Main Menu

মৌরসী ভিটভূমি আত্মসাতের চেষ্টায় অপপ্রচার

Manual5 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: মৌরসী ভিটভূমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ভূমিদস্যু চক্র আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিয়ে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ করেছেন শিবগঞ্জ সেনপাড়ার বাসিন্দা রঞ্জন সিংহ।

রোববার দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন তিনি।

Manual4 Ad Code

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সিলেট সদর উপজেলার রায়নগর মৌজার সেনপাড়াস্থ ১৮৩ নং খতিয়ানের ১৪৩ দাগের বাড়ি রকম ৪৮ শতক ভূমি মৌরসী স্বত্বে স্বত্ববান ও দখলদার তিনি। তামাদি মুদ্দতকাল থেকে পূর্বসূরী থেকে শুরু করে ওই ভূমির ভোগ দখলদার তারা। পৃথক দাগের ওই ভূমি নিজ বসত বাড়ির অবিচ্ছেদ্য গত ৬ জানুয়ারি তাদের পক্ষে আদালতের রায়েও অর্পিত সম্পত্তি হতে অবমুক্তির আদেশ প্রদান করেন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০১২ সালে তাদের স্বত্ব দখলীয় ওই ভূমি সরকারী ‘ক’ তফসীল গেজেটে ৮০৬৭ নং পৃষ্টার ২৪ নং ক্রমিকে অর্পিত সম্পত্তি তালিকাভূক্তি থেকে ফিরে পেতে ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পন ট্রাইব্যুনাল সিলেটে দায়ের করা মামলায় (নং-১০৪৩/১২) জেলা প্রশাসক সিলেটকে বিবাদী করা হয়। উভয় পক্ষ সাক্ষ্য প্রমাণে ও দলিলাদি পর্যালোচনা করে চুড়ান্ত শোনানী শেষে গত ৬ জানুয়ারি আদালত অর্পিত সম্পত্তি হতে অবমুক্তির আদেশ দেন।

Manual7 Ad Code

কিন্তু ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার পর ভূমিদস্যুচক্র তাদের সহযোগী মনিপুরী সম্প্রদায়েরই কিছু লোককে প্রতিহিংসা পরায়ন করে পেছনে লেলিয়ে দিয়েছে। তারা পঞ্চায়েত থেকে একঘরে করে রাখা ও পূঁজা মন্ডপে গিয়ে আরাধনা থেকে বঞ্চিত রাখে এবং বিভিন্ন সময় হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। এমনকি আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে গিয়েও অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। রঞ্জন সিংহের অভিযোগ, ভূমিখেকোরা তাকে শিবির ক্যাডার বানিয়ে লিফলেট তৈরী করে বিলি করছেন। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধাচারণ করে নগরীতে মানববন্ধন করেছেন।

Manual5 Ad Code

রঞ্জন সিংহ বলেন, তার পূর্বসূরী নদিয়া সিং ও সহোদর আংজাও সিংহ মনিপুরি সিলেট সদর উপজেলার সেটেলমেন্ট জরিপি ছাপা ৯৭ নং রায়নগর মৌজা মহলে আদিত্যপাড়া প্রকাশিত সেনপাড়া স্থিত ১৮৩ নং খতিয়ানের ১৪৩ দাগের বাড়ি রকম ৪৮ শতক ও ১৪৭ দাগের বাড়ি রকম ভূমির মূল মালিক। পরবর্তীতে নদিয়া সিং ১৪৭ দাগে ও সহোদর আংজাও সিংহ ১৪৩ দাগে বসবাস করেন। আংজাও সিং মারা গেলে কোনো উত্তরসূরী না থাকায় উত্তরাধিকারী হিসেবে নিজেরাই মালিক হন। ২০০০-২০০১ সালে ওই ভূসম্পত্তি অর্পিত তালিকাভূক্তি করে প্রশাসনের কাছ থেকে ইজারা নেওয়ার চেষ্টা করে। তাই কাল বিলম্ব না করে অর্পিত সম্পত্তি আইনে করা প্রত্যার্পন আইনে করা মামলায় দীর্ঘ শোনানীতে সরকার পক্ষ ওই ভূমিকে অর্পিত সম্পত্তি প্রমাণে ব্যর্থ হয়। এছাড়া ভূমির মালিকগণ দেশের বাইরে প্রমাণ করতে পারেনি।

Manual5 Ad Code

১৯৭৪ সনের পর কোনো সম্পত্তিকে নতুন করে অর্পিত সম্পত্তি করা যাবে না সরকারি নির্দেশনা থাকা স্বত্বেও স্বার্থাস্বেষী মহল অর্পিত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত দেখানো হয় এবং অবৈধ পন্থায় এক সনা বন্দোবস্ত নামীয় কাগজ সৃজন করে। ভিপি মোকদ্দমায় (নং-০১/২০০০-২০০১) লীজ প্রদানকে সম্পূর্ণ অন্যায় বেআইনী বলে আদালত স্বত্ব দখলীয় সম্পত্তি তালিকা হতে অবমুক্ত বলে ঘোষণা দেন। অথচ ভূমিখেকো চক্রটি মনিপুরী যুব সমিতি কথা বলে যে প্রচারপত্র বিলি করা হয়েছে, এ সংগঠনের সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই রঞ্জন সিংহের। তার অভিযোগ ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে তাঁত শিল্প‘র সঙ্গে ভুয়া বিরোধ দেখানো হয়েছে। আর এই বিরোধের নেপথ্যে কয়েকজনের নামও প্রকাশ করেছেন সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে। তারা হলো- অভিযোগকারীর ঘনিষ্ট আত্মীয় নগরীর মিঙ্গাজাঙ্গাল মনিপুরী রাজবাড়ির ধীরেন সিংহ, দেবপাড়ার চন্দ্র শেখর সিংহ, জয়মোহন সিংহ ও রাসেল সিংহ। মামলা চলাকালে দীর্ঘ ৮ বছর তারা নীরব ছিল। কিন্তু যখনই রায় পক্ষে এসেছে, তখন তারা এই ভূমির মালিক না হওয়া স্বত্বেও হুমকী ধামকী এবং ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। ভূমি গ্রাসের অতি লালসায় আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। মনিপুরী সংগঠনের নাম ভাঙ্গিয়ে রকমফের অনুদানের টাকা আত্মসাত করছে। মানববন্ধন করছে। এসব অপপ্রচারে বিব্রত না হওয়ার আহবান জানিয়েছেন রঞ্জন সিংহ।

সংবাদ সম্মেলনে এসময় উপস্থিত ছিলেন সূর্য্য সিংহ, চন্দ্র লেখা সিংহ, বিধু সিংহ, নিখিল সিংহ, অনন্ত সিংহ ও রোহন সিংহ।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code