Main Menu

তানোরে সমিতির আড়ালে দাদন ব্যবসা!

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোরের কামারগাঁ ইউপির শ্রীখন্ডা গ্রামে শ্রীখন্ডা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সংস্থা (স্বেচ্ছাসেবী) নামে কথিত সমিতির আড়ালে জম্পেশ দাদন ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে। ৭ অক্টোবর সোমবার স্থানীয়রা এই সমিতির বিষয়ে সরেজমিন তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও রাজশাহী পুলিশ সুপারের কাছে ডাকযোগে লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করেছেন।

স্থানীয়রা জানায়, একটি ব্যাংকের চাকরিচ্যুৎ কর্মচারি আলমগীর শেখ এই দাদন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ব্যতিত কোনো প্রতিষ্ঠান আর্থিক লেনদেন করতে পারেন না। তারা বলেন, নীতিমালা লঙ্ঘন করে সমিতির নামে রীতিমতো দাদন ব্যবসা করছে আলমগীর। কেউ সুদাসলে টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে জোরপূর্বক তাদের কাছে থেকে ফাঁকা ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে পরবর্তিতে তাদের কাছে থেকে কয়েক গুণ বেশী টাকা আদায় করা হচ্ছে। এছাড়াও চড়া সুদে ঋণ প্রদান ও সঞ্চয়ের নামে আমানত সংগ্রহ করছে। এসব দাদন ব্যবসায়ীদের খপ্পড়ে পড়ে গ্রামের অনেক কৃষক পরিবার নিঃস্ব হতে চলেছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

শ্রীখন্ডা গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, শীব নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের গাছকে সমিতির বনায়ন, জাকাতের বস্ত্র বিতরণের ছবি দিয়ে সমিতির নামে প্রচার, ভূয়া দাতা সদস্য দেখিয়ে বিশ্ব ব্যাংকে আবেদন ও হাজী মার্কেটকে সমিতির কার্যালয় দেখিয়ে শ্রীখন্ডা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সংস্থার (সেচ্ছাসেবী) অনুমতি নিয়ে উচ্চ সুদে দাদন ব্যবসা করা হচ্ছে। এছাড়াও প্রায় ১০ বছর ধরে দাদন ব্যবসা করা হলেও গত বছর এই শ্রীখন্ডা গ্রাম উন্নয়ন সংস্থা সেচ্ছাসেবী সংগঠনের অনুমোদন মিলেছে। আবার চাকরিচ্যুৎ ব্যাংক কর্মচারি ও সমিতির পরিচালক আলমগীর শেখের আয়ের উৎস্য নিয়ে গ্রামের মানুষের মধ্যে মূখরুচোক নানা গুঞ্জন বইছে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে শ্রীখন্ডা সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক আলমগীর শেখ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার সমিতির অনুমোদন রয়েছে। তাছাড়া মানুষ বিপদে পড়ে তার সমিতি থেকে স্বল্প সুদে ঋণ নেয় এটা দোষের কি। তিনি তো বরং মানুষের উপকার করছেন। তিনি বলেন, একটি মহল তার কাছে থেকে অবৈধ সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে তার বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা প্রচারণা করছে।

এব্যাপারে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাসরিন বানু বলেন, এ বিষয়ে তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি, তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে দেখবেন বলে তিনি জানান।

Share





Related News

Comments are Closed