Main Menu

বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীর ক্ষণগণনা শুরু

Manual7 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: যাঁর জন্য ‘স্বাধীনতা’ শব্দটি হয়ে উঠেছে বাঙালির ও বাংলাদেশের সবার, রাজনীতির সেই মহাকবি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে শুক্রবার বিকেলে। যাঁর নেতৃত্বে, যাঁর সংগ্রামে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম, সেই বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখেছিলেন আজকের এই দিনে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে লন্ডনে যান বঙ্গবন্ধু। সেখান থেকে ভারতে স্বল্প সময়ের যাত্রাবিরতি দিয়ে ১০ জানুয়ারি দুপুরে তিনি তৎকালীন তেজগাঁও বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

আজ বিকেলে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে প্রধানমন্ত্রী মুজিববর্ষের লোগো উন্মোচন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পাশে ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আরেক কন্যা শেখ রেহেনা ও নাতি সজীব ওয়াজেদ জয়।

আগামী ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষিত ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপনে নানা প্রস্তুতি চলছে সারাদেশে। আর জাতির পিতার দেশে ফেরার ঐতিহাসিক ঘটনাকে আরও স্মরণীয় করতে তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে শুক্রবার থেকেই শুরু হয়েছে সারাদেশে মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা (কাউন্টডাউন)।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপন জাতীয় জীবনে এক গৌরবময় অধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম হয়েছিল মানুষের কল্যাণের জন্য- মুক্তির জন্য। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল সংগঠন জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন সফল করে তুলবে।

Manual3 Ad Code

এ বছরের ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সরকার ২০২০-২১ সালকে ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছে। ১৭ মার্চ বর্ণাঢ্য উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সারাদেশে শুরু হবে বছরব্যাপী এ উদযাপন। এ ছাড়া গত বছরের ২৫ নভেম্বর ইউনেস্কো বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথভাবে এ কার্যক্রম উদযাপনের ঘোষণা দিয়েছে। ওইদিন প্যারিসে ইউনেস্কো সদর দপ্তরে সংস্থাটির ৪০তম সাধারণ অধিবেশনে সর্বসম্মতভাবে ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন আন্তর্জাতিক মাত্রা পেয়েছে।

এ দিকে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পরপর সিলেটসহ দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও সব জনসমাগমের জায়গাগুলোতেও একই সঙ্গে ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। সারাদেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের ২৮টি পয়েন্ট, বিভাগীয় আট শহর এবং ৫৩টি জেলা সদর ও দুই উপজেলা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর মোট ৮৩টি পয়েন্টে ক্ষণগণনা (কাউন্টডাউন) ঘড়ি বসানো হয়েছে। এসব ঘড়িতে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ডিসপ্লেতে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের ওপর ভিডিও প্রদর্শিত হচ্ছে। কিউআর কোডের মাধ্যমে যে কেউ চাইলেই জন্মশতবার্ষিকীর ওয়েবসাইটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু ও জন্মশতবার্ষিকীর আয়োজনের নানা তথ্য জানতে পারবেন। জানাতে পারবেন বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে অনুভূতি।

Manual8 Ad Code

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন, ‘যেখানেই বাংলাদেশের মিশন আছে, সেখানে আমরা মুজিব বর্ষ উদ্‌যাপন করব। মুজিব বর্ষের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের নতুন ব্র্যান্ডিং করতে চাই। বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে একটি সম্ভাবনার দেশ হিসেবে তুলে ধরতে চাই। বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে চাই বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগ।’

৭৭ মিশনে ২৬১ অনুষ্ঠান

Manual6 Ad Code

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর পাশাপাশি দেশে সারা বছর যেসব অনুষ্ঠান হবে, তাতে বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন ভাষায় বঙ্গবন্ধুর নির্বাচিত ভাষণ প্রকাশ ও প্রচার, বঙ্গবন্ধুর বিদেশ সফরের ওপর প্রামাণ্যচিত্র তৈরি এবং সমুদ্র বিজয়ের ওপর একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের ৭৭টি দূতাবাসে ২৬১টি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে জানান, ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত বছরজুড়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকজন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান সম্মতি জানিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ভুটানের রাজা জিগমে খেশার ন্যামগেল ওয়াংচুক, সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুবরাজ জায়েদ আল নাহিয়ান, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, ভারতের কংগ্রেসের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ প্রমুখ।

এ ছাড়া কেনেডি পরিবারের কোনো সদস্য এবং জোসেফ স্টিগলিজ বা জেফরি স্যাকসের মতো ব্যক্তিত্ব বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ আশা করা হচ্ছে।

Manual8 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code