান         কানাইঘাটে গৃহবধূ গণধর্ষণের আসামি গ্রেপ্তার         তাহিরপুরে যাদুকাটা নদীতে চাঁদাবাজী বন্ধের দাবি         জগন্নাথপুর পৌরসভায় ৩৬ কোটি টাকার বাজেট         দক্ষিণ সুরমায় ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার        

মূর্তির ভিতরেই ধ্যানস্থ ১০০০ বছর বয়সী সন্ন্যাসী!

বিচিত্র ডেস্ক: নেদারল্যান্ডসের দ্য মিয়েন্ডার মেডিক্যাল সেন্টারে কয়েক বছর আগে শারীরিক পরীক্ষার জন্য নিয়ে আসা হয় এক প্রবীণ ‘রোগী’কে। কিন্তু এই রোগী কোনও সাড়া দেন না, হাঁটাচলা করতে পারেন না এমনকি শ্বাস-প্রশ্বাসও নেন না।

আর এই ‘রোগী’ হলেন এক হাজার বছর বয়সী এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর ধাতব মূর্তি। এতদিন তার ঠিকানা ছিল নেদারল্যান্ডসেরই একটি মিউজিয়াম।

ওই বৌদ্ধ মূর্তির মধ্যে যে এক মানবদেহ আছে, তা মুখেমুখে প্রচলিত থাকলেও, বিজ্ঞানীরা এতদিন তার সত্যতা জানতেন না। প্রাচীন এই রহস্যের উপর আলোকপাত করার জন্যই মিউজিয়াম থেকে ওই বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর মূর্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

সোনালি রঙের ওই ধাতব বৌদ্ধ মূর্তির সিটি স্ক্যান করার পরই উপস্থিত চিকিৎসক এবং গবেষকদের চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়। দেখা যায়, বাইরে ধাতব মূর্তি হলেও তার ভিতরে পদ্মাসনে ধ্যানে মগ্ন আছেন এক সন্ন্যাসী! যার নাম লিউকুয়ান।

ওই সন্ন্যাসীর দেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অবশ্য কিছুই ছিল না। পরিবর্তে তার দেহের ভিতরে বৌদ্ধ ভাষায় লেখা কাপড় ভরা ছিল। কী ভাবে তার দেহ থেকে সমস্ত অঙ্গ বার করে নেওয়া হল, কী ভাবে তার মমি তৈরি হল তা এখনও রহস্যই রয়েছে।

নিজেই নিজের দেহের মমিফিকেশন জাপানে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের মধ্যে খুবই প্রচলিত প্রথা। এশিয়া জুড়েই এমন রীতির চল ছিল বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের মধ্যে। চীনেও এ রকম দেখা গিয়েছে।

কী ভাবে ধীরে ধীরে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা নিজেদের দেহ মমি বানাতেন? জেরেমিয়া কেন নামে এক লেখকের ‘লিভিং বুদ্ধা’ নামে বইয়ে এর উল্লেখ রয়েছে। ওই বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে এর পদ্ধতি। ইচ্ছুক সন্ন্যাসীরা খুব কঠিন ডায়েট চার্ট অনুসরণ করেই নাকি এমন করতেন।

বইতে দাবি করা হয়েছে, এটা খুব ধীর গতির প্রক্রিয়া। তারা খাদ্যতালিকায় চাল, গম, সোয়াবিন জাতীয় কোনও বস্তু রাখতেন না। পরিবর্তে বাদাম, বেরি, গাছের ছাল খেতেন। এতে নাকি ক্রমে তাদের শরীরের চর্বি গলে যেত এবং শরীর আর্দ্রতা হারিয়ে ক্রমশ শুষ্ক হয়ে উঠত।

মৃত্যুর পর শরীরে ব্যাকটিরিয়ার বৃদ্ধি আটকাতে জীবিতাবস্থায় বিভিন্ন ভেষজ উদ্ভিদ খেতেন তারা। আর খেতেন বিশেষ এক ধরনের চা। যা বিষাক্ত হার্ব দিয়ে বানানো হত। এই চা পান করার ফলে তাদের শরীরও বিষাক্ত হয়ে উঠত এবং মৃত শরীরে ম্যাগট তৈরি হতে পারত না।

এইভাবে দীর্ঘদিন ধরে কড়া ডায়েটের ফলে ওই সন্ন্যাসী যখন একেবারেই মৃতপ্রায়, তখন তাকে মাটির নীচে একটি কক্ষে স্থানান্তর করা হত। তিনি সেই কক্ষের ভিতরেই ধ্যানে বসতেন। আর বাঁশের তৈরি একটি ফানেলের মধ্যে দিয়ে শ্বাস নিতেন।

ওই কক্ষে সন্ন্যাসীর সঙ্গে শুধু একটা ঘণ্টা থাকত। প্রতিদিন তিনি ঘণ্টা বাজিয়ে বোঝাতেন যে, তিনি বেঁচে আছেন। যে দিন তিনি ঘণ্টা আর বাজাবেন না, সে দিনই ধরে নেওয়া হত তিনি মারা গিয়েছেন। তার পর বাঁশের ফানেলটা খুলে নেওয়া হত।

এই ভাবেই তিনি মাটির নীচে ওই কক্ষে পড়ে থাকতেন। তিন বছর পর অন্য সন্ন্যাসীরা তাকে কক্ষ থেকে বার করে মন্দিরে নিয়ে গিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতেন। কোনও সন্ন্যাসীর যদি মমিফিকেশন না হয়ে থাকে, তা হলে তাকে কবর দেওয়া হত।

তবে বৌদ্ধ মূর্তির মধ্যে সন্ন্যাসীর মমির খোঁজ এই প্রথম মিলল বলে জানাচ্ছেন ইতিহাসবিদেরা। হাঙ্গেরির ন্যাশনাল মিউজিয়ামে বহুদিন ধরেই ওই মূর্তি প্রদর্শিত হয়েছে। তারপর ইউরোপের লুক্সেমবার্গ মিউজিয়ামেও কিছুদিন রাখা ছিল মূর্তিটি। তারপর থেকে নেদারল্যান্ডসের ড্রেন্টস মিউজিয়ামই তার ঠিকানা।

0Shares





Related News

Comments are Closed