Main Menu
শিরোনাম
বাহুবলে গৃহবধূকে ধর্ষণের পর হত্যা, শ্বশুর গ্রেপ্তার         কমলগঞ্জে কলেজ ছাত্রীর বিষপানে আত্মহত্যা         সিলেটে গত ২৪ ঘন্টায় ৪১ জনের করোনা শনাক্ত         কামালবাজার ইউপি নির্বাচনে একঝাঁক প্রার্থী মাঠে         গোয়াইনঘাটে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, স্বামী আটক         কমলগঞ্জে গ্রেপ্তার আতংকে ঘরে ঘরে ঝুলছে তালা         সিলেট শিক্ষা বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান রমা বিজয় সরকার         সিলেটে একদিনে আরো ৩৬ জনের করোনা শনাক্ত         সিলেটে মাস্ক না পরায় ১০৭ জনকে জরিমানা         গোলাপগঞ্জে বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন         ডিসেম্বরেই চালু হচ্ছে তাহিরপুর সীমান্তের বর্ডার হাট         রাজনগরে গ্রামবাসীর ওপর হামলা-মামলার অভিযোগ        

সকালে ক্লাস, বিকেলে ভ্যানগাড়িতে দোকানদারি

মো. আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ থেকে : সিলেটের বিশ্বনাথ সরকারি ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের একাদশ শ্রেনীর শিক্ষার্থী জুবেল মিয়া জীবন যুদ্ধে হার না মানা একজন সৈনিক। প্রতিনিয়তই করে যাচ্ছেন দারিদ্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। তিনি সকালে কলেজে ক্লাস শেষে বিকেলে দোকানদারি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে কলেজে ক্লাসে যান তিনি। প্রতিদিন ক্লাস শেষেই ভ্যানগাড়ি নিয়ে নেমে পড়েন সড়কে এক পাশ থেকে অপর পাশে সবজি চাষাবাদের বিভিন্ন ধরনের প্যাকেট বীজ ক্ষুদ্র ব্যবসায়।

জুবেল আহমদ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের কাদিপুর গ্রামের মৃত জমির আলীর ছেলে। বর্তমানে উপজেলা সদরের পুরান বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় মা, দুই ভাই, দুই বোনদের নিয়ে বসবাস করে আসছেন। তিনি ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট। তবে এলাকার লোকজন তাকে মেম্বার নামে ডাকেন এবং সবাই চিনেন।

উপজেলা সদরের পুরান বাজার এলাকায় জুবেল মিয়ার সঙ্গে দেখা হলে তিনি জানান, তাঁর বয়স যখন ১৮ মাস ছিল, তখন তাঁর পিতা মারা যান। এরপর তিনি মা-ভাই-বোনের আদরে বড় হন। অনেক কষ্ট করে লেখা পড়া শুরু করেন। এসএসসি পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ন হয়ে এবার বিশ্বনাথ সরকারি ডিগ্রি কলেজে মানবিক বিভাগে একাদশ শ্রেনীতে ভর্তি হয়েছেন। প্রতিদিন সকালে ক্লাস ছুটে যান, আর বিকেলে নেমে পড়েন ব্যবসায়। দীর্ঘ ৫ বছর ধরে তার বড় ভাই সাহেদ আলীর সঙ্গে ক্ষুদ্র ব্যবসা করে আসছেন তিনি। লেখা-পড়ার পাশা-পাশি তিনি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। এর পর থেকেই শুরু হয় তাঁর কর্মব্যস্ততা। তবে ফল মৌসুমে ফল, শীত মৌসুমে সবজির বীজ বিক্রয় করেন তিনি। তারা দুই ভাই দুটি ভ্যান গাড়ি করে উপজেলা সদরে এ ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। তারা প্রায় ২৫ হাজার টাকা নিয়ে এসব ব্যবসা শুরু করেছেন। এতে প্রতিদিন তিনি ৫শ থেকে ৬শ টাকার বীজ বিক্রয় করে আসছেন। এরআগে ফল বিক্রয় করেছেন। পড়াশোনার খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হতো তাঁকে।

দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা জুবেল মিয়া। প্রতিদিন ব্যবসায়ী কাজ শেষে নিজ কক্ষে ফিরে পড়াশোনায় মনোযোগ দেন। ছোট দোকানের আয় থেকে নিজের খরচ চালানোর পাশাপাশি পরিবারকেও সহায়তা করেন তিনি।

জুবেল নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বলেন, লেখা পড়া করে উচ্চ শিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি সফল উদ্যোক্তাদের কাতারে পৌঁছাতে চাই।

0Shares





Related News

Comments are Closed