সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে, তফসিল এ মাসেই
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সারাদেশে স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ধাপভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করে চলতি মাসেই তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সে অনুযায়ী আগামী নভেম্বরের শুরুতে ভোট গ্রহণের সময় নির্ধারণ করা হতে পারে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। এখন তফসিল ঘোষণার অপেক্ষা। নীতিগতভাবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়েই ভোট শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও ভোটকেন্দ্র নির্ধারণের কাজ শেষ হয়েছে। প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তার প্যানেল প্রস্তুতের কাজ চলছে। আচরণবিধির গেজেটও শিগগির প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি নির্বাচন পরিচালনা বিধি ও আইন সংশোধনের কিছু সুপারিশ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
আগামী সপ্তাহে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করবে কমিশন। সহিংসতামুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার জানান, কয়টি ধাপে নির্বাচন হবে, কোন ধাপে কত ইউনিয়নে ভোট হবে এবং সময়সূচি—এসব বিষয় নির্ধারণ করে পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে। এ মাসের মধ্যেই তফসিল চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের মধ্যে তফসিল ঘোষণা এবং নভেম্বরের মধ্যে ভোট সম্পন্ন করার পরিকল্পনার কথা জানান।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশে প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন রয়েছে, যেগুলোর অধিকাংশই নির্বাচনের উপযোগী। এর আগে ২০২১ ও ২০২২ সালে সাত ধাপে সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচন ঘিরে আচরণবিধির গেজেট শিগগির প্রকাশ করা হবে জানিয়ে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনেও কিছু নতুন বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। পোস্টারবিহীন প্রচারণাসহ বেশ কিছু পরিবর্তন আসতে পারে।
তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের জন্য বডি ক্যামেরা ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে দেশে প্রায় ১২ কোটি ৮৮ লাখ ভোটার রয়েছেন এবং প্রায় ৪৫ হাজার ভোটকেন্দ্র নির্ধারণের কাজ শেষ পর্যায়ে।
নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ায় তা বিবেচনায় রেখে ভোটের সময়সূচি নির্ধারণ করা হচ্ছে। শিক্ষা কার্যক্রমে যেন বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়টিও গুরুত্ব দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে অতীতে সহিংসতার ঘটনা থাকায় এবার বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। নির্দলীয়ভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চায় নির্বাচন কমিশন।
কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনই কমিশনের লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল, প্রশাসন এবং নাগরিকদের সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
Related News
সারাদেশে নির্বাচনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে, তফসিল এ মাসেই
Manual1 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সারাদেশে স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়েRead More
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রচারে নতুন বিধিনিষেধ ইসির
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রচারের ধরন ও পরিধিতে নতুন বিধিনিষেধRead More



Comments are Closed