Main Menu
শিরোনাম
শাবির ল্যাবে আরো ২২ জনের করোনা শনাক্ত         কমলগঞ্জে এক বৃদ্ধের মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজাল         জৈন্তাপুরে ভারতীয় পাতার বিড়িসহ গ্রেফতার ১         গোয়াইনঘাটে ধর্ষণ চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন         শ্রীমঙ্গলে স্ত্রীকে হত্যা করে স্বামীর আত্মহত্যা!         সিলেট এমসি কলেজের ছাত্রী পপির আত্মহত্যা         ধর্ষণ মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান কারাগারে         বিশ্বনাথে বৃদ্ধ ও এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার          সিলেটে করোনায় আক্রান্ত বেড়ে ৮৫৮২, মৃত্যু ১৫৩          ওসমানীর ল্যাবে আরো ৬১ জনের করোনা পজিটিভ         বিশ্বম্ভরপুরে বজ্রপাতে কৃষক নিহত         শ্রীমঙ্গলে ঘরে বসে সততা পরীক্ষার আয়োজন        

‘সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হবে গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান’

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা: মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী বলেছেন গবেষণার দিকে চিকিৎসকদের মনোযোগ কম। অনেক চিকিৎসক কেবল ডাক্তারি নিয়েই ব্যস্ত। এর মধ্যে কিছু সরকারি, আবার কিছু বেসরকারি ডাক্তারি। সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্টান হিসাবে গড়তে চান বলে মন্তব্য করেন ভিসি। এখানে থাকবে চিকিৎসা বিজ্ঞান নিয়ে উন্নত গবেষণার সকল সুযোগ-সুবিধা।

রবিবার (৮ ডিসেম্বর) নগরীর চৌহাট্টাস্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ডা. মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র প্রতিশ্রুতি এবং ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর মহান জাতীয় সংসদে দেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা গবেষণা ও সেবার মান এবং সুযোগ সুবিধা সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের নিমিত্তে ‘সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১৮’ পাশ করা হয়। এরপর সিলেট মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় আইন-২০১৮ এর ধারা ১১ (১) অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মহামান্য রাষ্ট্রপতি তাকে চার বৎসর মেয়াদে প্রথম ভাইস-চ্যান্সেলর হিসাবে নিয়োগ প্রদান করেন। একই বছরের ২০ নভেম্বর তিনি ভাইস-চ্যান্সেলর পদে যোগদানের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের অব্যবহৃত বাসভবন ভাড়া করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু ভবনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট গঠন সংক্রান্ত বিষয়ে ডা. মোর্শেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১৮ এর ধারা ’১৯ অনুযায়ী সিন্ডিকেট গঠনের নিমিত্তে সদস্য মনোনয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে পত্র প্রদান করা হয়েছে। সিন্ডিকেটের মোট ৩৪ জন সদস্যের মধ্যে পাঠানো পত্র অনুযায়ী মনোনীত এবং পদাধিকার বলে সদস্যসহ এ পর্যন্ত মোট ২১ জন সদস্যের মনোনয়ন পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আইনের ধারা ১৯ (খ), ধারা ১৯ (জ), ধারা ১৯ (ত), ধারা ১৯ (ন) এ মনোনীত সদস্য প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পত্র পাঠানো হয়েছে তবে এখনও মনোনয়ন পাওয়া যায়নি। সিন্ডিকেটের উপরোক্ত সদস্যগণের মনোনয়ন পাওয়া গেলে অতি শীঘ্রই বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। ইতোমধ্যেই সিন্ডিকেট সভা আহবানের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১৮ এর ধারা ২১ অনুযায়ী একাডেমিক কাউন্সিল গঠনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন থাকায় আপাতত অধিভুক্ত কলেজের শিক্ষকদের দ্বারা একাডেমিক কাউন্সিল গঠনের বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। এছাড়া আইন অনুযায়ী ইতোমধ্যে অর্থ কমিটি, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটি, সংবিধি প্রণয়ন কমিটি, নৈতিকতা কমিটি, শৃঙ্খলা বোর্ড এবং একাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য একাডেমিক কোঅর্ডিনেটর এবং বিষয় ভিত্তিক কো-কোঅর্ডিনেটর নিযুক্ত করা হয়েছে। এরই পাশাপাশি মেডিকেল এডুকেশন কার্যক্রম ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য Medical Education Unit and Research Cell গঠন করা হয়েছে এবং উক্ত সেল এর চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়েছে। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি অনুষদে প্রশাসনিক অনুমোদনক্রমে ৮ জন ডিন ইতোমধ্যেই নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

উপাচার্য্য ডা. মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’র সদয় সম্মতিসহ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পের জন্য সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার গোঁয়ালগাও মৌজার ৫০.২২ একর এবং জে এল নং-১১৮ হাজরাই মৌজার ৩০.০৯ একর সহ সর্বমোট ৮০.৩১ একর ভূমি ১৩৮.১৫ কোটি টাকা মূল্যে অধিগ্রহণের অনুমতিপত্র পাওয়া গেছে। সিলেটের জেলা প্রশাসক এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ রক্ষা করে সার্বিক কাজটি দ্রত এগিয়ে নেয়ার জন্য যথারীতি কাজ করে যাচ্ছেন।

এছাড়া ডিপিপি ও মাস্টার প্লান তৈরীর জন্য স্থাপত্য অধিদপ্তরের ২ জন স্থপতি, গণপূর্ত অধিদপ্তরেন ২ জন নির্বাহী প্রকৌশলী এবং ১ জন কনসালটেন্ট নিযুক্ত হয়েছেন এবং কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

তিনি বলেন, সিলেট বিভাগের সকল মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ ও নার্সিং কলেজ সমুহের আবেদনের প্রেক্ষিতে কলেজ পরিদর্শন শাখা সেগুলো যাচাই বাছাই করে ২টি সরকারি মেডিকেল কলেজ, ৪টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, ১টি সরকারি নার্সিং কলেজ, ৩টি বেসরকারি নার্সিং কলেজ এবং ১টি বেসরকারি ডেন্টাল কলেজসহ মোট ১১টি স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে প্রথমিক অধিভুক্তি প্রদান করেছে।

অধিভুক্ত নার্সিং কলেজ সমূহের মধ্যে ২টি কলেজে পোস্ট বেসিক বি এস সি ইন নার্সিং কোর্সে ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ সমুহের ভর্তি কার্যক্রম চলমান রয়েছে যা শেষ হওয়ার পরপরই রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন শুরু হবে।

0Shares





Related News

Comments are Closed