জৈন্তাপুরে চলছে পাহাড় কাটার মহোৎসব
জৈন্তাপুর প্রতিনিধি: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ এলাকা। এখানে অবাধে চলছে লাল মাটির টিলা কাটার মহোৎসব। বাড়িঘর নির্মাণের কথা বলে ৫০/৬০ ফুট উচু টিলা কেটে মাটির শ্রেণী পরিবর্তন করে সমতল করা হচ্ছে। আর পাহাড় ও টিলা কাটা মাটি বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। এই মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে নদী, পুকুর ও নিচু জমি। প্রতিদিন ট্রাক বোঝাই করে মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে।
পাহাড় কাটার কাজ শুরুর আগে সেখানে অনেক গাছগাছালি ছিল। সেগুলো প্রথমে পরিষ্কার করা হয়। তারপর তারা মাটি কেটে নিয়ে যান। মাটির যোগান দিতে বিশাল কয়েকটি পাহাড় কেটে সাবাড় করে চলেছে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।
এদিকে পাহাড় কাটার মহোৎসব চললেও জেলা প্রশাসন, বনবিভাগ, উপজেলা প্রশাসন এবং থানা পুলিশের নীরব ভূমিকায় জনসাধারণ ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
এদিকে, পাহাড় কেটে লাল মাটি রাস্তার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। রাত ৮টার পর থেকেই কুপি জ্বালিয়ে ওই এলাকায় শুরু হয় টিলা কাটা।
এদিকে, ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আওয়ামী লীগ নেতা আলকাছ বলেন, আমার কিছু নিচু জায়গা আছে তা ভরাট করার জন্য পাহাড়টি কাটা হচ্ছে। বর্তমানে আমি মুক্তিযুদ্ধা মানিক মিয়ার ও রহিমের টিলা কাটছি। মুক্তিযুদ্ধার টিলায় পাথর হয়ে গেছে তাই অন্য একটি টিলা খুজছি। তবে বিষয়টি পত্রিকায় প্রকাশ না করার দাবি জানান।
পরিবেশবিদ আব্দুল হাই আল হাদী বলেন, সিলেটের উত্তর পূর্বাঞ্চল ভূতাত্তিক পাহাড়ি অঞ্চল। সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক উন্নয়নের কাজে ১৯৯৬ সালে পাহাড় ও টিলার বিশাল অংশ বিলিন করে দেয়া হয়। বর্তমানে যে টিলা গুলো রয়েছে তা বিপন্ন হয়ে গেলে পরিবেশ তার ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়বে। পাহাড়কাটা বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আশঙ্কা রয়েছে ভূমিকম্প বা লাগাতার বর্ষণের সময় ভূমিধস হয়ে বড় রকমের বিপর্যয় হতে পারে। তাই তিনি পাহাড় খেকোদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার অনুরোধ জানান।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) শাহ শাহেদা বলেন, মহামান্য উচ্চ আদালতে রায় অবমাননা করে যারা পাহাড় টিলা কাটছেন তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।
জৈন্তাপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদা পারভীন বলেন, আমি এ উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি। পাহাড় টিলা কাটার ব্যাপারে এখন কিছু বলতে পারছি না।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫-এর ৬ (খ) ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সরকারি বা আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন বা দখলাধীন বা ব্যক্তি মালিকানাধীন পাহাড় ও টিলা কর্তন বা মোচন করতে পারবে না। তবে অপরিহার্য জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনে অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়ে পাহাড় বা টিলা কাটা যেতে পারে।
আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদন্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদন্ডের বিধান রয়েছে। সিলেটের ছয় উপজেলায় পাহাড় টিলা কাটা রোধে ২০১১ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) মহামান্য উচ্চ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন এরই পরিপ্রেক্ষিতে সিলেট সদর উপজেলা, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জের নির্বাহী কর্মকর্তাদের কারণ দর্শানোর জন্য ৯৭৫০/১১ একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানী শেষে ২০১২ সালের ১ মার্চ পাহাড় টিলা কাটা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে উচ্চ আদালত রায় প্রদান করেন। এ আইনের মাধ্যমে অপরাধ দমনে জরুরি প্রয়োজনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে পারবে।
Related News
সিলেট সীমান্তে তরুণীকে আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেফতার ১
Manual4 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে ফেরার পথে একRead More
বিয়ানীবাজারে ৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক
Manual6 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বিয়ানীবাজারে ইয়াবার চালানসহ এক মাদক কারবারিকে আটক করেছেRead More



Comments are Closed