Main Menu

‘চুড়িহাট্টায় কেমিক্যাল গোডাউন থেকেই আগুন’

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টা মোড়ের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ওয়াহেদ ম্যানশনের দোতলার কেমিক্যাল গোডাউন থেকেই সূত্রপাত হয়েছে, সিলিন্ডার বিস্ফোরণ কিংবা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে নয়- এমনটাই দাবি করা হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে।

মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে তার দফতরে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। তদন্ত কমিটির প্রধান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (অগ্নি) প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী এ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। ২৫ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে মোট ৩১টি সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদে ৫টি এবং দীর্ঘমেয়াদে ২৬টি সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ্য করা হয়েছে, ওয়াহেদ মঞ্জিলের দোতলা ভবনের কেমিক্যাল গোডাউনে কোনো লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে কী ধরনের কেমিক্যালের কারণে এত অল্প সময়ের মধ্যে আগুন এমন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে তা নির্ধারণ করতে পারেনি তদন্ত দল। বিষয়টি পরিষ্কার করতে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি করার বিষয়ে মতামত দেওয়া হয়েছে।

কমিটির বিভিন্ন সুপারিশের মধ্যে রয়েছে- কেমিক্যালসহ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসার লাইসেন্স নতুন করে যেন আর ইস্যু না করা হয়। অবিলম্বে পুরান ঢাকার আবাসিক এলাকার সব ধরনের কেমিক্যাল, প্লাস্টিক, পলিথিন, ব্যাটারি, জুতা, নকল ওষুধ ও প্রসাধন তৈরির কারখানাসহ ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল কারখানা ও গোডাউনের তালিকা তৈরি করা। পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব এসব কারখানা এবং গোডাউনের সংখ্যা ও জনঘনত্ব বিবেচনায় অতি ঝুঁকিপূর্ণ বা স্বল্প ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডে নিহত ও আহত ব্যক্তি ও পরিবারকে সুচিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয় স্বল্পমেয়াদি সুপারিশে। এ ছাড়া পুরান ঢাকার অবৈধ, অননুমোদিত এবং লাইসেন্সবিহীন কারখানার তালিকা করে তাদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনা করতে বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।

দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- জরুরি ভিত্তিতে পুরান ঢাকার আবাসিক এলাকা থেকে কেমিক্যাল কারখানা ও গুদামসহ সব ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ গুদাম বা কারখানা সরিয়ে নেওয়া। পাশাপাশি অগ্নিপ্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন-২০০৩ ও ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অনুযায়ী ভবন নির্মাণ নিশ্চিত করা। রাসায়নিক দ্রব্যের মজুদ, বাজারজাত এবং বিক্রির জন্য যেসব লাইসেন্স দেয়া হয়েছে তাদের কার্যক্রম কঠোরভাবে মনিটর করা।

উল্লেখ্য, গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১১টার দিকে চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদের পেছনের ওয়াহিদ ম্যানসন ভবন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। কেমিক্যাল বিস্ফোরিত হয়ে মুহূর্তেই আগুনের ভয়াবহ লেলিহান পাশের ভবন ও দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। ৩৭টি ইউনিট প্রায় ১৪ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পরের দিন সকালে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ২০০ কর্মী। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের দিনই প্রাণ হারান ৬৭ জন। আহত হোন প্রায় অর্ধশত।

আহতদের মধ্যে গুরুত্বর ৯ জনকে ঢামেকের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়। এনিয়ে দেশের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ এই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭১ জনে।

Share





Related News

Comments are Closed