সারাদেশে সাড়ে ১৪ হাজার মামলা স্থগিত
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: উচ্চ আদালতের আদেশে অধস্তন আদালতে ১৪ হাজার ৪৮৭টি মামলার বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের একটি ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাগুলোর মধ্যে দেওয়ানি মামলা রয়েছে ৬ হাজার ২৮৬টি। আর ফৌজদারি মামলার সংখ্যা ৮ হাজার ২০১টি।
প্রতিবেদন অনুয়ায়ী সিলেট বিভাগে বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে-এ ধরণের মামলার সংখ্যা এক হাজার ১৭৬টি। এরমধ্যে ফৌজদারি ৬৩০টি ও ৫৪৬টি দেওয়ানি মামলা। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই হালনাগাদ তথ্য দেয়া আছে ওই প্রতিবেদনে।
দেওয়ানি মামলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলা স্থগিত আছে ঢাকা বিভাগে। প্রতিবেদন অনুসারে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত হাইকোর্টের আদেশে ঢাকা বিভাগে দেওয়ানি মামলা স্থগিত আছে ২ হাজার ৭টি। আর সবচেয়ে কম ৪৩৮টি মামলা স্থগিত আছে ময়মনসিংহ বিভাগে।
অপরদিকে ফৌজদারি স্থগিত থাকা মামলার হিসাবে দেখানো হয়েছে- মামলা সবচেয়ে বেশি স্থগিত হয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রামে। ঢাকা বিভাগে ৩ হাজার ৯৯৯টি ও চট্টগ্রাম বিভাগে ১ হাজার ৪৭২টি। আর সবচেয়ে কম মামলা স্থগিত আছে ময়মনসিংহ বিভাগে ২২৬টি।
এদিকে মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমানোর জন্য সম্প্রতি তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর একই দিনে মামলাজটের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনও।
আদালতে মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমানোর পাশাপাশি খুন-ধর্ষণ-অগ্নিসন্ত্রাসসহ গুরুতর অপরাধগুলোর দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে রোববার (২৮ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাগিদ দেন। এদিন রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে সংশ্লিষ্টদের পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে হবে, এখনও অনেকে আছে কী কারণে সে জেলে তাও জানে না। তাদের দোষটা কী তাও তারা জানে না বা কিভাবে আইনগত সহায়তা নিতে হবে তা-ও তারা জানে না। এ বিষয়টা বিশেষভাবে দেখার জন্য আমরা এরইমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছি। আইন মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে আরও যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।
গুরুতর ফৌজদারি অপরাধগুলোতে দ্রুত কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুন, অগ্নিসন্ত্রাস, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা, ধর্ষণসহ নানা ধরনের সামাজিক অনাচার চলছে, এগুলোর বিচার যেন খুব দ্রুত হয় এবং কঠোর শাস্তি হয়। এর হাত থেকে দেশ ও জাতি যেন রক্ষা পেতে পারে।
শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিটি মানুষ ন্যায়বিচার পাক, সেই ব্যবস্থাটা যেন নেয়া হয়। কারণ আমি চাই না আমরা যেরকম বিচার না পেয়ে কেঁদেছি আর কাউকে যেন এভাবে কাঁদতে হয়। সকলেই যেন ন্যায়বিচার পেতে পারে।
এদিকে একইদিনে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, সুপ্রিম কোর্টে বর্তমানে এত মামলা যে ফাইল রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এক কথায় ক্রিটিক্যাল অবস্থা, এভাবে চলতে পারে না।
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চে একটি মামলার শুনানিতে প্রসঙ্গক্রমে তিনি একথা বলেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, ২৭ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে জিআইজেডের উপস্থাপন করা সুপ্রিম কোর্টের মামলার নিরীক্ষা প্রতিবেদন দেখে আমি প্রায় বিব্রত। এত মামলা! এভাবে চলতে পারে না। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি মামলাজট নিরসন বিষয় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সব বিচারপতিদের নিয়ে বসব। সবাইকে বলব যে, এ অবস্থায় কী করবেন- আপনারা দেখেন।
Related News
অনলাইনে গুজব-মিথ্যা তথ্য, ব্যবস্থা নিতে বিটিআরসিকে নির্দেশ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: অনিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যRead More
মানবতাবিরোধী অপরাধে ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকRead More



Comments are Closed